মক্তব শিক্ষায় অবদান রাখছে বায়তুল আমান নিশ্চিন্ত
- আপডেট সময় : ১৬৪ বার পড়া হয়েছে
সিলেটের গোলাপগঞ্জের ঢাকাদক্ষিণে শিশু—কিশোরদের কুরআন—নামায ও দ্বীনের বিভিন্ন বিষয় শিক্ষা দিয়ে অবদান রাখছে বায়তুল আমান নিশ্চিন্ত। প্রবীণ মুরব্বি মৌলভী আবুল হুসাইন ধলা মেসাব রহ. পরামর্শে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি ২০২১ সালে যাত্রা শুরু করে। শুরু থেকেই পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন হাফিয নোমান মাহফুজ। সহকারী শিক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে রয়েছেন জাকারিয়া আহমদ। শতকেরও বেশী ছাত্রছাত্রী এখান থেকে দ্বীনের জরুরী বিষয়ে জ্ঞান আহরণ করছেন। বর্তমানে শিক্ষক সংখ্যা ৩ জন।
প্রতিদিন বাদ ফজর থেকে সকাল ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলে কচিকাঁচাদের সূরা, দোয়া—দুরুদ, আমপারা, কুরআন শরীফের পাঠদান।
কর্তৃপক্ষ জানান, মক্তবটি পরিচালনায় রয়েছে নিজস্ব সিলেবাস ও বই। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো ও মেধার বিকাশে রয়েছে নিয়মিত পরীক্ষার ব্যবস্থা। পাশাপাশি দ্বীনদার শ্রেণীর সহযোগিতায় দেয়া হয় পুরস্কার।
এক সময় মক্তব ছিল আমাদের আবহমান বাংলার মুসলিম ঐতিহ্যের এক অভিচ্ছেদ্য অংশ। সকালবেলা কোমলমতী শিশুরা কুরআনের শিক্ষা অর্জন করতে দল বেঁধে মক্তবে যেতো। কিন্তু বর্তমানে সকালবেলার স্কুল এবং নানামুখী কারণে ঐতিহ্যে প্রতীক গুরুত্ব হারাচ্ছে। তাই এই ঐতিহ্যবাহী ধারাকে নতুনভাবে ফিরিয়ে আনতে গোলাপগঞ্জের ঢাকাদক্ষিণ ইউপি ও লক্ষণাবন্দ ইউপির মধ্যবর্তী নিশ্চিন্ত গ্রামের বায়তুল আমানে চলছে সকালের মক্তব।
মক্তব পরিচালক নোমান মাহফুজ জানান, প্রতিদিন বাদ ফজর থেকে এই মক্তবে পড়তে পারে শিক্ষার্থীরা। যেখানে হিফজ নাযারা থেকে শুরু করে দ্বীনের বুনিয়াদী শিক্ষা গ্রহণ করছে শিক্ষার্থীরা। ২০২১ সালের ১ এপ্রিল ৭/৮ জন শিক্ষার্থী দিয়ে শুরু হয় বায়তুল আমান সাবাহি মক্তব নামে সকালের মক্তব। বর্তমানে প্রায় ৮০ জনের মতো শিক্ষার্থী এখান থেকে কুরআন ও দ্বীনের শিক্ষা নিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি করা হয় নিজস্ব সিলেবাস। যুবানী, কায়দা, আমপারা, নাযারা বিভাগ অনুসারে শিক্ষার্থীদের পড়ানো হয়।
মক্তব কর্তৃপক্ষ জানান, এখানে নির্বাচিত সূরা আয়াত মুখস্থ ইত্যাদি ভাগে শিক্ষার্থীরা কুরআনের শিক্ষা গ্রহণ করছে। ২০২১—২০২৪ সাল পর্যন্ত কুরআন শরীফ পড়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে করেছে ৫৬ জন শিক্ষার্থী। এখানে কুরআন শিক্ষার পাশাপাশি শেখানো হয় মৌলিক আক্বীদা, নামাজ—রোজাসহ ফরজ ইবাদতের বিধান সমূহ, মাসনূন দো’আ সমূহ, প্রশ্নোত্তরে ইসলামের ইতিহাস ইত্যাদি।
এই মক্তব কার্যক্রমের তিনটি ধাপ। (১) সাবাহি মক্তব : যুবানী, ক্বায়দা, সুরা ও নাযারা বিভাগের শিক্ষার্থীরা এই ধাপে পড়ে। এখানে ক্বায়দা ও কুরআনের পাশাপাশি দ্বীনের বুনিয়াদী বিষয়গুলি পড়ানো হয়। (২) মাশকুল কুরআন : কুরআন শরীফের শিক্ষার্থীরা এখানে পড়ে। যারা মক্তব শেষ করতে পারে, তাদেরকেই মূলতঃ এখানে সুযোগ দেওয়া হয়। (৩) মাসব্যাপী ক্বেরাত কোর্স : এটি রামাযান মাসভিত্তিক সব ধরণের সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য। এখানে ক্বায়দা ও কুরআনের পাশাপাশি দ্বীনের বুনিয়াদী বিষয়গুলি পড়ানো হয়।
প্রতিষ্ঠানটির সহকারী শিক্ষক জাকারিয়া আহমদ বলেন, নিজস্ব সিলেবাসে এখানে পড়ানো হয়। মক্তবের প্রতি অভিভাবকদের আগ্রহ বাড়ছে। বাদ ফজর মাত্র এক—দেড় ঘণ্টা নিয়মিত পড়ে তাদের সন্তানরা দ্বীনের মৌলিক বিষয়গুলি জানতে পারবে, এতেই তাদের ভরসা। যদি মসজিদে মসজিদে এই মক্তব চালু করা যেত, তাহলে প্রসারটা আরও অধিক হতো। চাইলেই ইসলামিক স্কুল বা মাদরাসা তৈরি করা সম্ভব হয় না কিন্তু সকালের মক্তব চালু করা অনেকটাই সহজ। আমার শতবর্ষী দাদা মৌলভী আবুল হুসাইন (ধলা মেসাব) রহ. এর খুব ইচ্ছা যে মুসলমান যুবক, বয়স্কদের মাঝে কুরআনী শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়া। সবাই যাতে শুদ্ধভাবে কুরআন শিখতে পারে এর জন্য এলাকায় মক্তব বা কেন্দ্র সৃষ্টি করা।




















