জ্বালানি তেলের সংকটে শরীয়তপুর
প্রভাব পড়েছে কৃষি, মৎস্য ও শিল্প প্রতিষ্ঠান ব্যবসা বানিজ্যে
- আপডেট সময় : ২৪ বার পড়া হয়েছে
জ্বালানি তেলের সংকটে ১ মাস ধরে ভোগান্তিতে রয়েছে শরীয়তপুরের মানুস।ভোগান্তি নিরসন না হয়ে বরং দিন দিন বেড়েই চলছে। ইতোমধ্যে কৃসি উৎপাদন, শিল্প প্রতিষ্ঠান, ইটভাটার উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। কর্ম হারিয়ে বাড়ছে বেকারত্ব। বেকার হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মৎস্য জীবী শ্রমজীবী মানুষ।
সরজমিনে দেকা যায়, সারি বেধে শত শত নৌকা, শরীয়তপুরের পদ্মা নদীর তীরে নোঙ্গর করে রাখা আছে। দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে সারিবাধা এসব নৌকার লাইন। জ্বালানি তেল ডিজেল সংকটের কারনে চলছে না ইঞ্জিন। ঘুরছে না পাখা। ফলে মাছ আহরনে ভাসছে না জেলেদের নৌকা।
দুই একটা নৌকা যা ভাসছে নদীতে তাতে তারা দেড়গুন দামে কিনেছেন ডিজেল।
নদীর তীরবর্তি তেলের দোকানে প্রকাশ্যে পাওয়া যাচ্ছে না তেল। পদ্মা নদীর তীরবর্তি তেল বিক্রির দোকানে তেল সরবরাহ বন্ধ। তবে কিছু দোকানের মজুদ করা তেল বা বিশেষ ভাবে সংগ্রহ করা তেল বিক্রি হচ্ছে চওড়া দামে। আর চওড়া দামে তেল কিনে মাছ ধরার খচর পুষিয়ে উঠতে না পারায় মাছ ধরা থেকে বিরত রয়েছে নোঙ্গর করা নৌকার জেলেরা।
ফলে সাত থেকে ১০ দিন ধরে বেকার হয়ে অলস সময় পার করছেন শরীয়তপুরের পদ্মা নদীর জেলেরা। নৌকায় শুয়ে বসে গল্প গুজব করে লুডু টাস খেলে সময় পাড় করছেন তারা। জেলেরা জানায়, তেল সংকটের কারনে তারা বেকার হয়ে পড়েছেন। তাদের সংসারে অভাব অনটন দেখা দিয়েছে।
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের সামছু মুন্সী জানান, আজ সাতদিন ধইরাতো নৌকা জাল লইয়া সুরেশ্বর মাছ ঘাটে পদ্মার কিনারে আছি। সুরেশ্বর এলাকায় যেই দোকানগুলাইতে ডিজেল পাইতাম। অহন হেই দোকানগুলাইতে ডিজেল তেল নাই। ডিজেল দিয়াইতো নৌকার ইঞ্জিলডা চলে। ডিজেল নাই ইঞ্জিন বন্ধ। অহন হেনে বেবাকে মিল্লাই বেকার বইয়া রইছি। বইযা বইয়া কোনরকম ডাল ভাত খাইতাছি। বাড়ীতেতো কোন খরচ দিতি পারি না। বৌ বেডি পোলাপাইন হেরাও কোনরকম ফেন ভাত খাইয়া বাইচা রইছে। এমন চলতে থাকলেতো মরন ছাড়া উপাই৷ নাই কাকা। চাঁদপুরের মতলবের জেলে কামাল হোসেন জানান, অহনতো চাদপুর আর শরীয়তপুরের পদ্মার অভয় আশ্রমে জাল ফালানো নিষেধ। শরীযতপুরের অভয়আশ্রমের বািরে জাল দিয়া মাছ ধরনের জন্য ১০ দিন আগে আইছি। আমগারাতো অহন মরনের জোগার। ৮দিন ধিরা বইয়া রইছি।তেল নাই ফিরোতও যাইতে পারি না। টাহা পয়সা সব শেষ হইতাছে। নড়িয়া উপজেলার চরআত্রার জেলে আব্দুর গফুর ও আব্দুর রশিদ জানান, নৌকাডা ভাসাইলে সারা দিনে ৮০ রিটার তেল লাগে। আগে তেল কিনছি ১০০ টাকায় ১ রিটার। অহন হেই তেলের দাম ১শ ৬০ টাকা। তার পরেও পাওয়া যায় না। সরকারতো আমাগো জন্য কিছু করে না। পোলাপানের লেখাপড়া, সংসার খরচ কিছুই জোগাইতে পারি না।কিস্তির টাকার লইগ্যা স্যারেরা ডেলি বাড়ি যায়। অহন কেমন করুম আমরা। যেমন দেখতাছি যদি তেলের দাম না কমে আর তেল দোকানে না পাওয়া যায তাহলেতো আমরা মাছ ধরতে আর পারুম না।
