ঢাকা ০৪:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চাঁদপুরে ৫ কোটি টাকার নিষিদ্ধ জাল জব্দ করেছে কোস্টগার্ড Logo বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে আউটসোর্সিং নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ Logo ১৪০ বছরের সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে ভারী যান চলাচল বন্ধ Logo ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ হেক্টর ফসল, ৩৫ পয়েন্টে নদীভাঙন Logo সবুজ ক্যাম্পাস গড়তে প্লাস্টিক বর্জন ও বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে Logo নোয়াখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মসজিদের খতিবের মৃত্যু Logo নোয়াখালীতে শিশু আসমা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় তৃতীয় দফায় পেছালো Logo নোয়াখালীতে সড়কে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং Logo নেত্রকোনায় পৌরশহরের রাস্তায় যানজট, সীমাহীন দুর্ভোগ Logo আদমদীঘিতে কীটনাশক ঔষধের দোকানে দু:সাহসিক চুরি

হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের পুকুর ইজারায় নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২৮ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের পুকুর ইজারা কার্যক্রমে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক দরদাতা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মার্চ পত্রিকায় জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ৩৪টি পুকুর ইজারা প্রদানের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ৫ এপ্রিল তারা সহ শতাধিক ব্যক্তি ১ হাজার টাকা মূল্যে দরপত্র ক্রয় করেন এবং ৬ এপ্রিল বিধি মোতাবেক পে-অর্ডারসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। দরপত্র বাক্স খোলার পর দেখা যায় প্রায় সব পুকুরের বিপরীতে একাধিক দরদাতা অংশগ্রহণ করেছেন এবং সবাই সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দর দিয়েছেন। এর মধ্যে রুদ্রপুর পুকুরের সরকারি মূল্য ৩ হাজার টাকা হলেও ৫০ হাজার টাকা দর দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হন আব্দুল আলী লাল মিয়া। পঞ্চাশ পুকুরে ৫৩ হাজার ২০০ টাকা দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হন আব্দুল মুহিন। বাখরনগর পুকুরে ৪০ হাজার টাকা দর দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হন কুতুব আলী।
কিন্তু ৯ এপ্রিল জেলা পরিষদের এক কর্মচারী তাদের মুঠোফোনে জানায় যে, তাদেরসহ কারোরই দরপত্র গৃহীত হয়নি এবং পুনরায় ইজারা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। পরে জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, জমা দেওয়া দর ‘মনঃপূত না হওয়ায়’ পুনরায় টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে।
পরবর্তীতে ১২ এপ্রিল আবার দরপত্র ক্রয় করে ১৩ এপ্রিল জমা দিলে তারা বিভিন্ন পুকুরে পুনরায় সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হন। কিন্তু কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই একটি পুকুর ব্যতীত সকল পুকুরের দরপত্র বাতিল করে পুনঃইজারার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অভিযোগকারীদের একজন কুতুব আলী বলেন, “বারবার দরপত্র বাতিল করে আমাদের দিয়ে শিডিউল কিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যা মূলত শিডিউল বাণিজ্যের শামিল।” অপর দরদাতা শহীদুল ইসলাম শহীদ বলেন, “আমরা বারবার নিলামে অংশগ্রহণ করে সর্বোচ্চ দরদাতা হয়েও ইজারা পাচ্ছি না। এতে অংশগ্রহণকারী দরদাতারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।” এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে তারা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা অরুণ কৃষ্ণ পালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “নিলামে সিন্ডিকেট ভাঙার জন্য পুনঃইজারা দেওয়া হয়েছে।” লিখিত অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “অভিযোগ যে কেউ দিতেই পারে। আমি দোষী হলে তদন্ত সাপেক্ষে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”
একই বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক আহমেদ আলী বলেন, “আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। পরিষদের আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করতে বলা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ দরদাতাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তবে কোথাও ভুল হয়ে থাকলে ভবিষ্যতে তা সংশোধন করা হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের পুকুর ইজারায় নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ

আপডেট সময় :

হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের পুকুর ইজারা কার্যক্রমে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক দরদাতা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মার্চ পত্রিকায় জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ৩৪টি পুকুর ইজারা প্রদানের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ৫ এপ্রিল তারা সহ শতাধিক ব্যক্তি ১ হাজার টাকা মূল্যে দরপত্র ক্রয় করেন এবং ৬ এপ্রিল বিধি মোতাবেক পে-অর্ডারসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। দরপত্র বাক্স খোলার পর দেখা যায় প্রায় সব পুকুরের বিপরীতে একাধিক দরদাতা অংশগ্রহণ করেছেন এবং সবাই সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দর দিয়েছেন। এর মধ্যে রুদ্রপুর পুকুরের সরকারি মূল্য ৩ হাজার টাকা হলেও ৫০ হাজার টাকা দর দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হন আব্দুল আলী লাল মিয়া। পঞ্চাশ পুকুরে ৫৩ হাজার ২০০ টাকা দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হন আব্দুল মুহিন। বাখরনগর পুকুরে ৪০ হাজার টাকা দর দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হন কুতুব আলী।
কিন্তু ৯ এপ্রিল জেলা পরিষদের এক কর্মচারী তাদের মুঠোফোনে জানায় যে, তাদেরসহ কারোরই দরপত্র গৃহীত হয়নি এবং পুনরায় ইজারা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। পরে জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, জমা দেওয়া দর ‘মনঃপূত না হওয়ায়’ পুনরায় টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে।
পরবর্তীতে ১২ এপ্রিল আবার দরপত্র ক্রয় করে ১৩ এপ্রিল জমা দিলে তারা বিভিন্ন পুকুরে পুনরায় সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হন। কিন্তু কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই একটি পুকুর ব্যতীত সকল পুকুরের দরপত্র বাতিল করে পুনঃইজারার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অভিযোগকারীদের একজন কুতুব আলী বলেন, “বারবার দরপত্র বাতিল করে আমাদের দিয়ে শিডিউল কিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যা মূলত শিডিউল বাণিজ্যের শামিল।” অপর দরদাতা শহীদুল ইসলাম শহীদ বলেন, “আমরা বারবার নিলামে অংশগ্রহণ করে সর্বোচ্চ দরদাতা হয়েও ইজারা পাচ্ছি না। এতে অংশগ্রহণকারী দরদাতারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।” এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে তারা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা অরুণ কৃষ্ণ পালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “নিলামে সিন্ডিকেট ভাঙার জন্য পুনঃইজারা দেওয়া হয়েছে।” লিখিত অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “অভিযোগ যে কেউ দিতেই পারে। আমি দোষী হলে তদন্ত সাপেক্ষে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”
একই বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক আহমেদ আলী বলেন, “আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। পরিষদের আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করতে বলা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ দরদাতাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তবে কোথাও ভুল হয়ে থাকলে ভবিষ্যতে তা সংশোধন করা হবে।”