নৌকা না থাকলে সাতরে কৃষি মালামাল আনা নেওয়া করতে হয়
- আপডেট সময় : ২৮ বার পড়া হয়েছে
‘ একজনের নৌকা আছে সেতো সবসময় নৌকা দেয়না এই এলাকার সবারই ভাঙা সেতুর অপর প্রান্তে কৃষি জমি রয়েছে তাই চাষাবাদের বিভিন্ন কৃষি সামগ্রী সাঁতার কেটে ঐপাড়ে যেতে হয় মহিলা পুরুষ সবাইকে ‘ এভাবেই নিজের অভিব্যাক্তি প্রকাশ করেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাউলজানি এলাকার গৃহিণী মর্জিনা বেগম।
গতকাল সরজমিনে গেলে কয়েকশো লোকের পারাপারের ভেঙে যাওয়া বাঁশের সেতু পাশে কাজ করতে দেখা যায় কয়েকজনকে। তারা জানান এখান দিয়ে স্কুল কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ চলাচল করে বিশেষ করে যারা কৃষি কাজ করে তাদের প্রায় সবারই নদীর ওপারে জমিজমা থাকায় চাষাবাদের জন্য যেতে হয়। এতোদিন বাঁশের একটা সেতু থাকায় সবাই সেটা ব্যাবহার করতো এখন এটা পুরোপুরি ভেঙে যাওয়ায় চলাচল সম্ভব হচ্ছে না। ছাত্র ছাত্রীরা ঘুরে অন্য পথ ব্যাবহার করলেও অধিকাংশ কৃষক কৃষাণী সাতরে পার হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুমে পানি বেড়ে গেলে দুর্ভোগ আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। অনেক সময় জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নিতে দেরি হয়। শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত স্কুলে যেতে সমস্যায় পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সেলিম শেখ বলেন, “আমরা অনেক দিন ধরে কষ্ট করে নদী পারাপার হচ্ছি। শুকনো মৌসুমে কোনোভাবে চলা যায়, কিন্তু বর্ষা এলেই চরম ভোগান্তি শুরু হয়। একটি ব্রিজ হলে এই গ্রামের কয়েকশত মানুষের দুর্ভোগ দূর হত। কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।”
স্থানীয় কৃষক হাফিজুল মোল্লা বলেন, “এখানে একটি সেতু আমাদের জন্য খুবই প্রয়োজন। প্রতিদিন আনুমানিক ৩০০ থেকে ৪০০ মানুষ এখান দিয়ে যাতায়াত করেন। সেতু না থাকায় অনেক সময় আমাদের বিকল্প পথ দিয়ে ঘুরে যেতে হয়, ফলে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়। এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলে মানুষের সময় ও অর্থ-দুই-ই সাশ্রয় হবে, পাশাপাশি যাতায়াতও অনেক সহজ ও নিরাপদ হবে।”
তিনি সরকারের কাছে দ্রুত এ স্থানে একটি সেতু বা নিরাপদ সাঁকো নির্মাণের দাবি জানান, যাতে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হয়। স্কুল পড়োয়া লামিম ব্রাক স্কুল থেকে ফিরছিল সে জানায়, এখন অনেকটা পথ ঘুরে তাকে স্কুলে যেতে হয়।
উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) ফয়সাল জাহাঙ্গীর স্বপ্নীল বলেন, “স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আপাতত সেখানে একটি অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ওই স্থানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব পাঠানো হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, মানুষের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত একটি স্থায়ী ব্রিজ অথবা অন্তত অস্থায়ী নিরাপদ সাঁকো নির্মাণ করা হোক। এতে কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারের অবসান ঘটবে।














