ঢাকা ০২:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

সড়ক, নৌ ও রেলেপথে নিরাপত্তা জোরদার

হালিম মোহাম্মদ
  • আপডেট সময় : ৩৫ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঈদযাত্রায় রাজধানী থেকে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে আইন শৃংখলা বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। বিশেষ করে পুলিশ র‌্যাব, গোয়েন্দা এবং যৌথবাহিনী রাজধানীর প্রবেশ পথে নিরাপত্তা চৌকি বসিয়ে নজরদারি করছে। শুধু তাই নয়,বিশেষ করে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, রেলষ্টেশন ও বাস টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াত কেন্দ্রগুলোতে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হচ্ছে। যেখানে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অজ্ঞান-মলম পার্টি ও পকেটমারদের দমন করতে বিশেষ নজরদারি, টহল ও চেকপোস্ট ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি পশুর হাট ও ভিড় থাকে এমন এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আলাদা নিরাপত্তা দল কাজ করবে।
এই বিশেষ নিরাপত্তা কার্যক্রম ২২ মে থেকে শুরু হবে। এই নজরদারি ধাপে ধাপে নির্বিঘ্ন করবে যাতায়াতকেন্দ্রিক ব্যবস্থা । পশুর হাটগুলো ঈদের চারদিন আগে থেকে শুরু হয়ে নিরাপত্তার আওতায় থাকবে। পুরো ঈদযাত্রা চলাকালীন মাঠপর্যায়ে পুলিশি টহল ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হবে; যাতে যানজট ও ভোগান্তি কমে আসে। একই সঙ্গে সাধারণ জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিয়ম মেনে চলা, টিকিটে অনিয়ম এড়িয়ে যাওয়া এবং সন্দেহজনক কিছু দেখলে পুলিশকে জানানোকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সফলতার মূল চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ মনে করে, ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাত্রীরা যদি নিয়ম মেনে চলেন, টিকিট কালোবাজারি থেকে বিরত থাকেন এবং কোনো সন্দেহজনক পরিস্থিতি দেখলে পুলিশকে জানান, তাহলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে। জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতাই সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বড় ভূমিকা রাখে।
এসব বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, ঈদুল আজহা কেন্দ্র করে ঢাকা শহর থেকে দক্ষিণাঞ্চলের দিকে বিপুল সংখ্যক মানুষের যাতায়াত করে, বিশেষ করে সদরঘাট টার্মিনাল এবং সায়েদাবাদ গাবতলীসহ বাস টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। এই বিষয়টি মাথায় রেখে ঢাকা মহানগর পুলিশ আগে থেকেই সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে। লঞ্চ টার্মিনাল এব রেল ষ্টেশন, বাস টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াত কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। মানুষের যাত্রা যেন নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক এবং নির্বিঘ্ন হয়, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
তালেবুর রহমান আরো বলেন, বাস টার্মিনাল ও লঞ্চঘাটগুলোতে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। এসব ক্যাম্পে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। সার্বক্ষণিক নজরদারির মাধ্যমে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।
তিনি বলেন, ঈদের সময় গণপরিবহনে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি থাকবে। পাশাপাশি অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি এবং পকেটমারদের তৎপরতা রোধে আলাদা টিম কাজ করবে। পশুর হাটে থাকছে জাল নোট সনাক্তকরন পস মেশিন। এছাড়া নিয়মিত টহল এবং চেকপোস্ট বসিয়ে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। পাশাপাশি পশুর হাটগুলোতে যেন জনসাধারণের চলাচলে কোনো ধরনের সমস্যা না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ নজর রাখা হবে। হাটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আলাদা টিম কাজ করবে।
তিনি আরো বলেন, এখনো পশুর হাট শুরু হয়নি। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঈদের চারদিন আগে থেকে এসব হাট চালু হবে। হাট শুরুর পর থেকেই সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকবে, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়। ঈদযাত্রা কেন্দ্র করে শুধু টার্মিনাল নয়, পুরো সংশ্লিষ্ট এলাকায়ই পুলিশি টহল জোরদার করা হবে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানো থাকবে, যাতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এবং সন্দেহভাজন কার্যক্রম দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও স্বাভাবিক রাখতে আলাদা টিম কাজ করবে, যাতে যানজট ও ভোগান্তি কমে আসে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সড়ক, নৌ ও রেলেপথে নিরাপত্তা জোরদার

