রামুর ৪০০ একর সংরক্ষিত বাগানের বৃক্ষ নিধন, সিসিএফের পরিদর্শন
- আপডেট সময় : ১৫৭ বার পড়া হয়েছে
কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের ধোয়া পালং রেঞ্জের ধোয়া পালং বিটে টানা ৩০ বছর ধরে হেডম্যান থাকার সুবাদে হেডম্যানের ক্ষমতা ব্যবহার করে ১০০ একর বন ভুমির দখল বিক্রি ও ৩০০ একর সামাজিক বনায়ন উজাড় করে দিয়েছে ধোয়া পালং এর বনের রাজা খ্যাত বশির আহমদ প্রকাশ বশু হেডম্যান ও সিন্ডিকেড।বিশাল বনাঞ্চল ধ্বংস করার অভিযোগ পেয়ে নবাগত বিভাগীয় বনকর্মকর্তা তদন্ত শুরু করেছেন।এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপার পক্ষ থেকে পৃথক তদন্ত করে বন উজাড়ের সত্যতা পাওয়া গেছে।৮ ডিসেম্বর সরেজমিনে এ বনাঞ্চল পরিদর্শনে করেছেন।
জানা যায়,কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের আওতায় রামু থানার ধোয়া পালং বিট ছিল সমৃদ্ধ বনাঞ্চলে ভরপুর।গত ৩০ বছর ধরে হেডম্যানের দায়িত্ব নিয়ে মৃত এজাহার মিয়ার পুত্র বশির আহমদ প্রকাশ বসু হেডম্যানের নেতৃত্বে প্রায় ৪০০ একর বন ধ্বংস করা হয়।শক্তিশালী বাহিনী গঠন করে গত ২০ মাসে এসব বন উজাড় ও জবর দখল করা হয়। ধোয়া পালং পশ্চিম ঘোনার পাড়ায় “বসু হেডম্যানের ঘোনা” নামক বিশাল গ্রাম বা মহল্লা সৃষ্টি করে ২শতাধিক পরিবারের জনবসতি তৈরি করা হয়।গত ২ বছর ধরে বশু হেডম্যান ও নেতৃত্বে ক্লাব/সমিতি গঠন করে ধোয়া পালং বিটের ৪ টি সামাজিক বনায়নের ৯৫% গাছে উজাড় করা হয়।বন ধ্বংস জবর দখলের পর সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অভ্যন্তরে বালু মিশ্রিত মাটির পাহাড়ে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে গত ২ বছর ধরে ৩ কোটি টাকার বালু বিক্রি করে দেয়।ধোয়া পালং বিটে ২০০৩-২০০৪ এর ১৫০ একর,২০০৪-০৫ এর ১০হেক্টর ২০০৫-০৬ এর ১৫০ একর ২০০৭-০৮ এর ৪৯ হেক্টর বা ১২৮ একর সামাজিক বনায়ন বর্তমানে ৯৫% গাছ উজাড় করা হয়ে গেছে।এখন চলছে জবর দখল, পানবরজ তৈরি, বসতভিটার জন্য জবর দখলের কাজ। বন উজাড়ে বশু হেডম্যান সিন্ডিকেডে তার সাথে জড়িত অন্যান্যরা হচ্ছে হেডম্যানের বড় মেয়ের জামাতা একই এলাকার শফিকুল ইসলাম সাবু তার ভাই রশিদ আহমদ উভয় পিতা মৃত সুলতান আহমদ, মৃত মোহাম্মদ আলীর পুত্র আবদুল করিম তার ভাই আবদুর রহমান,তার ছেলে মো:শফি,এহেছান রাজা,স্হানীয় হামিদুল্লাহ প্রকাশ বার্মাইয়া হামিদ,জাহাঙ্গীর আলম, আবদুর রহিম ধান বিয়ারীর পুত্র কামাল উদ্দিন, মৃত আবদুর রহমান সওদাগরের পুত্র নুরুল হক,বসু হেডম্যানের আরেক জামাই জসিম উদ্দিন, কালু সওদাগরের ছেলে মোক্তার মিয়া,আবদুল করিমের ভাগিনা সহ ৩০/৩৫ জন।
বসু হেডম্যান জবর দখল করে বিক্রি করা বনভুমিতে ২ শতাধিক ঘরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে যথাক্রমে
জাফর রোহিঙ্গা, আব্দু রহমান প্রকাশ (বাটি আব্দু রহমান), আব্দুল্লাহ পিতা: আব্বার আহাম্মদ, মোহাম্মদুল হক পিতা : আব্দুল বারি, মির আহাম্মদ পিতা : আবদুল বারি, ওয়াশিম মিয়া পিতা : ছৈয়দুল হক জসিম উদ্দিন (বসু হেডম্যানের জামাই)
শবুল করিম পিতা: জাফর, শফিকুল ইসলাম সাবু পিতা: মৃত সুলতান আহাম্মদ (বসু হেডম্যানের জামাই বড় জামাই)
