গণভোটে সক্রিয় ভূমিকা, পুরস্কার শোকজ
- আপডেট সময় : ৫৯ বার পড়া হয়েছে
রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ায় তালতলী উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ মানজুরুল হক কাওছারকে শোকজ করার ঘটনায় বরগুনার তালতলী ও আমতলী উপজেলায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন এটি প্রশাসনের ভেতরের সমন্বয়হীনতা এবং দ্বৈতনীতির স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ।
জানা গেছে ১১ জানুয়ারি ২০২৬ গণভোটের প্রচার জোরদার এবং ভোটার সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভাগীয় পর্যায়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিভাগীয় কমিশনার সমাজসেবা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে মাঠপর্যায়ে দ্রুত উঠান বৈঠক ও জনসচেতনতামূলক সভা আয়োজনের নির্দেশ দেন।
এরপর ১২ জানুয়ারি আমতলী উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী। সভায় অংশগ্রহণ করেন সমাজসেবা বিভাগের সুবিধাভোগীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সভায় গণভোটে অংশগ্রহণের গুরুত্ব, নাগরিক দায়িত্ব এবং ভোটারদের সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অভিযোগ উঠেছে ওই কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালনের দিনই মোঃ মানজুরুল হক কাওছারকে তালতলী উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে অনুপস্থিত দেখিয়ে বরগুনা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোঃ শহিদুল ইসলাম শোকজ নোটিশ জারি করেছেন। স্থানীয়রা বলছেন দায়িত্ব পালনই শাস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঘটনাটি আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে ১২ জানুয়ারি দুপুর ১টা ১৪ মিনিটে বরগুনা জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ‘ডিএসএস বরগুনা এ টু জেট’-এ গণভোট সংক্রান্ত সভার ছবি ও তথ্য পোস্ট হওয়ার পরও শোকজ জারি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন সরকার গণভোট করতে বলেছে এর মানে এই নয় যে ওই দিন অফিস করবে না। কর্তৃপক্ষ এমন কোনো নির্দেশ দেয়নি। সপ্তাহে একদিন অফিসে যাওয়ার কথা থাকলেও ওই দিন গণভোট করতে হবে। এটি এক ধরনের দুষ্টামি।
স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন একজন কর্মকর্তাকে একই সঙ্গে আমতলী উপজেলায় মূল দায়িত্ব এবং তালতলী উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে সময় ও কাজের বাস্তবসম্মত সমন্বয় না করেই শোকজ জারি করা হয়েছে। এতে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং প্রশাসনের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেছেন ১২ জানুয়ারি আমতলী উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে গণভোট বিষয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আমি নিজেও সেখানে উপস্থিত ছিলাম। তারপরও কর্মকর্তা শোকজ। এটি আমার বোধগম্য নয়। জেনে-বুঝে দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল।
এদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অভিযোগ তুলেছেন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তি এখনও সরকারি দপ্তরে প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন। ওই চক্রই পরিকল্পিতভাবে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ মানজুরুল হক কাওছারকে শোকজ করেছে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের জোর দাবি অবিলম্বে শোকজ আদেশ প্রত্যাহার করতে হবে এবং বিভাগীয় নির্দেশ বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টির কারণ স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে। তারা সতর্ক করেছেন যারা মাঠপর্যায়ে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের এভাবে হেয় করা হলে ভবিষ্যতে প্রশাসনিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
স্থানীয়রা বলছেন এটি কেবল একজন কর্মকর্তাকে শোকজ করার ঘটনা নয় বরং প্রশাসনের ভেতরের সমন্বয়হীনতা, দ্বৈতনীতি ও দায় এড়ানোর বাস্তব চিত্র। রাষ্ট্রের নির্দেশ মানাই যদি প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন কীভাবে এই প্রশ্ন এখন সর্বত্র ঘুরপাক খাচ্ছে।

















