ঢাকা ০৮:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo শেরপুরে কেন্দ্রে কেন্দ্রে যাচ্ছে ব্যালটসহ ভোটের উপকরণ Logo সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর প্রস্তুতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানে আনসার-ভিডিপি Logo নির্বাচনী মাঠে তৎপর আনসার বাহিনীর ১,১৯১টি স্ট্রাইকিং টিম Logo কাঁঠালিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধে, আহত-৭ Logo শাল্লায় জালিয়াতি করে জলমহাল দখল চেষ্টার অভিযোগ Logo বাগেরহাটে নির্বাচন থেকে সরে দাড়ালেন স্বতন্ত্র প্রার্থী Logo মাগুরায় দুই আসনে ৭ দলের ১১ প্রার্থী Logo ২য় পদ্মা সেতু ও নদী শাসন ইসু প্রভাব ফেলবে গোয়ালন্দের ভোটের হিসেবে Logo ‘এবার ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কোনো সুযোগ নেই’ Logo পেঁয়াজের সাদা ফুলে নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন গোয়ালন্দের চাষিরা

শাল্লায় জালিয়াতি করে জলমহাল দখল চেষ্টার অভিযোগ

শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১৯ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সুনামগঞ্জের শাল্লায় ছয় বছরের লীজকৃত একটি জলমহাল স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে শাল্লা উপজেলার ১নং আটগাঁও ইউনিয়ন এলাকায়। জলমহলটি দখলে নেয়ার এই অপচেষ্টার কবলে পড়ে অসহায় হয়ে পড়েছে ২৩টি পরিবার। ভূক্তভোগিরা তথ্য ও উপাত্ত যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার দাবীও জানিয়েছেন।
পার্শ্ববর্তী দিরাই উপজেলার উত্তর জারুলিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড ২০১৯ সালে ইজারার মাধ্যমে সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লাা উপজেলার আটগাঁও কাশিপুর লাইরাদিঘা গ্রুপ-এ জলমহালটি ছয় বছরের জন্য ইাজারা গ্রহণ করে। কিন্তু তিন বছর শেষ হতেই একটি প্রতারক চক্র ইজারাদার সমিতির সভাপতির স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে সাব-লীজের ভুয়া ডীড তৈরী করে ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর মিথ্যে অভিযোগ দিয়ে জলমহালটি পুনরায় ইজারা করিয়ে কৌশলে নিজেদের দখলে নেয়ার চেষ্টা করে। ২০২৩ সালে চক্রটির মূল হোতা আটগাঁও গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি ডালাস রাজীব উদ্দিন নামের এক ব্যক্তিকে দিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে আদালত মামলাটি খারিজ করে উত্তর জারুলিয়া মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির নামে রায় দেন।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, উত্তর জারুলিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড ভূমি মন্ত্রনালয় থেকে ৪৪৩ একরের কাশিপুর লাইরা দিঘা গ্রুপ-এ জলমহালটি’ বাংলা সন ১৪২৭ থেকে ১৪৩২ সন মেয়াদে ইজারা গ্রহণ করে। জলমহালের বাৎসরিক ইজারা মূল্য সহ সরকারকে অন্যান্য রাজস্ব প্রদান করে আসছে। চলতি এই বছর জলমহাল থেকে মাছ আহরণের শেষ সময়সীমা। তাই চক্রটি প্রতারণার মাধ্যমে জলমহালটি দখলের পায়তারা করছে।
এখানেও ব্যর্থ হয়ে থেমে নেই এই চক্রটি। এখন আবার পুনরায় রুমেন মিয়া নামে আরেক ব্যক্তিকে দিয়ে আদালতে আরেকটি মামলা দায়ের করে। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে উত্তর জারুলিয়া মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি প্রজেশ লাল দাস রুমেন মিয়া নামের ব্যক্তিটিকে ৭২লক্ষ টাকার বিনিময়ে জলমহাল সাবলীজ দিয়েছেন। সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে আদালতে সাবলীজের একটি চুক্তিনামা দেখানো হয়। যাতে করে নিজেদের দখলে নিয়ে অন্যায় ভাবে আবারও ভোগ দখল করতে পারে। তাই এই চক্রটি ভুয়া সাবলীজের কাগজের মাধ্যমে প্রশাসন দিয়ে জলমহালের মাছ আহরণ বন্ধের নির্দেশনা দিয়ে লুটপাটের চেষ্টা করছেন বলে জানান সমিতির সভাপতি প্রজেশ লাল দাস। অভিযোগকারী মৎস্যজীবীরা বলেন, প্রতারক মো. ডালাস ও রুমেন মিয়া স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় জলমহালটি আমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি আমাদের নামে মিথ্যে অভিযোগ করে আদালতে মামলা করেছিল, আমরা সেই মামলার রায় পেয়েছি। তাই পুনরায় একই ভাবে আবার জলমহাল দখলের চেষ্টা করছে। উত্তর জারুলিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সভাপতি প্রজেশ লাল দাস বলেন, ৬ বছরের জন্য জলমহালটি সরকারের কাছ থেকে ইজারা গ্রহণ করেছি। আমরা পরিশ্রম করে এখানে মাছ চাষ করছি। সরকারকে রাজস্ব দিচ্ছি। কিন্তু এখানে অসাধু একটা চক্র জলমহালটি দখলে নেয়ার অপচেষ্টা করছে। আমরা চাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ন্যায় বিচার করুক।
এব্যাপারে মামলার বাদী রুমেন মিয়ার সাথে কথা বলতে তার মুঠোফোনে বার বার ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই তার বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

