শরীয়তপুরের অবৈধ ইটভাটায় চলছে বিনাবাধায় নিষিদ্ধ শিশুশ্রম
- আপডেট সময় : ১০৪ বার পড়া হয়েছে
শরীয়তপুরে পরিবশে অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে বেশিরভাগ ইট ভাটা। আইনের তোয়াক্কা না করেই রয়েছে প্রায় প্রতিটি ভাটাতেই নিষিদ্ধ শিশুশ্রম। প্রশাসনের উদাসীনতায় এবং ভাটার মালিকরা লাভবান হতেই স্বল্প মজুরিতে ঝুকিপূর্ণ কাজ করানো হচ্চে শিশুদের দিয়ে। তবে এব্যাপারে প্রশাসন উদাসীন। আইনি ব্যাবস্থা নেওয়া আশ্বাস জেলা প্রশাসনের। তবে ক্যামেরায় বললেন না কথা জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম। তবে শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইলোরা ইয়াসমিন জানালেন শধু শরীয়তপুরেই নয় সারা বাংলাদেশের ইটভাটাগুলোই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র জটিলতা ও আদালতে মামলা মোকাদ্দমার জটিলতা রয়েছে । এসব জটিলতার মধ্যেই ইটভাটা চলমান রয়েছে। ভাটা শ্রমিকদের বেশির ভাগই ভাসমান মানুষ। তাই পরিবারের সাথে শিশুরাও রয়েছে।
শরীয়তপুরে আবাসিক এলাকায়, কৃষি জমিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট দুরত্বের অদুরেই অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমেই পরিবেশের ছাড়পত্র নিয়েই আইন ব্যতিরেখে গড়ে উঠছে এই সকল ইট ভাট। প্রথমে টিনের ছিপনি চুঙ্গি, পরে নির্দিষ্ট উচ্চতার চুঙ্গি এবং ঝিকঝক চুঙ্গি নির্মান করে ভাটা গুলো রূপান্তরিত হয় পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশ মতই। ভাটাগুলো পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করলেও তৎকালীন পরিবেশ মন্ত্রনায়ে দায়িত্বরতদের হস্তক্ষেপে তারা পরিবেশের ছাড়পত্রও পায়। ভাটা তৈরীর কয়েক বছর থেকে এক যুগ পরে এসে নতুন করে গত তিন বছর ধরে পায়নি পরিবেশ অধিদপ্তরের পুনঃ ছাড়পত্র। কেননা ভাটাগুলি আবাসিক এলাকা কৃষিজমি কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অদুরে। তবে পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়াই আইনের তোয়াক্কা না করেই স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমঝোতায় চলছে ইটভাটা।
মাটি প্রস্তুত থেকে একে একে ইট তৈরী, শুকানো, ভাটায় সাজানো ও পুরানোর কাজ এবং বিক্রি চলছে দিনে রাতে। আর এসব কাজে ভাটায় নারী পুরুষের সাথে সমান তালে কাজ করছে ১০ বছর থেকে ১৪ বছর বয়সি অপ্রাপ্ত শিশুরা। এরা পরিবারের সাথে এসেছেন ভাটায় কাজ করতে। দরিদ্র পরিবারের শিক্ষা বঞ্চিত এসব শিশুরা পরিবারের দারিদ্রতা দুরকরতে যেন সপে দিয়েছে নিজেকে । স্পল্প মূল্যের শ্রমে দুর্বল শরীর নিয়ে বড়দের সাথে সমশ্রম দিয়ে যাচ্ছে । সংসারের অভাব মুচতে দিচ্ছেন জীবনের স্বপ্ন বিসর্জন ।
ভাটায় কর্মরত শিশুরা জানায়, তাদের পরিবারের সকলেই ভাটায় কাজ করে। মা ও বাবার সাথে তারা ভাটায় কাজ করতে এসেছে। তাদের কাজের বিনিময়ে বাড়তি আয় হচ্ছে । ৬ মাসের চুক্তিতে সাতক্ষিরা, গাইবান্দা, ও কুষ্টিয়া থেকে কাজ করতে এসেছে তারা। এক এক জন শিশু দৈনিক তিনশত টাকা থেকে ৫ শত টাকা পর্যন্ত হারভাঙ্গা খাটুনি খেটে আয় করছেন। তবে টাকা আয় হলেো শিক্ষা অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এসব শিশুরা। সারা দেশে বছরের শুরুতে বই উৎসব থাকলেও নতুন বইযের সুবাস ভাগ্যে জুটছে না চিন্নমূল পরিবারের এসব দরিদ্র অসহায় শিশুদের।
