ঢাকা ০৯:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন

শ্রমিক থেকে গডফাদার, বিএনপির মান্নান এখন সংসদ-প্রার্থী

এ এইচ ইমরান 
  • আপডেট সময় : ৬২৪ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের ক্ষেত্রে দলীয় টিকিট কেনা হয়নি বরং তা ‘দখল’ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে উঠে আসা চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসের অভিযোগ শুধু স্থানীয় রাজনীতির নয়—এটি একটি ‘ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ’ থেকে রাজনৈতিক ক্ষমতায় উন্নীত হওয়ার গল্প। রাজনীতির ‘সন্ত্রাসীকরণ’ সোনারগাঁয়ে প্রার্থীর ‘অপরাধ সাম্রাজ্য’ ও গণতান্ত্রিক বিপর্যয়ের শঙ্কায় পরিনত হয়েছে। সরজমিন তদন্ত, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও অর্থনৈতিক তথ্য পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, এই মনোনয়ন শুধু ব্যক্তিগত বিতর্ক নয়, বরং বাংলাদেশের স্থানীয় রাজনীতিতে ‘অপরাধীকরণ’ (Criminalization) প্রক্রিয়ার একটি চরম উদাহরণ। যেখানে একজন শিল্পশ্রমিক থেকে ‘ভূমি সম্রাট’ এবং গডফাদার থেকে ‘সংসদ সদস্য প্রার্থী’ হওয়ার গল্পে লুকিয়ে আছে রাজনৈতিক দলগুলোর নৈতিক অবক্ষয় ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা।

মনোনয়নের আড়ালে হতাশা:
বিএনপি ঘোষিত মনোনয়ন তালিকায় সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নানের নাম আসার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। দলের স্থানীয় নেতাদের একাংশের দাবি, “মান্নান বিএনপির পোশাকে বিগত দিনে আওয়ামী লীগের ‘বিচ্ছিন্ন অংশ’ ছিলেন। এখন তিনি নির্বাচনী টিকিট পেয়ে পুরো এলাকায় একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন।” বঞ্চিত মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতিমধ্যে নিজেদের পক্ষে সমর্থন আদায়ের জন্য গোপন বৈঠক ও সমাবেশ শুরু করেছেন। তবে মান্নানের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুধু দলীয় কোন্দলের নয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ৫ আগস্টের পর থেকে সোনারগাঁও পরিণত হয়েছে ‘অরাজকতার নগরীতে’ যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিতর্কিত এই প্রার্থী।

শ্রমিক থেকে গডফাদার:
মান্নানের এই উত্থান বিগত তিন দশকের। স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৯০- সালের দিকে তিনি সোনারগাঁওয়ের একটি বেসরকারি কারখানায় সাধারণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তবে তার ‘ভাগ্য’ বদলে যায় যখন তিনি বসুন্ধরা শিল্প গ্রুপের সাথে ‘সখ্যতা’ গড়ে তোলেন। এই ‘সখ্যতা’ কী—তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানান গুঞ্জন রয়েছে। কিন্তু ২০০০ সালের দিকে তিনি সোনারগাঁওয়ে শিল্পায়নের নামে শুরু করেন’জমি দখল। এরপর তিনি তার বাহিনী নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেন একের পর এক জমি দখলে। ঐসময় তিনি প্রতাপের চর, ঝাউচরে শত শত বিঘা জমি ‘দখল’ করে রাতারাতি কোটি টাকার মালিক বনে যান। তবে শুধু অর্থই নয়, তিনি বুঝেছিলেন—বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ‘দখলদ্বারিত্ব টিকিয়ে রাখতে হয় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়। তাই ২০১০-এর সালের দিকে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং নিজস্ব ‘ক্যাডার বাহিনী’ গড়ে তোলেন। নিজেই বনে যান গডফাদার। এরপর আর তাকে পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি। তবে তার সবচেয়ে বড় সফলতা—অপরাধ ও রাজনীতির ‘হাইব্রিড মডেল’। তিনি বিএনপি নেতা হয়েও আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে সম্পর্ক রেখে ‘বাধাহীন ভাবে গত ১৬ বছর ব্যবসা’ চালিয়ে গেছেন। কিন্তু ৫ আগস্টের পর তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের ব্যবহার করে একের পর এক অনিয়ম, অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। শিল্প নগরী ও ইকোনমিক জোনের সকল লুটপাট, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, টেন্ডারবাজি, ওয়েস্টেজ বাণিজ্য, পরিবহন চাঁদাবাজি, ফুটপাথ, বাস-ট্রাক সিএনজি অটোস্ট্যান্ড, নৌ-চাঁদাবাজি, বালুমহাল, নদী ভরাট, সরকারি প্রতিষ্ঠান, হাট বাজার এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করে মান্নান বাহিনী। এ কাজ বতর্মানেও চালু রয়েছে। এতে প্রতিমাসেই শত কোটি টাকা মান্নানের পকেটে ঢুকছে। দিন দিন মান্নানের দখলবাজি ও চাঁদাবাজিতে অসহায় হয়ে পড়েছে ওই এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। মান্নান ৫ অগাস্টের পর
তার ছেলে সজীবকে ‘অপারেশন ম্যানেজার’ হিসেবে ব্যবহার করেন। সজীব এখন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক—কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি ‘মান্নান সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী’ হিসেবে কাজ করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. তানভীর আহমেদের মতে, “মান্নানের ক্ষেত্রে আমরা দেখি ‘অপরাধ-রাজনীতি নেক্সাস’ (Crime-Politics Nexus) এর ক্লাসিক উদাহরণ। তিনি প্রথমে অর্থশক্তি, তারপর বাহিনী শক্তি এবং সবশেষে রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলেন—যা একটি ‘মাফিয়া স্টেট’ মডেল।

