ঢাকা ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

‘স্বৈরাচার পালিয়ে গেলেও অদৃশ্য অশুভ শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠছে’

কাঞ্চন সিকদার, কিশোরগঞ্জ
  • আপডেট সময় : ১৩৩ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার কয়েকদিন পর আমি জেলা ও থানা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃন্দের সঙ্গে ভাগে ভাগে মিটিংয়ে বসেছিলাম। তখন একটি কথা আমি বলেছিলাম স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে , কিন্তু অদৃশ্য অশুভ শক্তি কিন্ত মাথাচাড়া দিয়ে ওঠবে। আমার এক বছর আগের কথা কিন্তু আজ ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে। যে স্বৈারাচার মানুষের টুঁটি চেপে ধরেছিল, গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তারা কিছু সংস্কারের প্রস্তাবনা দিয়েছে। এই সংস্কার প্রস্তাবের প্রায় ৯০/৯৫ শতাংশ অনেক আগে জনগণের সামনে উপস্থাপনা করেছিল বিএনপি। কোন কোন বিষয়ে হয়তো অন্য কারো সাথে আমাদের মতপার্থক্য রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার, ভোটের অধিকার এবং বাংলাদেশের মানুষের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে মনুষের বেঁচে থাকার অধিকারের প্রশ্নে বিএনপি কারো সাথে কেনো দ্বিমত পোষণ করে না।
গতকাল শনিবার বিকালে তারেক জিয়া কিশোরগঞ্জ পুরাতন স্টেডিয়ামে জেলা বিএনপির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন। জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, বিশেষ অতিথি ছিলেন যুগ্ম-মহাসচিব এমরান সালেহ প্রিন্স, কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ওয়ারেছ আলী মামুন ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল ওয়াহাব আকন্দ। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম ও সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।
তারেক রহমান বলেন, শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা, নারীদের স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলা, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ইত্যাদি কাজগুলো যদি করতে হয়. তাহলে অবশই জনগণের রায়ের ভিত্তিতে একটি সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সেই সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আগমী বছরের প্রথমার্ধে নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে যে নির্বাচনটি হবে, গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে যে কোনো মূল্যে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
সম্মেলনের উদ্বোধক মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন. আজকে বিএনপির বিরুদ্ধে একটি বিশেষ মহল থেকে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সেই মহলটি চায় বিএনপি যেন রাষ্ট্র পরিচালনা না আসতে পারে। শহিদ জিয়া একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় শাসনব্যবস্থার কয়েম করেছিলেন। এটা ছিল একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও তিনি যুগান্তকারী সংষ্কার করেছিলেন, তিনি গার্মেন্টস শিল্পের উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। শিক্ষা, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার ভূমিকা ছিল অনন্য।
সম্মেলন উপলক্ষ্যে সকাল থেকেই শহরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছিল। সকাল ১০টার পর বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন থেকে মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা মাঠে প্রবেশ করে। দুপুরের মধ্যে মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
উল্লেখ্য, সদস্যপদ স্থগিত হওয়া চেয়ারপার্সনের সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট
ফজলুর রহমানকে মঞ্চে দেখতে পাওয়া যায়নি। যদিও তিনি সাংবাদিকদের নিকট সম্মেলনে উপস্থিত থাকার আকাঙ্খা ব্যক্ত করেছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

‘স্বৈরাচার পালিয়ে গেলেও অদৃশ্য অশুভ শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠছে’

আপডেট সময় :

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার কয়েকদিন পর আমি জেলা ও থানা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃন্দের সঙ্গে ভাগে ভাগে মিটিংয়ে বসেছিলাম। তখন একটি কথা আমি বলেছিলাম স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে , কিন্তু অদৃশ্য অশুভ শক্তি কিন্ত মাথাচাড়া দিয়ে ওঠবে। আমার এক বছর আগের কথা কিন্তু আজ ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে। যে স্বৈারাচার মানুষের টুঁটি চেপে ধরেছিল, গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তারা কিছু সংস্কারের প্রস্তাবনা দিয়েছে। এই সংস্কার প্রস্তাবের প্রায় ৯০/৯৫ শতাংশ অনেক আগে জনগণের সামনে উপস্থাপনা করেছিল বিএনপি। কোন কোন বিষয়ে হয়তো অন্য কারো সাথে আমাদের মতপার্থক্য রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার, ভোটের অধিকার এবং বাংলাদেশের মানুষের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে মনুষের বেঁচে থাকার অধিকারের প্রশ্নে বিএনপি কারো সাথে কেনো দ্বিমত পোষণ করে না।
গতকাল শনিবার বিকালে তারেক জিয়া কিশোরগঞ্জ পুরাতন স্টেডিয়ামে জেলা বিএনপির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন। জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, বিশেষ অতিথি ছিলেন যুগ্ম-মহাসচিব এমরান সালেহ প্রিন্স, কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ওয়ারেছ আলী মামুন ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল ওয়াহাব আকন্দ। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম ও সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।
তারেক রহমান বলেন, শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা, নারীদের স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলা, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ইত্যাদি কাজগুলো যদি করতে হয়. তাহলে অবশই জনগণের রায়ের ভিত্তিতে একটি সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সেই সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আগমী বছরের প্রথমার্ধে নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে যে নির্বাচনটি হবে, গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে যে কোনো মূল্যে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
সম্মেলনের উদ্বোধক মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন. আজকে বিএনপির বিরুদ্ধে একটি বিশেষ মহল থেকে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সেই মহলটি চায় বিএনপি যেন রাষ্ট্র পরিচালনা না আসতে পারে। শহিদ জিয়া একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় শাসনব্যবস্থার কয়েম করেছিলেন। এটা ছিল একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও তিনি যুগান্তকারী সংষ্কার করেছিলেন, তিনি গার্মেন্টস শিল্পের উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। শিক্ষা, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার ভূমিকা ছিল অনন্য।
সম্মেলন উপলক্ষ্যে সকাল থেকেই শহরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছিল। সকাল ১০টার পর বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন থেকে মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা মাঠে প্রবেশ করে। দুপুরের মধ্যে মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
উল্লেখ্য, সদস্যপদ স্থগিত হওয়া চেয়ারপার্সনের সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট
ফজলুর রহমানকে মঞ্চে দেখতে পাওয়া যায়নি। যদিও তিনি সাংবাদিকদের নিকট সম্মেলনে উপস্থিত থাকার আকাঙ্খা ব্যক্ত করেছিলেন।