সুবর্ণচরের চর জব্বর ডিগ্রি কলেজে তালা
অধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
- আপডেট সময় : ৪০ বার পড়া হয়েছে
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চর জব্বর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ জামসেদুর রহমান কিসলুর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে কলেজে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা।
গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে তারা কলেজের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা “চোরে রান্ধে, চোরে খায়—ক্লাস শুরু কয়টায়” লেখা সম্মিলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে স্লোগান দেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, চলমান এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় নির্ধারিত ফি’র চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। বোর্ড নির্ধারিত ফি বিজ্ঞান বিভাগে ২ হাজার ৯৯৫ টাকা, মানবিক বিভাগে ২ হাজার ৪৩৫ টাকা এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২ হাজার ৪৩৫ টাকা হলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা করে আদায় করছে বলে অভিযোগ তাদের।
এ ছাড়া নামে-বেনামে বিভিন্ন ফি আদায়ে অনিয়ম, আর্থিক অস্বচ্ছতা এবং অধ্যক্ষের নিয়মিত নির্ধারিত সময়ে কলেজে উপস্থিত না থাকার অভিযোগও তোলেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, এসব কারণে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে তারা কলেজে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
এ বিষয়ে কলেজ গভর্নিং বডির সদস্য হেলাল উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যে ফি আদায় করা হচ্ছে সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।
স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি সিরাজ হায়দার বেলাল বলেন, “কলেজটি প্রতিষ্ঠার ৩২ বছরেও একটি ভালো অডিট হয়নি। শিক্ষার্থীদের নিরপেক্ষ অডিটের দাবিকে আমরা যৌক্তিক মনে করি। আশা করছি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ জামসেদুর রহমান কিসলু বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত আবেদন দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির সঙ্গে আমি একমত। তাদের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।”




