চাঁদা বাণিজ্যের ‘ক্যালকুলেটর:
মোগরাপাড়া চৌরাস্তা—সোনারগাঁওয়ের প্রাণকেন্দ্র। এখানে চাঁদাবাজির যে ‘সূক্ষ্ম ব্যবস্থা’ গড়ে তোলা হয়েছে, তা শুধু ভয় দেখানো নয়, একটি সুসংগত আর্থিক মডেল।
বাসস্ট্যান্ডের আধা কিলোমিটার রাস্তার দু’পাশে ৭০০-এর বেশি ফুটপাতের দোকান রয়েছে। প্রতিটি দোকান থেকে দৈনিক ৩৫০ টাকা হারে মাসে ৭৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। ১০০ টি বাস কাউন্টার থেকে প্রতিদিন ৫০,০০০ টাকা— যা মাসে ১৫ লক্ষ টাকা। সিএনজি ও অটোরিকশা থেকে দৈনিক অন্তত ২০,০০০ টাকা—যা মাসে ৬ লক্ষ টাকা চাঁদা তোলে। শুধু এই চারটি খাত থেকেই মান্নান বাহিনীর মাসিক আয় প্রায় কোটি টাকার উপরে। বাদ যায় না ট্রাক ও পিকআপ স্ট্যান্ডও। সেখান থেকে গাড়িপ্রতি ১০০ থেকে ২০০ টাকা চাঁদা নেয়া হয়। মোগরাপাড়া বাসস্ট্যান্ডের উত্তর পাশে সড়ক ও জনপদের প্রায় ৪ একর জমি আছে। ওই জমি দখল করে দেড় শতাধিক দোকান বসানো হয়েছে। সেখানে দোকানপ্রতি মাসে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া তোলা হচ্ছে। আগে এই দোকানগুলোর ভাড়া তুলতো সাবেক এমপি’র লোকজন। এখন তাদের সঙ্গে মান্নানের লোকজন মিলে ভাগবাটোয়ারা করে ভাড়া তুলছেন। স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুধুমাত্র মোগরাপাড়া চৌরাস্তা থেকেই দৈনিক ১০ লাখ টাকা চাঁদা তোলা হয়। এই টাকার সিংহভাগ চলে যায় মান্নানের কাছে। তবে স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, “এই হিসাব শুধু মোগরাপাড়ার। শিল্পনগরীর বর্জ্য ব্যবসা, টেন্ডার, পরিবহন, নৌপথে চাঁদাবাজি, নদী ভরাট, বালুমহালসহ মোট আয় মাসে শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।”
অভিযোগ রয়েছে, এই চাঁদাবাজির টাকা সংগ্রহের দায়িত্বে রয়েছেন মান্নানের সহযোগী আতাউর রহমান। গত ২৯ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করলেও তিনি জামিনে মুক্তি পান এবং পুনরায় কার্যক্রম শুরু করেন। এমনকি গ্রেপ্তারের পরও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি বলে স্থানীয়রা জানান।

