পেঁয়াজের সাদা ফুলে নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন গোয়ালন্দের চাষিরা
- আপডেট সময় : ১৬ বার পড়া হয়েছে
পেঁয়াজের সাদা ফুল শুকিয়ে বের হয় কালো বীজ। যার বাজারদর আকাশ ছোঁয়া। তাই একে বলা হয়, ‘কালো সোনা’। পেঁয়াজের এই বীজ উৎপাদন করে লাভের স্বপ্ন দেখছেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা হুমায়ুন আহমেদ।
জেলার শ্রেষ্ঠ কৃষক হওয়া সহ কৃষি ক্ষেত্রে অনেক তরুণ কৃষকের আদর্শ এখন তিনি। যখন যেখানে হাত দিয়েছেন সফল হয়েছেন ধান, সবজি সহ বিভিন্ন ধরনের আবাদে। এবার তিনি প্রায় চল্লিশ শতাংশ জমিতে চাষ করেছেন ‘সাদা সোনা ‘ পেয়াজের এই বীজ। বিদেশি উন্নত জাতের এই পেয়াজের দানা থেকে উৎপাদিত চারায় বিঘায় (৩৩ শতাংশ) ১২০/১৫০ শত মন পেয়াজ উৎপাদের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন তিনি।
চলতি মৌসুমে আবহাওয়া বেশ অনুকূলে থাকায় পেঁয়াজ বীজের বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন মাঠে বাতাসে দোল খাচ্ছে কালো সোনার সাদা ফুল। আর এই সাদা ফুলের কদমেই লুকিয়ে রয়েছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন। কালো সোনা খ্যাত পেঁয়াজ বীজ। তার উৎপাদন পদ্ধতি উপজেলার অন্যান্য কৃষকের থেকে আলাদা।
সরজমিনে উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের তোরাপ শেখের পাড়া গিয়ে দেখাযায়, প্রতি তিন চার সারি জাল দিয়ে আলাদা করা হয়েছে উপরের জালের মধ্যে দিয়ে দেওয়া। তিনি জানান, ঝড় বৃষ্টিতে যাতে গাছ পরে না যায় সেজন্য এই ব্যাবস্থা বলে জানান তিনি। পদ্ম পাড়ের এলাকা হওয়ায় এখানে ঝড় বৃষ্টি তুলনামূলক ভাবে একটু বেশি। এগুলো নিচে পড়ে গেলে সমস্যা তাই এই ব্যাবস্থা বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশে পেঁয়াজ উৎপাদনে তৃতীয়স্থানে রাজবাড়ী জেলার অবস্থান। দেশে উৎপাদিত মোট পেঁয়াজের ১৪ শতাংশ উৎপাদন হয় রাজবাড়ীতে। এ জেলায় পেঁয়াজ আবাদের পাশাপাশি কদম পেঁয়াজ বীজের আবাদও হয়ে থাকে প্রচুর পরিমাণে।
পেঁয়াজ আবাদে যে পরিমাণ বীজ প্রয়োজন তার অধিকাংশ বীজ জেলাতেই উৎপাদিত হয়ে থাকে। উৎপাদিত এসব বীজ জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হয়। বেশি দাম হওয়ায় পেঁয়াজের এ বীজকে চাষি ও কৃষি অধিদপ্তর ‘কালো সোনা’ বলে ডাকেন।
চাষিরা বলছেন, আবহাওয়া ভালো হলে খরচ বাদে এই পেয়াজের বীজ চাষে লাভ হয় দ্বিগুণেরও বেশি, তাই এগুলো ‘কালো সোনা’ নামে খ্যাতি পেয়েছে। তাই কৃষকরা কালো সোনা’ চাষে স্বপ্ন দেখছেন। এ বীজ আবাদ করে চাষিরা অন্যান্য ফসলের চাইতে অধিক পরিমাণে লাভবান হয়ে থাকেন।
একবিঘা জমি চাষ করতে খরচ দেড় লক্ষ থেকে এক লক্ষ সত্তর হাজার টাকা। বিক্রি প্রায় সাত থেকে দশ লক্ষ টাকা। তবে বিদেশি উন্নত জাতের এই পেয়াজের দানা থেকে উৎপাদিত পেয়াজের ফলন ও দেশি পেয়াজের দ্বিগুণ হওয়ায় উপজেলার চাষিদের মধ্যে এই পেয়াজের দানা তিনি ছড়িয়ে দিতে চান বলে জানান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রায়হানুল হায়দার বলেন, গোয়ালন্দ উপজেলায় এবার সাত হেক্টর জমিতে পেয়াজের দানা চাষ হয়েছে এবং কৃষকদের মাঝে প্রণাদনার বীজ দেওয়া হয়েছে প্রায় ১০ বিঘা জমির। হুমায়ুন আগে থেকেই উপজেলার একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা এবং সে ভালো বীজ উৎপাদন করে। কৃষি কাজে সে একজন সফল চাষি।
