আপডেট সময় :

ঈদযাত্রায় রাজধানী থেকে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে আইন শৃংখলা বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। বিশেষ করে পুলিশ র‌্যাব, গোয়েন্দা এবং যৌথবাহিনী রাজধানীর প্রবেশ পথে নিরাপত্তা চৌকি বসিয়ে নজরদারি করছে। শুধু তাই নয়,বিশেষ করে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, রেলষ্টেশন ও বাস টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াত কেন্দ্রগুলোতে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হচ্ছে। যেখানে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অজ্ঞান-মলম পার্টি ও পকেটমারদের দমন করতে বিশেষ নজরদারি, টহল ও চেকপোস্ট ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি পশুর হাট ও ভিড় থাকে এমন এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আলাদা নিরাপত্তা দল কাজ করবে।
এই বিশেষ নিরাপত্তা কার্যক্রম ২২ মে থেকে শুরু হবে। এই নজরদারি ধাপে ধাপে নির্বিঘ্ন করবে যাতায়াতকেন্দ্রিক ব্যবস্থা । পশুর হাটগুলো ঈদের চারদিন আগে থেকে শুরু হয়ে নিরাপত্তার আওতায় থাকবে। পুরো ঈদযাত্রা চলাকালীন মাঠপর্যায়ে পুলিশি টহল ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হবে; যাতে যানজট ও ভোগান্তি কমে আসে। একই সঙ্গে সাধারণ জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিয়ম মেনে চলা, টিকিটে অনিয়ম এড়িয়ে যাওয়া এবং সন্দেহজনক কিছু দেখলে পুলিশকে জানানোকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সফলতার মূল চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ মনে করে, ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাত্রীরা যদি নিয়ম মেনে চলেন, টিকিট কালোবাজারি থেকে বিরত থাকেন এবং কোনো সন্দেহজনক পরিস্থিতি দেখলে পুলিশকে জানান, তাহলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে। জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতাই সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বড় ভূমিকা রাখে।
এসব বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, ঈদুল আজহা কেন্দ্র করে ঢাকা শহর থেকে দক্ষিণাঞ্চলের দিকে বিপুল সংখ্যক মানুষের যাতায়াত করে, বিশেষ করে সদরঘাট টার্মিনাল এবং সায়েদাবাদ গাবতলীসহ বাস টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। এই বিষয়টি মাথায় রেখে ঢাকা মহানগর পুলিশ আগে থেকেই সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে। লঞ্চ টার্মিনাল এব রেল ষ্টেশন, বাস টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াত কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। মানুষের যাত্রা যেন নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক এবং নির্বিঘ্ন হয়, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
তালেবুর রহমান আরো বলেন, বাস টার্মিনাল ও লঞ্চঘাটগুলোতে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। এসব ক্যাম্পে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। সার্বক্ষণিক নজরদারির মাধ্যমে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।
তিনি বলেন, ঈদের সময় গণপরিবহনে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি থাকবে। পাশাপাশি অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি এবং পকেটমারদের তৎপরতা রোধে আলাদা টিম কাজ করবে। পশুর হাটে থাকছে জাল নোট সনাক্তকরন পস মেশিন। এছাড়া নিয়মিত টহল এবং চেকপোস্ট বসিয়ে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। পাশাপাশি পশুর হাটগুলোতে যেন জনসাধারণের চলাচলে কোনো ধরনের সমস্যা না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ নজর রাখা হবে। হাটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আলাদা টিম কাজ করবে।
তিনি আরো বলেন, এখনো পশুর হাট শুরু হয়নি। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঈদের চারদিন আগে থেকে এসব হাট চালু হবে। হাট শুরুর পর থেকেই সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকবে, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়। ঈদযাত্রা কেন্দ্র করে শুধু টার্মিনাল নয়, পুরো সংশ্লিষ্ট এলাকায়ই পুলিশি টহল জোরদার করা হবে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানো থাকবে, যাতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এবং সন্দেহভাজন কার্যক্রম দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও স্বাভাবিক রাখতে আলাদা টিম কাজ করবে, যাতে যানজট ও ভোগান্তি কমে আসে।