সরকারি সম্পদ দখলের ‘মাস্টারপ্ল্যান:
তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ—মেঘনা সেতুর টোল প্লাজা দখল। ৫ আগস্ট দুপুরে টোল প্লাজার কর্মকর্তারা পালিয়ে গেলে বিকালেই মান্নান বাহিনী নিয়ন্ত্রণ নেয়। নারায়ণগঞ্জ সওজের আগস্ট মাসের টোল আদায়ের রেকর্ডে দেখা যায় ৫-১১ আগস্ট পর্যন্ত সাত দিনের কোনো তথ্য নেই—যেখানে অন্য দিনগুলোর পূর্ণাঙ্গ হিসাব রয়েছে। টোল প্লাজায় কর্মরত এক কর্মকর্তা বলেন, “বিকাল থেকে মান্নানের ছেলে যুবদল নেতা সজীবের লোকজন টোল প্লাজায় বসে টোল আদায় শুরু করে। প্রতিদিন সেতুতে প্রায় ১ কোটি টাকা টোল আদায় হয়। সেই হিসেবে পাঁচ দিনে ৫ কোটি টাকার টোল তোলার এই ঘটনাকে স্থানীয়রা ‘রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ’ হিসেবে দেখছেন। তবে মান্নান এটি অস্বীকার করে বলেছেন, “টোল প্লাজার জমি আমার বাপ-দাদার। তারাই টোল তুলেছে।

শতাধিক বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট:
অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত মান্নানের নেতৃত্বে তার সমর্থকরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শত শত ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও জায়গা জমি দখল এবং ভাঙচুর করে। নেতৃত্ব দেন তার ছেলে সজীব। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য-
সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ রনির টিপুরদী এলাকার কারখানায় অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট। পৌরসভার হাতকোপায় ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল কাশেম মোল্লার বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট। সাদিপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ নেতা সালাউদ্দিন মাসুমের বাড়িতে হামলা। পাকুন্ডা গ্রামে আওয়ামী লীগ নেতা শাদত আলীসহ ১৭টি বাড়িঘর ভাঙচুর। জামপুর ইউনিয়নে পল্লী চিকিৎসক বসুর দোকান ভাঙচুর ও দুটি গরু লুট করা হয়।
জমি ও সম্পত্তি দখল: শুধু মোগরাপাড়ায় নয়, জামপুর, সাদিপুর, পৌরসভায় ‘জোরপূর্বক জমি দখল’ করে বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। ভুক্তভোগী মমতাজ বেগমের ক্ষেত্রে মান্নান দাবি করেন, “আদালতের রায়ে জমি ফেরত পেয়েছি”—কিন্তু স্থানীয় আইনজীবীরা বলছেন, ওই মামলায় ‘বন্দোবস্তি’ ছিল না, ছিল ‘জোরজবরদস্তি’।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, রাজনৈতিক দলের গণতন্ত্রহীনতায় কি এমন মনোনয়ন। তা না হলে বিএনপি কেন এমন বিতর্কিত ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিলো?
দলীয় সূত্রে জানা যায়, মাস্ক ভোট ব্যাংক- মান্নানের ছেলে সজীবের নেতৃত্বে ৮০% নেতাকর্মীকে ‘ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজের দলে ভেড়ানো’—যা ভোটের হিসাবকে ‘শক্তি’ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
অর্থের শক্তি হিসেবে অভিযোগ রয়েছে, মান্নান তার মনোনয়ন নিশ্চিত করতে ঢাকার একটি শিল্প গ্রুপের মাধ্যমে দলে মোটা অঙ্কের ‘অর্থদান করেছেন।
এছাড়া আওয়ামী লীগের ‘বিচ্ছিন্ন অংশ’ এর সমর্থন। স্থানীয় বিএনপি নেতারা দাবি করেন, মান্নান আওয়ামী লীগের কিছু ‘ক্ষমতাচ্যুত’ নেতার সাথে যোগসাজশে কাজ করেন। ফলে তার ‘জয়ের সম্ভাবনা’ বেশি বলে দলকে ভুল বোঝানো হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক সৈয়দ আবুল মকসুদের মতে, “বিএনপি এখনও ‘অর্থ ও বাহিনীনির্ভর’ প্রার্থী বাছাই করে। গেলো ১৫ বছরে দলটি গণতান্ত্রিকভাবে প্রার্থী নির্বাচনের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলেনি। মান্নানের মনোনয়ন তারই প্রমাণ।”
বিশেষজ্ঞদের মতামত: গণতন্ত্রের জন্য হুমকি
বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠানের গবেষক ড. নাসরীন সুলতানা বলেন, “মান্নানের মতো ব্যক্তিদের মনোনয়ন মানে—রাজনৈতিক দলগুলো এখনও ‘অপরাধীদের পুনর্বাসন কেন্দ্র’। এই প্রবণতা যদি না থামে, তাহলে আগামী দশকে আমরা ‘গণতন্ত্রের পরিবর্তে মাফিয়া রাষ্ট্র’ পাবো।”
সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাখাওয়াত হোসেন বলেন, “নির্বাচন কমিশনের উচিত প্রার্থীদের ‘অপরাধ রেকর্ড’ যাচাই করা। কিন্তু আমাদের আইনে এই সুযোগ নেই। ফলে অপরাধীরাও নির্বাচিত হতে পারেন।”
নির্বাচনের আগে সংঘাত:
বিএনপির ভেতরে ‘বিদ্রোহ’ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। বঞ্চিত মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নিজেদের পক্ষে সমর্থন জোগাড় করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই আসনে বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল—কিন্তু মান্নানের মতো প্রার্থীর বিজয় মানে হবে “গণতন্ত্রের পরাজয়”।
এসব বিষয়ে, মান্নান অভিযোগগুলোকে “মিথ্যা ও অপপ্রচার” বলে অস্বীকার করেছেন। তিনি চাঁদাবাজি-দখলবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে এবং নিজের জমি আদালতের রায়ে ফিরে পেয়েছেন বলে দাবি করেন। তিনি টোল প্লাজার টাকা তোলার অভিযোগ অস্বীকার, টোল প্লাজার জমি তার বাপ-দাদার বলে দাবি করেন। তিনি নিজ যোগ্যতায় মনোনয়ন পেয়েছেন বলে জানান।
তবে মান্নান শক্তিশালী সংগঠক হলেও তার বিরুদ্ধে রয়েছে অভিযোগের পাহাড়। এটি যদি নির্বাচনের আগে নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহলে বিএনপির ভাবমূর্তি ও ভোটব্যাংক উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন

শ্রমিক থেকে গডফাদার, বিএনপির মান্নান এখন সংসদ-প্রার্থী

আপডেট সময় :

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের ক্ষেত্রে দলীয় টিকিট কেনা হয়নি বরং তা ‘দখল’ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে উঠে আসা চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসের অভিযোগ শুধু স্থানীয় রাজনীতির নয়—এটি একটি ‘ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ’ থেকে রাজনৈতিক ক্ষমতায় উন্নীত হওয়ার গল্প। রাজনীতির ‘সন্ত্রাসীকরণ’ সোনারগাঁয়ে প্রার্থীর ‘অপরাধ সাম্রাজ্য’ ও গণতান্ত্রিক বিপর্যয়ের শঙ্কায় পরিনত হয়েছে। সরজমিন তদন্ত, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও অর্থনৈতিক তথ্য পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, এই মনোনয়ন শুধু ব্যক্তিগত বিতর্ক নয়, বরং বাংলাদেশের স্থানীয় রাজনীতিতে ‘অপরাধীকরণ’ (Criminalization) প্রক্রিয়ার একটি চরম উদাহরণ। যেখানে একজন শিল্পশ্রমিক থেকে ‘ভূমি সম্রাট’ এবং গডফাদার থেকে ‘সংসদ সদস্য প্রার্থী’ হওয়ার গল্পে লুকিয়ে আছে রাজনৈতিক দলগুলোর নৈতিক অবক্ষয় ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা।

মনোনয়নের আড়ালে হতাশা:
বিএনপি ঘোষিত মনোনয়ন তালিকায় সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নানের নাম আসার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। দলের স্থানীয় নেতাদের একাংশের দাবি, “মান্নান বিএনপির পোশাকে বিগত দিনে আওয়ামী লীগের ‘বিচ্ছিন্ন অংশ’ ছিলেন। এখন তিনি নির্বাচনী টিকিট পেয়ে পুরো এলাকায় একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন।” বঞ্চিত মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতিমধ্যে নিজেদের পক্ষে সমর্থন আদায়ের জন্য গোপন বৈঠক ও সমাবেশ শুরু করেছেন। তবে মান্নানের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুধু দলীয় কোন্দলের নয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ৫ আগস্টের পর থেকে সোনারগাঁও পরিণত হয়েছে ‘অরাজকতার নগরীতে’ যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিতর্কিত এই প্রার্থী।