সুরেশ্বর মাছ ঘাটের আড়তদার মোকলেছ মোল্লা জানায়, সুরেশ্বর আড়তে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার মাছ বিক্রি হইত। জেলেরা মাছ ধরতে পারছে না। সুরেশ্বর ঘাটের আড়তে মাছ নাই। আড়তদাররা জেলেদের দাদন দিয়েছে। মাছ না ধরতে না পারায় আড়তে মাছ বিক্রি কমে যাওয়ায় লোকসানে পড়েছে আড়তদাররাও। শরীয়তপুরে নিবন্ধনকৃত নিবন্ধন ছাড়া ত্রিশ হাজারের বেশি জেলে রয়েছে এদের জীবন যাপন বর্তমানে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। যদি তেল সিন্ডিকেট করে সংকট সৃষ্টি করে থাকে তাদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেক। আর যদি রাষ্ট্রিয়ভাবে সংকট থাকে তাহলে সংকট নিরশনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ী আড়ৎদারদের পক্ষে।
এদিকে শরীয়তপুরের ১৮টি তেলের ডিলারসীপ দোকানে সরবরাহ নেই কোন ধরনের জ্বালানি তেল। ৬টি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলেরও সংকট রয়েছে। চাহিদার তুলনায় অর্ধেক তেল সরবরাহ করছে সংশিল্টি মেঘনা তেলের ডিপু। তেল আসলেই ভির জমে ফিলিং স্টেশনে মটর সাইকেল, বাস ট্রাকসহ বিভিন্ন তেল নির্ভর যাত্রীবাহি ও মালবাহি পরিবহন। দীর্ঘ সময লাইনে দাড়িয়ে মটর সাইকেল পাচ্ছে ৩শত টাকার পেট্রোল। প্রাইভেট কার পাচ্ছে এক হাজার টাকার পেট্রোল। আর যাত্রীবাহি বাস পাচ্ছে ৩ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার টাকার ডিজেল। গাড়ি চালক সোলাইমান জানান, শরীয়তপুর থেকে ঢাকা যাতায়াতে কমপক্ষে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার ডিজেল প্রয়োজন একটি বাসের। কিন্তু আমরা পাচ্ছি ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকার তেল। এতে করে যাওয়ার সময় গাড়ি নিয়ে ফিলিং স্টেশনে ঢুকতে হয়। আবার আসার সময়ও তেলের জন্য ফিলিঙ স্টেশনে ঢুকতে হচ্ছে। এতে করে আমাদের সময় আপচয় হচ্ছে ও ভোগান্তি হচ্ছে। ডগ্রী চোকদার ফিলিং স্টেশনে মাল বোঝাই ট্রাক নিয়ে তেল নিতে আসা ড্রাইভার আনিস উদ্দিন বলেন শরীয়তপুরের রসুন নিয়ে খুলনা যাব। কিন্তু ামার যতটুকু তেল দরকার তা পাচ্ছি না। আমাকে পাম্প থেকে ১ হাজার টাকার ডিজেল দিয়েছে। ামাকে সামনের কোন ফিলিং স্টেশনে আবার তেলের জন্য লাইন দিতে হবে। বাইকাররাতো রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কয়েকজন বাইকার বরেন হাতের কাছে যে সব দোকানে পেট্রোল পাওয়াযেত সেকানে কোন তের নেই। তাই বাধ্য হয়েই আমাদের তেলের জন্য পাম্পে