হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে বন্যা
- আপডেট সময় : ৩০ বার পড়া হয়েছে
* অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর নির্দেশনা হুইপ জি কে গউছ এমপির
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় গতকাল শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ এমপি। কালীগঞ্জ এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শনকালে তিনি খোয়াই নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনকালে হুইপ জি কে গউছ এমপি জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজকে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়ে বলেন, “গুটিকয়েক মানুষের অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে আজ কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।” পরে তিনি বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ৯টার দিকে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার চরহামুয়া-কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর পূর্ব তীরের বাঁধ ভেঙে যায়। এতে মুহূর্তেই নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে অন্তত ২০ থেকে ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয় এবং কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। রাতভর নতুন নতুন এলাকায় বন্যার পানি ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর চরহামুয়া, কালীগঞ্জসহ আশপাশের এলাকার ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যায়। আকস্মিক বন্যায় অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু স্থানে চলে যান। পর্যাপ্ত সরকারি আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় অনেকে স্থানীয় স্কুল ও মাদ্রাসায় আশ্রয় নিয়েছেন। পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় ১০ নম্বর লস্করপুর, ৪ নম্বর পইল ও ৩ নম্বর তেঘরিয়া ইউনিয়নসহ ভাটি অঞ্চলের বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খোয়াই নদী থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে তীররক্ষা বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ে। পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোত সেই দুর্বল বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। লস্করপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উজ্জ্বল মিয়া বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণেই বাঁধটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত প্রবল পানির চাপে সেটি ভেঙে লোকালয় প্লাবিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় এড়াতে খোয়াই নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।”
বাঁধ ভাঙার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জেলা প্রশাসনের একটি বিশেষ টিম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখে দুর্গত মানুষের মাঝে দ্রুত সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এদিকে খোয়াই নদীর মাছুলিয়া পয়েন্টও চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। জরুরি সহায়তার জন্য ৫ লাখ টাকা, ১০০ টন চাল এবং ১,৮২০ প্যাকেট শুকনো খাবার মজুদ রাখা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দ্রুত স্থায়ীভাবে সংস্কার, অবৈধ বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ বন্ধ এবং দুর্গত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।


