শ্রমিক থেকে গডফাদার:
মান্নানের এই উত্থান বিগত তিন দশকের। স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৯০- সালের দিকে তিনি সোনারগাঁওয়ের একটি বেসরকারি কারখানায় সাধারণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তবে তার ‘ভাগ্য’ বদলে যায় যখন তিনি বসুন্ধরা শিল্প গ্রুপের সাথে ‘সখ্যতা’ গড়ে তোলেন। এই ‘সখ্যতা’ কী—তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানান গুঞ্জন রয়েছে। কিন্তু ২০০০ সালের দিকে তিনি সোনারগাঁওয়ে শিল্পায়নের নামে শুরু করেন’জমি দখল। এরপর তিনি তার বাহিনী নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেন একের পর এক জমি দখলে। ঐসময় তিনি প্রতাপের চর, ঝাউচরে শত শত বিঘা জমি ‘দখল’ করে রাতারাতি কোটি টাকার মালিক বনে যান। তবে শুধু অর্থই নয়, তিনি বুঝেছিলেন—বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ‘দখলদ্বারিত্ব টিকিয়ে রাখতে হয় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়। তাই ২০১০-এর সালের দিকে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং নিজস্ব ‘ক্যাডার বাহিনী’ গড়ে তোলেন। নিজেই বনে যান গডফাদার। এরপর আর তাকে পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি। তবে তার সবচেয়ে বড় সফলতা—অপরাধ ও রাজনীতির ‘হাইব্রিড মডেল’। তিনি বিএনপি নেতা হয়েও আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে সম্পর্ক রেখে ‘বাধাহীন ভাবে গত ১৬ বছর ব্যবসা’ চালিয়ে গেছেন। কিন্তু ৫ আগস্টের পর তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের ব্যবহার করে একের পর এক অনিয়ম, অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। শিল্প নগরী ও ইকোনমিক জোনের সকল লুটপাট, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, টেন্ডারবাজি, ওয়েস্টেজ বাণিজ্য, পরিবহন চাঁদাবাজি, ফুটপাথ, বাস-ট্রাক সিএনজি অটোস্ট্যান্ড, নৌ-চাঁদাবাজি, বালুমহাল, নদী ভরাট, সরকারি প্রতিষ্ঠান, হাট বাজার এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করে মান্নান বাহিনী। এ কাজ বতর্মানেও চালু রয়েছে। এতে প্রতিমাসেই শত কোটি টাকা মান্নানের পকেটে ঢুকছে। দিন দিন মান্নানের দখলবাজি ও চাঁদাবাজিতে অসহায় হয়ে পড়েছে ওই এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। মান্নান ৫ অগাস্টের পর
তার ছেলে সজীবকে ‘অপারেশন ম্যানেজার’ হিসেবে ব্যবহার করেন। সজীব এখন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক—কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি ‘মান্নান সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী’ হিসেবে কাজ করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. তানভীর আহমেদের মতে, “মান্নানের ক্ষেত্রে আমরা দেখি ‘অপরাধ-রাজনীতি নেক্সাস’ (Crime-Politics Nexus) এর ক্লাসিক উদাহরণ। তিনি প্রথমে অর্থশক্তি, তারপর বাহিনী শক্তি এবং সবশেষে রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলেন—যা একটি ‘মাফিয়া স্টেট’ মডেল।