আসতে হচ্ছে। এসে তেল পাচ্ছি ২ শত টাকার। আমাকে আসতে যেতে তার অর্দেকের বেশি শেষ হয়ে যাচ্ছে। তাহলে আমরাতো চরম ক্ষতির মধ্যে আছি। আমাদের দৈনন্দিন কাজের ব্যঘাত ঘটছে। কোন কাজ ঠিকমত করতে পারছি না। পাম্পে তেলের পিছনে ছুটবো নাকি কাজ করবো? দ্রুত সরকার এর ব্যবস্থা নিতে হবে। যদি সরকার বলে তেলের সংকট নেই তাহরে আমাদের ভোগাচ্ছে কেন? কোন সিন্ডিকেটের বেড়াজালে সরকার ফেসে গেল? এমন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তারা।
শরীয়তপুরে চাহিদার তুলনায় অর্ধেকের কম পাওয়া যাচ্ছে জ্বালানী তেল ডিজেল পেট্রোল ও অকটেন। ফলে সড়ক পথের পরিবহন সচল রাখতে গিয়ে যে তেল পাওয়া যাচ্ছে তা শেষ হচ্ছে সড়ক পরিবহন খাতেই। তেল পাচ্ছে না কৃষিতে পানি সেচ কাজে, জলপথে নৌযান ও মাছ ধরার নৌকা বা টলার চালাতে । এছাড়াও ইট ভাটার ইট উৎপাদন বন্ধ প্রায় ও সরবরাহে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ডিজেল সংকটে। ইট ভাটার মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল জলিল খান বলেন, ঝিকঝক ভাটা চালাতে ডিজেল লাগে। মেশিন চালিয়ে বাতাস দিতে হয়। মাটি তৈরীর মেশিন চালাতেও ডিজেল লাগে। ডিজেলতো বর্তমানে দিচ্ছে না। এতে করে ভাটাগুলো বন্ধ হয়ে যাবে । হাজার হাজার শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়বে। মাহিদ্র ট্রলি দিয়ে বিক্রিত ইট বিক্রেতার প্রয়োজনীয় স্থানে সরবরাহ করে। তেলের অভাবে এগুলো চলতে পারছে না।
তবে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে তেল সংকট নিরোসন দ্রুত হবে এমন আশা করেছেন, বাংলাদেশ দক্ষিন অঞ্চলের জেলাগুরোর ফিলিং স্টেশন মালিক ও জালানি তেল ডিলারসিপ মালিক সমিতির সহসভাপতি শরীযতপুর গ্রোরী ফিলিং স্টেশনের অংশিদার স্বত্ত্বাধীকারী ফারুক হোসেন তালুকদার।
শরীয়তপুরে প্রতিদিন ২ লক্ষ লিটার পেট্রোল ও অকটেন এবং ৩ লক্ষ লিটারের অধিক ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। যা জেলার ৬টি ফিলিং স্টেশন, ১৮টি পাইকারি ডিলারের মাধ্যমে শতাধিক খুচরা তেল বিক্রির দোকানের মাধ্যমে সর্ত্র সর্বরাহ করা হতো। বর্তমানে তেল সংকটের ঘটনায় মতাদিক খুচরা দোকান ও ১৮টি ডিলারসিপ দোকানে তেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে। ৬টি ফিলিং স্টেমন তেল সরবরাহ করছে যা চাহিদার তুলনায় তিন ভাগের একভাগ। এর ফলে কৃষি জমিতে দান উৎপাদনে সেচের কাজে বাধাগ্রস্থ হয়ে উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার আশংকা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
এদিকে তেলের ফিলিং স্টেশনগুলোতে যাতে কোন অনিয়ম দুর্নীতি না হয় সেই লক্ষ্যে সরকারের নির্দেশমতো টেক অফিসার নিয়োগ এবং পুলিশ মোতায়েন রেখেছে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসন।













