ঢাকা ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬

পাওনা টাকা চাওয়ায় টাকা আত্মসাতের মামলা

সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী) প্রতনিধি
  • আপডেট সময় : ১০৬ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে পাওনা টাকা দাবি করায় এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিএনপি পরিবারে সদস্য হওয়ায় পতিত আওয়ামী সরকারের আমলে পরিকল্পিত ভাবে এই মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি বিবাদি পক্ষের।
উপজেলার চরজুবলী মধ্যপুকুরের উত্তর কচ্ছপিয়া এলাকার মোঃ ছালেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে দেড় কোটি টাকা পাওনার দাবিতে ২০২০ সালে মামলা করেন একই এলাকার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।
জানা যায়, এস.এস কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী ছালেহ উদ্দিন পল্টন তৈরীর জন্য একই এলাকার জাহাঙ্গীরের সাথে চুক্তি করেন। এসময় পল্টন বাবদ ৩২ লাখ টাকা দেওয়া হয় জাহাঙ্গীরকে। টাকা নিয়ে কাজ শেষ না করে নয়ছয় করতে শুরু করেন। পরে সেই টাকার জন্য চাপ দিলে আওয়ামী রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দেড় কোটি টাকার প্রতারণার মামলা দেওয়া হয়েছে ভুক্তভোগী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।
এস.এস কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী ছালেহ উদ্দিন জানান, তারা পারিবারিক ভাবে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। গত সরকারের আমলে স্থানীয় আওয়ামী নেতা জাহাঙ্গীরের সাথে ব্যবসা করতেন। পল্টন তৈরীর জন্য জাহাঙ্গীরকে ৩২ লাখ টাকা দেওয়া হলে প্রায় ১০ লাখ টাকার কাজ করে বাকি টাকা আত্মসাৎ করে। পরে টাকার জন্য চাপ দিলে নানা ভাবে হুমকি-ধমকি এ প্রশাসনিক ভাবে হয়রানি করা হয় তাকে। এক পর্যায়ে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের মিথ্যা মামলা দেওয়া হয় তার বিরুদ্ধে। পতিত সরকারের শাসনামলে তারেক রহমানের মামলার বাদি এ্যডভোকেট ওমর ফারুকের যোগসাজশে এই মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। পিবিআই তদন্তে মামলাটি মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী ঠিকাদারের। এই মামলার বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারী) মামলার বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে অপরাধ দমনে মানবাধিকার সংস্থার কর্মীরা। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে মামলাটি উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে নানা প্রমান পায় সংগঠনটির জেলা তদন্ত কর্মকর্তা মাসুম বিল্লাহ। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, মামলার বাদি জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে এলাকায় প্রতারনার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের নানা অভিযোগ রয়েছে। বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানা যায়। এছাড়া স্থানীয় উত্তর কচ্ছপিয়া মসজিদের উন্নয়নের নামে ৪লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে বলেও জানান গ্রামবাসী।
এবিষয়ে জানতে জাহাঙ্গীরের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনের নাম্বারটিও বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারে সদস্যরা জানান আওয়ামী সরকারের পতনের পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন জাহাঙ্গীর।
তবে তার বাবা ছেরাজল হক জানান, কোন ব্যক্তির সাথে তার ছেলে জাহাঙ্গীরের দেনাপাওনার বিষয়ে কিছুই জানেন না। লোকমুখে শুনেছেন এলাকার ছালেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে তার ছেলে জাহাঙ্গীর দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা করেছে। তবে ছেলে জাহাঙ্গীর এই বিষয়ে তাকে কখনো কিছুই জানায়নি বলে দাবি ছেরাজল হকের।
এদিকে স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের পতনের পর পলাতক থাকলেও জাহাঙ্গীরের মামলায় সামাজিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীর। তিনি এই মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

পাওনা টাকা চাওয়ায় টাকা আত্মসাতের মামলা

আপডেট সময় :

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে পাওনা টাকা দাবি করায় এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিএনপি পরিবারে সদস্য হওয়ায় পতিত আওয়ামী সরকারের আমলে পরিকল্পিত ভাবে এই মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি বিবাদি পক্ষের।
উপজেলার চরজুবলী মধ্যপুকুরের উত্তর কচ্ছপিয়া এলাকার মোঃ ছালেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে দেড় কোটি টাকা পাওনার দাবিতে ২০২০ সালে মামলা করেন একই এলাকার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।
জানা যায়, এস.এস কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী ছালেহ উদ্দিন পল্টন তৈরীর জন্য একই এলাকার জাহাঙ্গীরের সাথে চুক্তি করেন। এসময় পল্টন বাবদ ৩২ লাখ টাকা দেওয়া হয় জাহাঙ্গীরকে। টাকা নিয়ে কাজ শেষ না করে নয়ছয় করতে শুরু করেন। পরে সেই টাকার জন্য চাপ দিলে আওয়ামী রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দেড় কোটি টাকার প্রতারণার মামলা দেওয়া হয়েছে ভুক্তভোগী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।
এস.এস কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী ছালেহ উদ্দিন জানান, তারা পারিবারিক ভাবে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। গত সরকারের আমলে স্থানীয় আওয়ামী নেতা জাহাঙ্গীরের সাথে ব্যবসা করতেন। পল্টন তৈরীর জন্য জাহাঙ্গীরকে ৩২ লাখ টাকা দেওয়া হলে প্রায় ১০ লাখ টাকার কাজ করে বাকি টাকা আত্মসাৎ করে। পরে টাকার জন্য চাপ দিলে নানা ভাবে হুমকি-ধমকি এ প্রশাসনিক ভাবে হয়রানি করা হয় তাকে। এক পর্যায়ে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের মিথ্যা মামলা দেওয়া হয় তার বিরুদ্ধে। পতিত সরকারের শাসনামলে তারেক রহমানের মামলার বাদি এ্যডভোকেট ওমর ফারুকের যোগসাজশে এই মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। পিবিআই তদন্তে মামলাটি মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী ঠিকাদারের। এই মামলার বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারী) মামলার বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে অপরাধ দমনে মানবাধিকার সংস্থার কর্মীরা। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে মামলাটি উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে নানা প্রমান পায় সংগঠনটির জেলা তদন্ত কর্মকর্তা মাসুম বিল্লাহ। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, মামলার বাদি জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে এলাকায় প্রতারনার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের নানা অভিযোগ রয়েছে। বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানা যায়। এছাড়া স্থানীয় উত্তর কচ্ছপিয়া মসজিদের উন্নয়নের নামে ৪লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে বলেও জানান গ্রামবাসী।
এবিষয়ে জানতে জাহাঙ্গীরের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনের নাম্বারটিও বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারে সদস্যরা জানান আওয়ামী সরকারের পতনের পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন জাহাঙ্গীর।
তবে তার বাবা ছেরাজল হক জানান, কোন ব্যক্তির সাথে তার ছেলে জাহাঙ্গীরের দেনাপাওনার বিষয়ে কিছুই জানেন না। লোকমুখে শুনেছেন এলাকার ছালেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে তার ছেলে জাহাঙ্গীর দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা করেছে। তবে ছেলে জাহাঙ্গীর এই বিষয়ে তাকে কখনো কিছুই জানায়নি বলে দাবি ছেরাজল হকের।
এদিকে স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের পতনের পর পলাতক থাকলেও জাহাঙ্গীরের মামলায় সামাজিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীর। তিনি এই মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।