চাঁদা বাণিজ্যের ‘ক্যালকুলেটর:
মোগরাপাড়া চৌরাস্তা—সোনারগাঁওয়ের প্রাণকেন্দ্র। এখানে চাঁদাবাজির যে ‘সূক্ষ্ম ব্যবস্থা’ গড়ে তোলা হয়েছে, তা শুধু ভয় দেখানো নয়, একটি সুসংগত আর্থিক মডেল।
বাসস্ট্যান্ডের আধা কিলোমিটার রাস্তার দু’পাশে ৭০০-এর বেশি ফুটপাতের দোকান রয়েছে। প্রতিটি দোকান থেকে দৈনিক ৩৫০ টাকা হারে মাসে ৭৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। ১০০ টি বাস কাউন্টার থেকে প্রতিদিন ৫০,০০০ টাকা— যা মাসে ১৫ লক্ষ টাকা। সিএনজি ও অটোরিকশা থেকে দৈনিক অন্তত ২০,০০০ টাকা—যা মাসে ৬ লক্ষ টাকা চাঁদা তোলে। শুধু এই চারটি খাত থেকেই মান্নান বাহিনীর মাসিক আয় প্রায় কোটি টাকার উপরে। বাদ যায় না ট্রাক ও পিকআপ স্ট্যান্ডও। সেখান থেকে গাড়িপ্রতি ১০০ থেকে ২০০ টাকা চাঁদা নেয়া হয়। মোগরাপাড়া বাসস্ট্যান্ডের উত্তর পাশে সড়ক ও জনপদের প্রায় ৪ একর জমি আছে। ওই জমি দখল করে দেড় শতাধিক দোকান বসানো হয়েছে। সেখানে দোকানপ্রতি মাসে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া তোলা হচ্ছে। আগে এই দোকানগুলোর ভাড়া তুলতো সাবেক এমপি’র লোকজন। এখন তাদের সঙ্গে মান্নানের লোকজন মিলে ভাগবাটোয়ারা করে ভাড়া তুলছেন। স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুধুমাত্র মোগরাপাড়া চৌরাস্তা থেকেই দৈনিক ১০ লাখ টাকা চাঁদা তোলা হয়। এই টাকার সিংহভাগ চলে যায় মান্নানের কাছে। তবে স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, “এই হিসাব শুধু মোগরাপাড়ার। শিল্পনগরীর বর্জ্য ব্যবসা, টেন্ডার, পরিবহন, নৌপথে চাঁদাবাজি, নদী ভরাট, বালুমহালসহ মোট আয় মাসে শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।”
অভিযোগ রয়েছে, এই চাঁদাবাজির টাকা সংগ্রহের দায়িত্বে রয়েছেন মান্নানের সহযোগী আতাউর রহমান। গত ২৯ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করলেও তিনি জামিনে মুক্তি পান এবং পুনরায় কার্যক্রম শুরু করেন। এমনকি গ্রেপ্তারের পরও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি বলে স্থানীয়রা জানান।

সরকারি সম্পদ দখলের ‘মাস্টারপ্ল্যান:
তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ—মেঘনা সেতুর টোল প্লাজা দখল। ৫ আগস্ট দুপুরে টোল প্লাজার কর্মকর্তারা পালিয়ে গেলে বিকালেই মান্নান বাহিনী নিয়ন্ত্রণ নেয়। নারায়ণগঞ্জ সওজের আগস্ট মাসের টোল আদায়ের রেকর্ডে দেখা যায় ৫-১১ আগস্ট পর্যন্ত সাত দিনের কোনো তথ্য নেই—যেখানে অন্য দিনগুলোর পূর্ণাঙ্গ হিসাব রয়েছে। টোল প্লাজায় কর্মরত এক কর্মকর্তা বলেন, “বিকাল থেকে মান্নানের ছেলে যুবদল নেতা সজীবের লোকজন টোল প্লাজায় বসে টোল আদায় শুরু করে। প্রতিদিন সেতুতে প্রায় ১ কোটি টাকা টোল আদায় হয়। সেই হিসেবে পাঁচ দিনে ৫ কোটি টাকার টোল তোলার এই ঘটনাকে স্থানীয়রা ‘রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ’ হিসেবে দেখছেন। তবে মান্নান এটি অস্বীকার করে বলেছেন, “টোল প্লাজার জমি আমার বাপ-দাদার। তারাই টোল তুলেছে।