মঙ্গাকবলিত এলাকার সাতক্ষিরা, কিশোরগঞ্জ, গাইবান্ধ্যা জেলার হত দরিদ্র পরিবারের মানুষেরা সরদারের মাধ্যমে দাদন নিয়া সংসার চালানো পরিবারগুলোই ঋণ পরিোধে কাজ করছেন শরীয়তপুরের ইটভাটায়। হারভাঙা খাটুনি পরিশ্রমের তুলনায় শ্রমের মূল্য কম। শ্রমের মূল্য বাড়ানোর দাবী রয়েছে তাদের । শ্রমিকরা ৬ মাসের চুক্তিতে ভাটায় কাজ করেন । ইট বানানোর মিস্ত্রি পায সর্বোচ্চ মজুরী। মাসিক চুক্তেত এক এক জন মিস্ত্রী পায় ১ লক্ষ টাকা থেকে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত। আবার অনেক শ্রমিক মাসিক ৩০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছি । আর মিমুরা পাচ্ছে ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা।
ভাটাগুলোতে শিশু শ্রম দৃশ্যমান থাকলেও অস্বীকার করেন ইট ভাটা কর্তৃপক্ষ । এদিকে ভাটার জ্বালানি পাথর কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং আগের তুলনায় শ্রমিকের মূল্য বেশি ঙ করায়, বেশি দামে বিক্রি করতে পারছে না স্থানীয় ভাটার ইট। মোটা অংকের টাকা বিনিয়োগ করেও লোকসানে তারা। দেশের সর্বত্র কয়লা দিয়ে ইট পোড়ানোর দাবী ভাটার মালিকদের।
পরিবেশের ছারপত্র নিয়েই শুরো হয়েছিল শরীয়তপুরের সকল ইটভাটা। কিন্তু বর্তমানে পুনঃছারপত্র দিচ্ছে না পরিবেশ অধিদপ্তর। এতে করে ইটভাটাগুলো আইনগতভাবে অবৈধ হয়ে পড়েছে। এদিকে এসব ভাটা বন্ধ হলে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্ম হারিয়ে বেকার হবে। এতে করে চুরি ডাকাতির মত অপরাধ বাড়ার আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শুধু শরীয়তপুরেই নয় সারা বাংলাদেশেই ইটভাটার পরিবেশের ছাড়পত্র নিয়ে জটিলতা রয়েছে। পরিবেশের ছাড়পত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়ায় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ভাটামালিকদের জরিমানা করা হয়েছে। এব্যাপারে আদালতে বিভিন্ন ভাটার মালিকদের মামলার জটিলতা রয়েছে। অন্যদিকে ইটভাটায় ভাসমান মানুষ স্বপরিবারে আসেন। কাজ করেন। এক্ষেত্রে তাদের শিশুরা শিক্ষা বঞ্চিত হচ্ছে। তবে তারা যেন নিকটবর্তী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার সুযোগ পায় সেই বিষয়ে নজর থাকবে জনালেন শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইলোরা ইয়াসমিন ও নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল কাইয়ুম খান । ইট ভাটার শিশু শ্রম বন্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানান জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম। তিনি বলেন ভাটার মলিকদের শিশু শ্রম বন্ধে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে । যারা এই নির্দেশনা না মানবে তাদেরবিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে ।
শরীয়তপুরে পরিবেশের ছাড়পত্র নিয়েই শুরু হয়েছিল ৬০টি ভাটা। বর্তমানে ছাড়পত্র পেয়েছে মাত্র ৪টি ভাটা। তবে ইতোমধ্যে ভাটা ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে ১৪টি ভাটা। বর্তমানে ইট তৈরী করছে সচল ভাবে ২৯টি ভাটা। বন্ধ আছে ১৭ ইট ভাটা।














