ঢাকা ১০:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬

কুড়িগ্রাম সীমান্তে ফেলানী হত্যার ন্যায় বিচারের আশায় পরিবার

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৯৬ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুড়িগ্রাম সীমান্তে কিশোরী ফেলানী হত্যার ১৫ বছর বুধবার। দেশ-বিদেশে আলোচিত এ নির্মম হত্যাকান্ডের বিচারিক কাজ ভারতের উচ্চ আদালতে ঝুলে থাকায় হতাশ বাবা-মাসহ স্থানীয়রা। এদিকে ফেলানী হত্যার ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সীমান্ত হত্যা বন্ধ হওয়ার প্রত্যাশা সীমান্তবাসীসহ আইন বিশেষজ্ঞদের।
১৫ বছর আগে কাঁটাতারের উপর বিএসএফ’র গুলিতে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হয় কিশোরী ফেলানী। এরপর থেকেই মেয়ে হারানোর স্মৃতি ও কবরকে অবলম্বন করে বেঁচে আছেন মা-বাবা। এ হত্যাকান্ডের ১৫ বছর পেরুলেও ভারতের উচ্চ আদালতের দিকে ন্যায় বিচারের আশায় তাকিয়ে আছেন তারা।
২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে বাবার সাথে কাঁটাতারের বেড়া পাড়ি দেয়ার সময় বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হয় বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী খাতুন। দীর্ঘ সময় কাঁটাতারে ঝুলে থাকা ফেলানীর লাশের ছবি দেশে-বিদেশে সমালোচনার ঝড় তোলে। সমালোচনার মুখে ২০১৩ সালের ১৩ আগষ্ট ভারতের কোচবিহারের বিএসএফ’র বিশেষ আদালতে এ হত্যাকান্ডের বিচার শুরু হলে দু’দফায় অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেয় আদালত। এরপর ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই ভারতীয় মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম) এর মাধ্যমে ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম ভারতের উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করেন। পিটিশনের ভিত্তিতে কয়েক দফায় শুনানীর দিন পিছালেও এখনও আদালতেই ঝুলে আছে বিচারিক কাজ। নির্মম এ হত্যান্ডের ন্যায় বিচার চান পরিবার।
ফেলানী মা জাহানারা বেগম বলেন, প্রতি বছর ৭ জানুয়ারি আসলেই ফেলানীর বুক ফেটে কান্না আসে। ন্যায বিচারের মাধ্যমে বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের ফাঁসি হলে আত্মা শান্তি পাবে জানায় ফেরানীর মা। এজন্য ভারতের উচ্চ আদালতের দিকে তাকিয়ে থাকার কথাও জানান তিনি।
ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম জানায়, ফেলানী হত্যার ১৫ বছর পেরিয়ে গেল কিন্তু এখনও ন্যায় বিচার পেলাম না। কয়েকবার ভারতে স্বাক্ষী দেযার পাশাপাশি ভারতে উচ্চ আদালতে রিটপিটিশন দাখিল করার কথা জানান তিনি। দাখিলকৃত পিটিশনের ভিত্তিতে ন্যায় বিচার পাওয়ার আশা করছেন বলে জানান তিনি।
নিহত ফেলানীর প্রতিবেশি আলামিন জানায়, দেশ-বিদেশে আলোচিত ফেলানী হত্যার ন্যয় বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সীমান্ত হত্যা বন্ধের আশা করছি। এ হত্যাকান্ডের ন্যায় বিচার হলে সীমান্তে আর এমন নির্মম হত্যাকান্ড সংঘটিত হবে না বলে জানান তিনি।
ভারতের সুপ্রিমকোর্টে দাখিল করা রিট পিটিশনটির শুনানী এখনও হয়নি। অভিযুক্তকে সাঁজার মাধ্যমে পিটিশনটি নিস্পত্তি করা হলে দু’দেশের দীর্ঘ সীমান্তে হত্যার ঘটনা কমে আসার কথা জানায় এ বিজ্ঞ আইনজীবির।
কুড়িগ্রামের সিনিয়র আইনজীবি ও জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি এডভোকেট ফখরুল ইসলাম জানায়, ভারতের আদালতে ফেলানী হত্যাকারী অমিয় ঘোষের বিচার করতে পারলে বিএসএফ সদস্যরা আর এমন হত্যাকান্ডের মতো অপরাধ করতে সাহস পাবে না। পলে সীমান্তে হত্যাকান্ড বন্ধ হবে।
নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কলনিটারী গ্রামের নুর ইসলাম ও জাহানারা দম্পতির ৮ সন্তানের মধ্যে সবার বড় ফেলানী। পরিবারের অভাব অনটনে কাজের সন্ধানে স্বপরিবারে ভারতে চলে যান তারা। পরে ফেলানীকে বিয়ে দিতে দাদালের মাধ্যমে দেশে ফেরার সময় এ হত্যাকান্ডের শিকার হয় ফেলানী।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