মোজাহের,বশু হেডম্যানের ভাতিজা মৃত কালু সওদাগরের ছেলে মোক্তার আহমদের বিক্রিত বনভুমিতে বাড়ি নির্মান করে স্হায়ী বসবাস করছে জকরিয়া রোহিঙ্গা,নুরুল হক প্রকাশ বাইলা,ইয়াকুব মিয়া,রাসেদা বেগম,হাজেরা খাতুন,আবুল খায়ের সহ অনেকেই।যা সরেজমিনে তদন্তে প্রমানিত হবে।
গত ৩০ বছর ধরে পেঁচারদ্বীপ, টাইংগাকাটা,গোয়ালিয়া পালং নয়া পাড়া সহ ধোয়া পালং এর আরো অনেক বনভুমি দখল বিক্রি,নতুন ঘর নির্মাণ,বনাঞ্চল ধ্বংসে জড়িত বনের রাজা খ্যাত বশু হেডম্যানের সিন্ডিকেড।এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপার পক্ষ থেকে তদন্তে সত্যতা প্রমানিত হয়।২০০৩-০৪ সামাজিক বনায়নের সভাপতি আবদুর রহিম সওদাগরকে ফোন করলে তিনি জানান,অতীতে বাগানের গাছ রক্ষা করতে গিয়ে গাছ চোরদের হামলায় আহত হয়ে চট্রগ্রাম মোডিকেলে ৩ মাস চিকিৎসা নিয়েছি।তিনি বলেন আমার জীবনের শংকা আছে তাই কারা জড়িত নাম বলতে পারবো না।গোপনে সরেজমিনে তদন্ত করলে সকল প্রমান পাওয়া যাবে।বাগানের উপকারভোগী সদস্য আবদুল্লাহ জানান,২০০৩-০৪ এর বাগান নয় শুধু ধোয়া পালং বিটের কোন বাগানে গাছ নেই জঙ্গল আছে শুধু।সাবেক রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুর রশিদ,সাবেক বিট অফিসার আবদুল করিম ও বর্তমান দায়িত্বশীলরা হেডম্যানের মাধ্যমে বনউজাড় ও বনভুমি দখলে জড়িত। উপকারভোগীরা জানান,বনরাজা বশু হেডম্যান যতদিন আছে ততদিন বন থাকবে না বনভুমি ও দখল থামবে না তদন্ত করে তার অপকর্মের বিচার করা হউক।তার সিন্ডিকেডে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হউক। স্হানীয় লোকজন জানায়,গাছ বিক্রির পর চিহৃ নষ্ট করতে গাছের গোড়ালি পুড়া দিয়ে কয়লা বানিয়ে বস্তা প্রতি ৩০০টাকা হারে বিক্রি করে আলামত নষ্ট করেছে হেডম্যানের মেয়ের জামাতা শফিকুল ইসলাম সাবু।অবৈধ ঘর নির্মাণ করার লেনদেন করা হয় বশু হেডম্যানের ছেলে এনামুলের দোকানে।তার আরেক ছেলে রহিম উল্লাহ ডাম্পার নিয়ে অবৈধ ভাবে পাহাড় কাটা ও বালু উত্তোলনে নিয়োজিত থাকে। আর শফিকুল ইসলাম সাবুর ছেলে ওসমান গনিকে ব্যবহার করা হয় গাছ বিক্রি ও সমিলে গাছ সরবরাহের কাজে।
২টা অবৈধ স’মিল ধোয়া পালং- খুনিয়াপালং এলাকার সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ গিলে খাচ্ছে।
একটা বসানো হয়েছে- ধোয়া পালং মাজের পাড়ায় নুরুল আমিনের বাড়ির পেছনে, অন্যটা ধোঁয়া পালং বাবুল সওদাগরের ব্রিকফিল্ডের দক্ষিণ পাশে আব্দুল্লাহ মাষ্টারের বাড়ির সামনে।
বন উজাড় করে রাতভর চিরাই শেষে গাছগুলো সাইজ মতো বিক্রি করে থাকে এহসান রাজ, এনামুল হক, আবদুল আজিজ ও আমিন উল্লাহ সিন্ডিকেটের গাছ চোর সদস্যরা। ধোয়া পালং বিট কর্মকর্তা তানভীর তাদের কাছ থেকে প্রতি সপ্তাহে মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ নিচ্ছেন। যত দিন এই স’মিল দুইটি উচ্ছেদ করা না হবে, ততদিন বন রক্ষা করা সম্ভব হবে না। রেঞ্জার ও বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও দুর্নীতি দমন আইনে মামলা করার দাবী তুলেছেন পরিবেশবাদী নেতারা।