শতাধিক বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট:
অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত মান্নানের নেতৃত্বে তার সমর্থকরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শত শত ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও জায়গা জমি দখল এবং ভাঙচুর করে। নেতৃত্ব দেন তার ছেলে সজীব। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য-
সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ রনির টিপুরদী এলাকার কারখানায় অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট। পৌরসভার হাতকোপায় ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল কাশেম মোল্লার বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট। সাদিপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ নেতা সালাউদ্দিন মাসুমের বাড়িতে হামলা। পাকুন্ডা গ্রামে আওয়ামী লীগ নেতা শাদত আলীসহ ১৭টি বাড়িঘর ভাঙচুর। জামপুর ইউনিয়নে পল্লী চিকিৎসক বসুর দোকান ভাঙচুর ও দুটি গরু লুট করা হয়।
জমি ও সম্পত্তি দখল: শুধু মোগরাপাড়ায় নয়, জামপুর, সাদিপুর, পৌরসভায় ‘জোরপূর্বক জমি দখল’ করে বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। ভুক্তভোগী মমতাজ বেগমের ক্ষেত্রে মান্নান দাবি করেন, “আদালতের রায়ে জমি ফেরত পেয়েছি”—কিন্তু স্থানীয় আইনজীবীরা বলছেন, ওই মামলায় ‘বন্দোবস্তি’ ছিল না, ছিল ‘জোরজবরদস্তি’।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, রাজনৈতিক দলের গণতন্ত্রহীনতায় কি এমন মনোনয়ন। তা না হলে বিএনপি কেন এমন বিতর্কিত ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিলো?
দলীয় সূত্রে জানা যায়, মাস্ক ভোট ব্যাংক- মান্নানের ছেলে সজীবের নেতৃত্বে ৮০% নেতাকর্মীকে ‘ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজের দলে ভেড়ানো’—যা ভোটের হিসাবকে ‘শক্তি’ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
অর্থের শক্তি হিসেবে অভিযোগ রয়েছে, মান্নান তার মনোনয়ন নিশ্চিত করতে ঢাকার একটি শিল্প গ্রুপের মাধ্যমে দলে মোটা অঙ্কের ‘অর্থদান করেছেন।
এছাড়া আওয়ামী লীগের ‘বিচ্ছিন্ন অংশ’ এর সমর্থন। স্থানীয় বিএনপি নেতারা দাবি করেন, মান্নান আওয়ামী লীগের কিছু ‘ক্ষমতাচ্যুত’ নেতার সাথে যোগসাজশে কাজ করেন। ফলে তার ‘জয়ের সম্ভাবনা’ বেশি বলে দলকে ভুল বোঝানো হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক সৈয়দ আবুল মকসুদের মতে, “বিএনপি এখনও ‘অর্থ ও বাহিনীনির্ভর’ প্রার্থী বাছাই করে। গেলো ১৫ বছরে দলটি গণতান্ত্রিকভাবে প্রার্থী নির্বাচনের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলেনি। মান্নানের মনোনয়ন তারই প্রমাণ।”
বিশেষজ্ঞদের মতামত: গণতন্ত্রের জন্য হুমকি
বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠানের গবেষক ড. নাসরীন সুলতানা বলেন, “মান্নানের মতো ব্যক্তিদের মনোনয়ন মানে—রাজনৈতিক দলগুলো এখনও ‘অপরাধীদের পুনর্বাসন কেন্দ্র’। এই প্রবণতা যদি না থামে, তাহলে আগামী দশকে আমরা ‘গণতন্ত্রের পরিবর্তে মাফিয়া রাষ্ট্র’ পাবো।”
সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাখাওয়াত হোসেন বলেন, “নির্বাচন কমিশনের উচিত প্রার্থীদের ‘অপরাধ রেকর্ড’ যাচাই করা। কিন্তু আমাদের আইনে এই সুযোগ নেই। ফলে অপরাধীরাও নির্বাচিত হতে পারেন।”
নির্বাচনের আগে সংঘাত:
বিএনপির ভেতরে ‘বিদ্রোহ’ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। বঞ্চিত মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নিজেদের পক্ষে সমর্থন জোগাড় করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই আসনে বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল—কিন্তু মান্নানের মতো প্রার্থীর বিজয় মানে হবে “গণতন্ত্রের পরাজয়”।
এসব বিষয়ে, মান্নান অভিযোগগুলোকে “মিথ্যা ও অপপ্রচার” বলে অস্বীকার করেছেন। তিনি চাঁদাবাজি-দখলবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে এবং নিজের জমি আদালতের রায়ে ফিরে পেয়েছেন বলে দাবি করেন। তিনি টোল প্লাজার টাকা তোলার অভিযোগ অস্বীকার, টোল প্লাজার জমি তার বাপ-দাদার বলে দাবি করেন। তিনি নিজ যোগ্যতায় মনোনয়ন পেয়েছেন বলে জানান।
তবে মান্নান শক্তিশালী সংগঠক হলেও তার বিরুদ্ধে রয়েছে অভিযোগের পাহাড়। এটি যদি নির্বাচনের আগে নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহলে বিএনপির ভাবমূর্তি ও ভোটব্যাংক উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।