কুড়িগ্রাম সীমান্তে ফেলানী হত্যার ন্যায় বিচারের আশায় পরিবার

আপডেট সময় :

কুড়িগ্রাম সীমান্তে কিশোরী ফেলানী হত্যার ১৫ বছর বুধবার। দেশ-বিদেশে আলোচিত এ নির্মম হত্যাকান্ডের বিচারিক কাজ ভারতের উচ্চ আদালতে ঝুলে থাকায় হতাশ বাবা-মাসহ স্থানীয়রা। এদিকে ফেলানী হত্যার ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সীমান্ত হত্যা বন্ধ হওয়ার প্রত্যাশা সীমান্তবাসীসহ আইন বিশেষজ্ঞদের।
১৫ বছর আগে কাঁটাতারের উপর বিএসএফ’র গুলিতে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হয় কিশোরী ফেলানী। এরপর থেকেই মেয়ে হারানোর স্মৃতি ও কবরকে অবলম্বন করে বেঁচে আছেন মা-বাবা। এ হত্যাকান্ডের ১৫ বছর পেরুলেও ভারতের উচ্চ আদালতের দিকে ন্যায় বিচারের আশায় তাকিয়ে আছেন তারা।
২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে বাবার সাথে কাঁটাতারের বেড়া পাড়ি দেয়ার সময় বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হয় বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী খাতুন। দীর্ঘ সময় কাঁটাতারে ঝুলে থাকা ফেলানীর লাশের ছবি দেশে-বিদেশে সমালোচনার ঝড় তোলে। সমালোচনার মুখে ২০১৩ সালের ১৩ আগষ্ট ভারতের কোচবিহারের বিএসএফ’র বিশেষ আদালতে এ হত্যাকান্ডের বিচার শুরু হলে দু’দফায় অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেয় আদালত। এরপর ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই ভারতীয় মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম) এর মাধ্যমে ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম ভারতের উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করেন। পিটিশনের ভিত্তিতে কয়েক দফায় শুনানীর দিন পিছালেও এখনও আদালতেই ঝুলে আছে বিচারিক কাজ। নির্মম এ হত্যান্ডের ন্যায় বিচার চান পরিবার।
ফেলানী মা জাহানারা বেগম বলেন, প্রতি বছর ৭ জানুয়ারি আসলেই ফেলানীর বুক ফেটে কান্না আসে। ন্যায বিচারের মাধ্যমে বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের ফাঁসি হলে আত্মা শান্তি পাবে জানায় ফেরানীর মা। এজন্য ভারতের উচ্চ আদালতের দিকে তাকিয়ে থাকার কথাও জানান তিনি।
ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম জানায়, ফেলানী হত্যার ১৫ বছর পেরিয়ে গেল কিন্তু এখনও ন্যায় বিচার পেলাম না। কয়েকবার ভারতে স্বাক্ষী দেযার পাশাপাশি ভারতে উচ্চ আদালতে রিটপিটিশন দাখিল করার কথা জানান তিনি। দাখিলকৃত পিটিশনের ভিত্তিতে ন্যায় বিচার পাওয়ার আশা করছেন বলে জানান তিনি।
নিহত ফেলানীর প্রতিবেশি আলামিন জানায়, দেশ-বিদেশে আলোচিত ফেলানী হত্যার ন্যয় বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সীমান্ত হত্যা বন্ধের আশা করছি। এ হত্যাকান্ডের ন্যায় বিচার হলে সীমান্তে আর এমন নির্মম হত্যাকান্ড সংঘটিত হবে না বলে জানান তিনি।
ভারতের সুপ্রিমকোর্টে দাখিল করা রিট পিটিশনটির শুনানী এখনও হয়নি। অভিযুক্তকে সাঁজার মাধ্যমে পিটিশনটি নিস্পত্তি করা হলে দু’দেশের দীর্ঘ সীমান্তে হত্যার ঘটনা কমে আসার কথা জানায় এ বিজ্ঞ আইনজীবির।
কুড়িগ্রামের সিনিয়র আইনজীবি ও জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি এডভোকেট ফখরুল ইসলাম জানায়, ভারতের আদালতে ফেলানী হত্যাকারী অমিয় ঘোষের বিচার করতে পারলে বিএসএফ সদস্যরা আর এমন হত্যাকান্ডের মতো অপরাধ করতে সাহস পাবে না। পলে সীমান্তে হত্যাকান্ড বন্ধ হবে।
নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কলনিটারী গ্রামের নুর ইসলাম ও জাহানারা দম্পতির ৮ সন্তানের মধ্যে সবার বড় ফেলানী। পরিবারের অভাব অনটনে কাজের সন্ধানে স্বপরিবারে ভারতে চলে যান তারা। পরে ফেলানীকে বিয়ে দিতে দাদালের মাধ্যমে দেশে ফেরার সময় এ হত্যাকান্ডের শিকার হয় ফেলানী।