ঢাকা ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চাঁদপুরে ৫ কোটি টাকার নিষিদ্ধ জাল জব্দ করেছে কোস্টগার্ড Logo বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে আউটসোর্সিং নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ Logo ১৪০ বছরের সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে ভারী যান চলাচল বন্ধ Logo ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ হেক্টর ফসল, ৩৫ পয়েন্টে নদীভাঙন Logo সবুজ ক্যাম্পাস গড়তে প্লাস্টিক বর্জন ও বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে Logo নোয়াখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মসজিদের খতিবের মৃত্যু Logo নোয়াখালীতে শিশু আসমা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় তৃতীয় দফায় পেছালো Logo নোয়াখালীতে সড়কে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং Logo নেত্রকোনায় পৌরশহরের রাস্তায় যানজট, সীমাহীন দুর্ভোগ Logo আদমদীঘিতে কীটনাশক ঔষধের দোকানে দু:সাহসিক চুরি

গৌরীপুরে বিএনপি নেতার পাম্পে ৫৮ হাজার লিটার তেল উধাও, ম্যানেজার গ্রেফতার

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১৩০ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জ্বালানি সংকটের সুযোগে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে এক বিএনপি নেতার মালিকানাধীন ফিলিং স্টেশন থেকে প্রায় ৫৮ হাজার লিটার তেল ‘গায়েব’ হওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। প্রশাসনের অভিযানে বেরিয়ে এসেছে তেল মজুত, তথ্য গোপন ও কালোবাজারির অভিযোগ। এ ঘটনায় ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়া এলাকায় ডৌহাখলা ইউনিয়নের ‘মেসার্স সোয়াদ ফিলিং স্টেশন’-এ জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা মনি।
প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী মো. আফসারুল ইসলাম স্টেশনটি পরিদর্শন করেন। এ সময় ভৈরব বাজার ডিপো থেকে প্রাপ্ত চালান ও নথি যাচাই করে দেখা যায়, চলতি মাসের ১ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৫৮ হাজার ৫০০ লিটার জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়েছে।
কিন্তু মজুত ও বিক্রির হিসাব চাইলে স্টেশনের ম্যানেজার মো. জলিল হোসেন রিফাত (৩০) সন্তোষজনক কোনো তথ্য দিতে ব্যর্থ হন। তিনি দাবি করেন, ৩ এপ্রিল মাত্র ৯ হাজার লিটার পেট্রোল এসেছে—বাকি তেলের কোনো রেকর্ড তাঁর কাছে নেই। এই বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়লে প্রশাসনের সন্দেহ আরও জোরদার হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রাথমিক তদন্তে বিপুল পরিমাণ তেল অবৈধভাবে মজুত এবং কালোবাজারির প্রমাণ মেলে। জানা যায়, মাত্র ছয় দিনেই প্রায় ৫০ থেকে ৫৮ হাজার লিটার তেলের কোনো হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না—যা কার্যত ‘উধাও’।
এ ঘটনায় সার্টিফিকেট সহকারী মো. আফসারুল ইসলাম বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫/২৫ডি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান জানান, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জ্বালানি তেল মজুত ও কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত ফিলিং স্টেশনটি গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাফেজ আজিজুল হকের মালিকানাধীন বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

গৌরীপুরে বিএনপি নেতার পাম্পে ৫৮ হাজার লিটার তেল উধাও, ম্যানেজার গ্রেফতার

আপডেট সময় :

জ্বালানি সংকটের সুযোগে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে এক বিএনপি নেতার মালিকানাধীন ফিলিং স্টেশন থেকে প্রায় ৫৮ হাজার লিটার তেল ‘গায়েব’ হওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। প্রশাসনের অভিযানে বেরিয়ে এসেছে তেল মজুত, তথ্য গোপন ও কালোবাজারির অভিযোগ। এ ঘটনায় ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়া এলাকায় ডৌহাখলা ইউনিয়নের ‘মেসার্স সোয়াদ ফিলিং স্টেশন’-এ জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা মনি।
প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী মো. আফসারুল ইসলাম স্টেশনটি পরিদর্শন করেন। এ সময় ভৈরব বাজার ডিপো থেকে প্রাপ্ত চালান ও নথি যাচাই করে দেখা যায়, চলতি মাসের ১ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৫৮ হাজার ৫০০ লিটার জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়েছে।
কিন্তু মজুত ও বিক্রির হিসাব চাইলে স্টেশনের ম্যানেজার মো. জলিল হোসেন রিফাত (৩০) সন্তোষজনক কোনো তথ্য দিতে ব্যর্থ হন। তিনি দাবি করেন, ৩ এপ্রিল মাত্র ৯ হাজার লিটার পেট্রোল এসেছে—বাকি তেলের কোনো রেকর্ড তাঁর কাছে নেই। এই বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়লে প্রশাসনের সন্দেহ আরও জোরদার হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রাথমিক তদন্তে বিপুল পরিমাণ তেল অবৈধভাবে মজুত এবং কালোবাজারির প্রমাণ মেলে। জানা যায়, মাত্র ছয় দিনেই প্রায় ৫০ থেকে ৫৮ হাজার লিটার তেলের কোনো হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না—যা কার্যত ‘উধাও’।
এ ঘটনায় সার্টিফিকেট সহকারী মো. আফসারুল ইসলাম বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫/২৫ডি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান জানান, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জ্বালানি তেল মজুত ও কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত ফিলিং স্টেশনটি গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাফেজ আজিজুল হকের মালিকানাধীন বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।