ঢাকা ০৪:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চাঁদপুরে ৫ কোটি টাকার নিষিদ্ধ জাল জব্দ করেছে কোস্টগার্ড Logo বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে আউটসোর্সিং নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ Logo ১৪০ বছরের সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে ভারী যান চলাচল বন্ধ Logo ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ হেক্টর ফসল, ৩৫ পয়েন্টে নদীভাঙন Logo সবুজ ক্যাম্পাস গড়তে প্লাস্টিক বর্জন ও বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে Logo নোয়াখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মসজিদের খতিবের মৃত্যু Logo নোয়াখালীতে শিশু আসমা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় তৃতীয় দফায় পেছালো Logo নোয়াখালীতে সড়কে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং Logo নেত্রকোনায় পৌরশহরের রাস্তায় যানজট, সীমাহীন দুর্ভোগ Logo আদমদীঘিতে কীটনাশক ঔষধের দোকানে দু:সাহসিক চুরি

টাকা আত্মসাতের পর উল্টো প্রাণনাশের হুমকি!

রাজধানীতে যৌথ ব্যবসায় আড়ালে প্রতারণা

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ২১৪ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর উত্তর বাড্ডার,আলীর মোড় এলাকায় যৌথ ব্যবসার আড়ালে অর্থ আত্মসাত ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পাওনা ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ না করে অভিযুক্ত ব্যক্তি উল্টো ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আব্দুল জলিল (৪৬) প্রায় চার বছর আগে তার আপন ছোট বোন জামাই মোঃ আক্কাস দর্জির সঙ্গে যৌথভাবে সোফার কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেন। এ ব্যবসায় তিনি ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা করে সম্মানী এবং লাভ-ক্ষতি সমহারে বণ্টনের কথা ছিল।

প্রায় সাড়ে তিন বছর ব্যবসা চলার পর আক্কাস দর্জি বিভিন্ন অজুহাতে টালবাহানা শুরু করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে আত্মীয় ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিক শালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভুক্তভোগীর মোট পাওনা দাঁড়ায় ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। শালিশের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্র সম্পাদন করে এবং ১০টি চেক প্রদান করেন। এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে বহু টালবাহানা করে মোট ৭,০০,০০০ (সাত লক্ষ) টাকা পরিশোধ করা হলেও বাকি ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা এখনও পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী আব্দুল জলিল বলেন, আক্কাস দর্জি আমার নিকট আত্মীয় হওয়ায় বিশ্বাস করে তার সঙ্গে ব্যবসা শুরু করি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তিনি নানা অজুহাতে আমার পাওনা টাকা পরিশোধ করছেন না। শালিশের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করলেও তিনি তা মানছেন না। বরং আমার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। তিনি জানান, আক্কাস দর্জির মেয়ের জামাই একজন পুলিশ সদস্য হওয়ায় তার নাম ও ক্ষমতা ব্যবহারে করে আমাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে।

শালিশে উপস্থিত স্থানীয় ব্যবসায়ী রয়েল বলেন, দুপক্ষই আমাদের পরিচিত। আমরা একাধিকবার বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি। শালিশে আক্কাস দর্জি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধে সম্মত হয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি তা করছেন না; বরং পাওনাদারকে হয়রানি করছেন। বিষয়টির ন্যায়সঙ্গত সমাধান হওয়া জরুরি।

আরেক শালিশ সদস্য ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন বলেন, টাকার বিষয়টি আমরা জানি এবং একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তি পাওনা পরিশোধ না করে উল্টো জটিলতা সৃষ্টি করছেন, যা দুঃখজনক।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি তার পাওনা অর্থ দ্রুত আদায় এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে মোঃ আক্কাস দর্জির কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, এবং আমি তার থেকে টাকা ধার নিয়েছিলাম, সব টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সে আমার থেকে কোন টাকা-পয়সা পায় না। তবে এ বিষেয় আদালতে মামলা চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

টাকা আত্মসাতের পর উল্টো প্রাণনাশের হুমকি!

রাজধানীতে যৌথ ব্যবসায় আড়ালে প্রতারণা

আপডেট সময় :

রাজধানীর উত্তর বাড্ডার,আলীর মোড় এলাকায় যৌথ ব্যবসার আড়ালে অর্থ আত্মসাত ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পাওনা ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ না করে অভিযুক্ত ব্যক্তি উল্টো ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আব্দুল জলিল (৪৬) প্রায় চার বছর আগে তার আপন ছোট বোন জামাই মোঃ আক্কাস দর্জির সঙ্গে যৌথভাবে সোফার কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেন। এ ব্যবসায় তিনি ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা করে সম্মানী এবং লাভ-ক্ষতি সমহারে বণ্টনের কথা ছিল।

প্রায় সাড়ে তিন বছর ব্যবসা চলার পর আক্কাস দর্জি বিভিন্ন অজুহাতে টালবাহানা শুরু করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে আত্মীয় ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিক শালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভুক্তভোগীর মোট পাওনা দাঁড়ায় ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। শালিশের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্র সম্পাদন করে এবং ১০টি চেক প্রদান করেন। এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে বহু টালবাহানা করে মোট ৭,০০,০০০ (সাত লক্ষ) টাকা পরিশোধ করা হলেও বাকি ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা এখনও পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী আব্দুল জলিল বলেন, আক্কাস দর্জি আমার নিকট আত্মীয় হওয়ায় বিশ্বাস করে তার সঙ্গে ব্যবসা শুরু করি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তিনি নানা অজুহাতে আমার পাওনা টাকা পরিশোধ করছেন না। শালিশের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করলেও তিনি তা মানছেন না। বরং আমার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। তিনি জানান, আক্কাস দর্জির মেয়ের জামাই একজন পুলিশ সদস্য হওয়ায় তার নাম ও ক্ষমতা ব্যবহারে করে আমাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে।

শালিশে উপস্থিত স্থানীয় ব্যবসায়ী রয়েল বলেন, দুপক্ষই আমাদের পরিচিত। আমরা একাধিকবার বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি। শালিশে আক্কাস দর্জি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধে সম্মত হয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি তা করছেন না; বরং পাওনাদারকে হয়রানি করছেন। বিষয়টির ন্যায়সঙ্গত সমাধান হওয়া জরুরি।

আরেক শালিশ সদস্য ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন বলেন, টাকার বিষয়টি আমরা জানি এবং একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তি পাওনা পরিশোধ না করে উল্টো জটিলতা সৃষ্টি করছেন, যা দুঃখজনক।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি তার পাওনা অর্থ দ্রুত আদায় এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে মোঃ আক্কাস দর্জির কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, এবং আমি তার থেকে টাকা ধার নিয়েছিলাম, সব টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সে আমার থেকে কোন টাকা-পয়সা পায় না। তবে এ বিষেয় আদালতে মামলা চলছে।