ঢাকা ০২:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬

সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে দুই শ্রমিকের মৃত্যু

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২০ বার পড়া হয়েছে

oppo_0

দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে কর্মরত দুই শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল সোমবার সকালে কুমিরা উপকূলীয় এলাকা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের একজনের মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড অবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় ঘটনার প্রকৃতি নিয়ে দেখা দিয়েছে একাধিক প্রশ্ন ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য।
নিহত দুই শ্রমিক হলেন—গাইবান্ধা জেলার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম (৩৮) ও আবদুল খালেক (৩৪)।
তারা স্থানীয় কেআর শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর মধ্যে সাইফুল ইসলামের মরদেহ পাওয়া যায় মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায়, যা ঘটনার ভয়াবহতা আরও বাড়িয়ে তোলে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিস কুমিরা স্টেশনের একটি উদ্ধারকারী দল উপকূলীয় সাগর এলাকা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। প্রাথমিক তথ্যে দাবি করা হয়, রোববার রাতে নিহতরা একটি ছোট নৌকা (লাল বোট) নিয়ে কারখানা সংলগ্ন সাগরে নিয়মিত টহলে ছিলেন।
ফায়ার সার্ভিসের ভাষ্যমতে, ওই সময় একদল ডাকাত মালামাল লুটের উদ্দেশ্যে কারখানা এলাকায় প্রবেশ করলে নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের বাধা দেন। এতে ডাকাতদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে একজন নিহত হন এবং আতঙ্কে সাগরে ঝাঁপ দিলে অপর শ্রমিকের মৃত্যু হয়।
ফায়ার সার্ভিস কুমিরা স্টেশনের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা আল মামুন জানান, ঘটনার সময় আশরাফুল ইসলাম ও রুবেল হাসান নামের আরও দুই শ্রমিক সাগরে পড়ে গেলেও পরে তাদের জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
তবে ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন ও আরও ভয়াবহ দাবি করেছেন কেআর শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সৈয়দ। তিনি বলেন, গভীর রাতে দুইটি বোটে করে দেশীয় অস্ত্রধারী ডাকাতরা কারখানায় চুরির উদ্দেশ্যে আসে। বিষয়টি টের পেয়ে চারজন নিরাপত্তাকর্মী একটি বোট নিয়ে তাদের ধাওয়া করলে ডাকাতদের হাতে থাকা অস্ত্র দেখে আতঙ্কিত হয়ে দুইজন শ্রমিক সাগরে ঝাঁপ দেন। এরপর ডাকাতরা বাকি দুই নিরাপত্তাকর্মীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, এই ঘটনার বিষয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন মত দিয়েছেন জাহাজভাঙা শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, এটি ডাকাতির ঘটনা নয় বরং দুর্ঘটনা। তাদের ভাষ্যমতে, রাতে কারখানায় নতুন একটি জাহাজ বিচিংয়ের সময় জাহাজের ধাক্কায় শ্রমিকদের ব্যবহৃত নৌকাটি ভেঙে যায়। এতে নৌকায় থাকা শ্রমিকরা সাগরে পড়ে গেলে দুজনের মৃত্যু হয় এবং একজনের মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে শিল্প পুলিশের পরিদর্শক নাহিদ হাসান মৃধা বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে জাহাজভাঙা শিল্পে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও রাতের কার্যক্রম নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে দুই শ্রমিকের মৃত্যু

আপডেট সময় :

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে কর্মরত দুই শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল সোমবার সকালে কুমিরা উপকূলীয় এলাকা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের একজনের মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড অবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় ঘটনার প্রকৃতি নিয়ে দেখা দিয়েছে একাধিক প্রশ্ন ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য।
নিহত দুই শ্রমিক হলেন—গাইবান্ধা জেলার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম (৩৮) ও আবদুল খালেক (৩৪)।
তারা স্থানীয় কেআর শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর মধ্যে সাইফুল ইসলামের মরদেহ পাওয়া যায় মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায়, যা ঘটনার ভয়াবহতা আরও বাড়িয়ে তোলে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিস কুমিরা স্টেশনের একটি উদ্ধারকারী দল উপকূলীয় সাগর এলাকা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। প্রাথমিক তথ্যে দাবি করা হয়, রোববার রাতে নিহতরা একটি ছোট নৌকা (লাল বোট) নিয়ে কারখানা সংলগ্ন সাগরে নিয়মিত টহলে ছিলেন।
ফায়ার সার্ভিসের ভাষ্যমতে, ওই সময় একদল ডাকাত মালামাল লুটের উদ্দেশ্যে কারখানা এলাকায় প্রবেশ করলে নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের বাধা দেন। এতে ডাকাতদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে একজন নিহত হন এবং আতঙ্কে সাগরে ঝাঁপ দিলে অপর শ্রমিকের মৃত্যু হয়।
ফায়ার সার্ভিস কুমিরা স্টেশনের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা আল মামুন জানান, ঘটনার সময় আশরাফুল ইসলাম ও রুবেল হাসান নামের আরও দুই শ্রমিক সাগরে পড়ে গেলেও পরে তাদের জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
তবে ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন ও আরও ভয়াবহ দাবি করেছেন কেআর শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সৈয়দ। তিনি বলেন, গভীর রাতে দুইটি বোটে করে দেশীয় অস্ত্রধারী ডাকাতরা কারখানায় চুরির উদ্দেশ্যে আসে। বিষয়টি টের পেয়ে চারজন নিরাপত্তাকর্মী একটি বোট নিয়ে তাদের ধাওয়া করলে ডাকাতদের হাতে থাকা অস্ত্র দেখে আতঙ্কিত হয়ে দুইজন শ্রমিক সাগরে ঝাঁপ দেন। এরপর ডাকাতরা বাকি দুই নিরাপত্তাকর্মীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, এই ঘটনার বিষয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন মত দিয়েছেন জাহাজভাঙা শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, এটি ডাকাতির ঘটনা নয় বরং দুর্ঘটনা। তাদের ভাষ্যমতে, রাতে কারখানায় নতুন একটি জাহাজ বিচিংয়ের সময় জাহাজের ধাক্কায় শ্রমিকদের ব্যবহৃত নৌকাটি ভেঙে যায়। এতে নৌকায় থাকা শ্রমিকরা সাগরে পড়ে গেলে দুজনের মৃত্যু হয় এবং একজনের মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে শিল্প পুলিশের পরিদর্শক নাহিদ হাসান মৃধা বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে জাহাজভাঙা শিল্পে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও রাতের কার্যক্রম নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।