৭৩ বছর পর ছোনকা বিদ্যালয়ে বাণিজ্য বিভাগের অনুমোদন
- আপডেট সময় : ১৬ বার পড়া হয়েছে
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ছোনকা দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠার ৭৩ বছর পর সরকারিভাবে বাণিজ্য (ব্যবসায় শিক্ষা) বিভাগের অনুমোদন মিলেছে। ফলে বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগের পাশাপাশি এখন থেকে শিক্ষার্থীরা বাণিজ্য বিভাগেও পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছেন। এ খবরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘ছোনকা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়’ করার দাবি উঠেছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, নতুন বিভাগ চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বেড়েছে। অনেক শিক্ষার্থী জানান, আগে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পড়তে অন্য প্রতিষ্ঠানে যেতে হতো। এখন নিজ বিদ্যালয়েই সেই সুযোগ পাওয়ায় সময়, খরচ ও ভোগান্তি কমবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে শুরু থেকেই বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগে পাঠদান চালু ছিল। ১৯৯০-এর দশকে হিসাববিজ্ঞান পড়ানো হলেও সরকারিভাবে বাণিজ্য বিভাগের অনুমোদন না থাকায় শিক্ষার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিভাগে ভর্তি হতে পারতেন না।
বিদ্যালয় সূত্র জানায়, প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নেন। তাঁর প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টি এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রের স্বীকৃতি লাভের পাশাপাশি চলতি বছরের ৫ মে সরকারিভাবে বাণিজ্য বিভাগের অনুমোদন পায়। তবে শিক্ষাবর্ষের মাঝামাঝি সময়ে অনুমোদন পাওয়ায় এ বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি তুলনামূলক কম হয়েছে।
বর্তমানে সহকারী প্রধান শিক্ষক জুলফিকার আলী (রিপন) ও অপর একজন শিক্ষক বাণিজ্য বিভাগের পাঠদান পরিচালনা করছেন। তবে বিভাগটি পূর্ণাঙ্গভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বাণিজ্য বিভাগের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষক চেয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রস্তাব আকারে উপস্থাপন করা হবে।
বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা আলমগীর বলেন, বাণিজ্য বিভাগের জন্য শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হবে। এ বিভাগের অনুমোদনের ফলে এলাকার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ এবং অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করা হলে বিদ্যালয়টি ভবিষ্যতে একটি পূর্ণাঙ্গ বহুমুখী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।
















