ঢাকা ০৬:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

অযত্নে খালে পড়ে আছে ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স, বঞ্চিত চরাঞ্চলের মানুষ

রামগতি (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে চরআব্দুল্লাহ ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দকৃত একটি ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। কয়েক বছর ধরে অযত্ন-অবহেলায় খালের পাশে পড়ে থাকা এ অ্যাম্বুলেন্সটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পরিণত হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে মেঘনা নদীবেষ্টিত বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চরআব্দুল্লাহ ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ‘স্বপ্নযাত্রা’ প্রকল্পের আওতায় ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সটি সরবরাহ করা হয়। তবে সরবরাহের পর থেকে এটি কার্যকরভাবেব্যবহার করা যায়নি। বর্তমানে আলেকজান্ডার সেন্টার খাল এলাকায় অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে যানটি। এ সময়ের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সটির ইঞ্জিনসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে গেছে।চরআব্দুল্লাহ, চরগজারিয়া ও আশপাশের চরাঞ্চলে বসবাসকারী হাজারো মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা পুরোপুরি নৌপথনির্ভর। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এক গ্রামের সঙ্গে আরেক গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। গুরুতর অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে ট্রলার বা নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে সময়ের পাশাপাশি ব্যয়ও বেড়ে যায়—একটি ট্রলার ভাড়া করতে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয় এবং হাসপাতালে পৌঁছাতে সময় লাগে তিন ঘণ্টারও বেশি।স্থানীয় বাসিন্দা লিটনসহ কয়েকজন বলেন, ঝড়-বৃষ্টি বা জলোচ্ছ্বাসের সময় রোগী পরিবহন সবচেয়ে বেশি কষ্টকর হয়ে ওঠে। ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সটি চালু থাকলে চরাঞ্চলের গরিব মানুষের জন্য বড় উপকার হতো।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামনাশীষ মজুমদার বলেন, অনেক আগে অ্যাম্বুলেন্সটি সরবরাহ করা হলেও এটি স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়ন্ত্রণে নেই; উপজেলা পরিষদের অধীনেই রয়েছে।এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

অযত্নে খালে পড়ে আছে ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স, বঞ্চিত চরাঞ্চলের মানুষ

আপডেট সময় :

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে চরআব্দুল্লাহ ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দকৃত একটি ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। কয়েক বছর ধরে অযত্ন-অবহেলায় খালের পাশে পড়ে থাকা এ অ্যাম্বুলেন্সটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পরিণত হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে মেঘনা নদীবেষ্টিত বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চরআব্দুল্লাহ ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ‘স্বপ্নযাত্রা’ প্রকল্পের আওতায় ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সটি সরবরাহ করা হয়। তবে সরবরাহের পর থেকে এটি কার্যকরভাবেব্যবহার করা যায়নি। বর্তমানে আলেকজান্ডার সেন্টার খাল এলাকায় অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে যানটি। এ সময়ের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সটির ইঞ্জিনসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে গেছে।চরআব্দুল্লাহ, চরগজারিয়া ও আশপাশের চরাঞ্চলে বসবাসকারী হাজারো মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা পুরোপুরি নৌপথনির্ভর। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এক গ্রামের সঙ্গে আরেক গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। গুরুতর অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে ট্রলার বা নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে সময়ের পাশাপাশি ব্যয়ও বেড়ে যায়—একটি ট্রলার ভাড়া করতে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয় এবং হাসপাতালে পৌঁছাতে সময় লাগে তিন ঘণ্টারও বেশি।স্থানীয় বাসিন্দা লিটনসহ কয়েকজন বলেন, ঝড়-বৃষ্টি বা জলোচ্ছ্বাসের সময় রোগী পরিবহন সবচেয়ে বেশি কষ্টকর হয়ে ওঠে। ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সটি চালু থাকলে চরাঞ্চলের গরিব মানুষের জন্য বড় উপকার হতো।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামনাশীষ মজুমদার বলেন, অনেক আগে অ্যাম্বুলেন্সটি সরবরাহ করা হলেও এটি স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়ন্ত্রণে নেই; উপজেলা পরিষদের অধীনেই রয়েছে।এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।