শাল্লায় জালিয়াতি করে জলমহাল দখল চেষ্টার অভিযোগ

আপডেট সময় :

সুনামগঞ্জের শাল্লায় ছয় বছরের লীজকৃত একটি জলমহাল স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে শাল্লা উপজেলার ১নং আটগাঁও ইউনিয়ন এলাকায়। জলমহলটি দখলে নেয়ার এই অপচেষ্টার কবলে পড়ে অসহায় হয়ে পড়েছে ২৩টি পরিবার। ভূক্তভোগিরা তথ্য ও উপাত্ত যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার দাবীও জানিয়েছেন।
পার্শ্ববর্তী দিরাই উপজেলার উত্তর জারুলিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড ২০১৯ সালে ইজারার মাধ্যমে সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লাা উপজেলার আটগাঁও কাশিপুর লাইরাদিঘা গ্রুপ-এ জলমহালটি ছয় বছরের জন্য ইাজারা গ্রহণ করে। কিন্তু তিন বছর শেষ হতেই একটি প্রতারক চক্র ইজারাদার সমিতির সভাপতির স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে সাব-লীজের ভুয়া ডীড তৈরী করে ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর মিথ্যে অভিযোগ দিয়ে জলমহালটি পুনরায় ইজারা করিয়ে কৌশলে নিজেদের দখলে নেয়ার চেষ্টা করে। ২০২৩ সালে চক্রটির মূল হোতা আটগাঁও গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি ডালাস রাজীব উদ্দিন নামের এক ব্যক্তিকে দিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে আদালত মামলাটি খারিজ করে উত্তর জারুলিয়া মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির নামে রায় দেন।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, উত্তর জারুলিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড ভূমি মন্ত্রনালয় থেকে ৪৪৩ একরের কাশিপুর লাইরা দিঘা গ্রুপ-এ জলমহালটি’ বাংলা সন ১৪২৭ থেকে ১৪৩২ সন মেয়াদে ইজারা গ্রহণ করে। জলমহালের বাৎসরিক ইজারা মূল্য সহ সরকারকে অন্যান্য রাজস্ব প্রদান করে আসছে। চলতি এই বছর জলমহাল থেকে মাছ আহরণের শেষ সময়সীমা। তাই চক্রটি প্রতারণার মাধ্যমে জলমহালটি দখলের পায়তারা করছে।
এখানেও ব্যর্থ হয়ে থেমে নেই এই চক্রটি। এখন আবার পুনরায় রুমেন মিয়া নামে আরেক ব্যক্তিকে দিয়ে আদালতে আরেকটি মামলা দায়ের করে। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে উত্তর জারুলিয়া মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি প্রজেশ লাল দাস রুমেন মিয়া নামের ব্যক্তিটিকে ৭২লক্ষ টাকার বিনিময়ে জলমহাল সাবলীজ দিয়েছেন। সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে আদালতে সাবলীজের একটি চুক্তিনামা দেখানো হয়। যাতে করে নিজেদের দখলে নিয়ে অন্যায় ভাবে আবারও ভোগ দখল করতে পারে। তাই এই চক্রটি ভুয়া সাবলীজের কাগজের মাধ্যমে প্রশাসন দিয়ে জলমহালের মাছ আহরণ বন্ধের নির্দেশনা দিয়ে লুটপাটের চেষ্টা করছেন বলে জানান সমিতির সভাপতি প্রজেশ লাল দাস। অভিযোগকারী মৎস্যজীবীরা বলেন, প্রতারক মো. ডালাস ও রুমেন মিয়া স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় জলমহালটি আমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি আমাদের নামে মিথ্যে অভিযোগ করে আদালতে মামলা করেছিল, আমরা সেই মামলার রায় পেয়েছি। তাই পুনরায় একই ভাবে আবার জলমহাল দখলের চেষ্টা করছে। উত্তর জারুলিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সভাপতি প্রজেশ লাল দাস বলেন, ৬ বছরের জন্য জলমহালটি সরকারের কাছ থেকে ইজারা গ্রহণ করেছি। আমরা পরিশ্রম করে এখানে মাছ চাষ করছি। সরকারকে রাজস্ব দিচ্ছি। কিন্তু এখানে অসাধু একটা চক্র জলমহালটি দখলে নেয়ার অপচেষ্টা করছে। আমরা চাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ন্যায় বিচার করুক।
এব্যাপারে মামলার বাদী রুমেন মিয়ার সাথে কথা বলতে তার মুঠোফোনে বার বার ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই তার বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।