ঢাকা ০৬:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

দাগনভূঞা আতাতুর্ক সপ্রাবি নানাবিধ সমস্যায় চলছে পাঠদান -সমস্যা সমাধানের উদ্যেগ নেই প্রশাসনের 

শাখাওয়াত হোসেন টিপু, দাগনভূঞা  
  • আপডেট সময় : ১৭ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
ফেনীর দাগনভূঞা পৌর শহরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আতাতুর্ক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে বিভিন্ন সমস্যা থাকলেও নেয়া হয়নি কার্যকর কোন পদক্ষেপ। এদিকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জনিত গেইট নির্মাণ না করা, হাই স্কুলের নির্মিত সেপটি ট্রাংকের পয়ঃনিস্কাশনের দূর্ঘন্ধ, পৌরসভার আবর্জনা না নেয়া, জেনারেটরের বিকট শব্দ, সীমানা প্রাচীর নড়বড়ে পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও পাঠদানে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি অভিভাবকদের।
জানা যায়, দাগনভূঞা আতাতুর্ক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয় ১৯১৯ সালে। প্রতিষ্ঠার দীর্ঘবছর পরে ক্রমান্বয়ে এটিকে আধুনিকায়ন ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে বর্তমানে প্রায় ৯ শতাধিকের উপরে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছেন। দুই শিফটে ৪ বছরের উপরে ও ৫ বছরের উপরে প্রাক প্রাথমিক শিক্ষার্থী এবং দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা ক্লাস করেন সকাল ৯ টা থেকে পৌনে বারোটা পর্যন্ত। দ্বিতীয় শিফটে তৃতীয় থেকে ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা ক্লাস করেন দুপুর ১২.১০ মিনিট থেকে বিকেল ৪.১৫ মিনিট পর্যন্ত । শিক্ষার্থীদের আনুপাতিক হারে শিক্ষক রয়েছেন ১২ জন। বাড়তি চাপ প্রতিনিয়ত বাড়লে ও বাড়েনি শিক্ষকদের সংখ্যা। একদিকে উপজেলায় নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাশাপাশি প্রবাসীদের পরিবার বাসা বাড়িতে অবস্থানের কারন সন্তানদের লেখাপড়া করানো এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরি সুবাদে চাকুরীজীবি সন্তানদের পড়াশোনার অন্যতম সুবিধা হিসেবে এ বিদ্যালয়টিকে বেঁচে নেন। যার কারনে বাড়তি চাপ রয়েছে প্রতি বছর। এছাড়া আশপাশের স্থানীয়দের ও একই ইচ্ছে এ বিদ্যালয়ে সন্তানকে ভর্তি করানো। সীমিত পরিসর হলেও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা। আসন সংখ্যা বাড়ানো সহ শিক্ষকদের সংখ্যা বাড়ানোর ও দাবি তুলেছেন অনেকেই। এতগুলো কোমলমতি  শিক্ষার্থীদের বাহিরে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত অভিভাবকগন ও শিক্ষকরা। প্রধান গেইট নড়বড়ে পরিস্থিতিতে দাড়িয়ে আছে, সীমানা প্রাচীরের পাশেই বিভিন্ন অস্থায়ী দোকানপাট বসিয়েছেন অনেকেই। ফেনী নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে এ বিদ্যালয়। স্কুল ছুটির পর সড়ক পারাপারে রয়েছে ভয়াবহ ঝুঁকি। অভিভাবক এবং শিক্ষকদের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীরা রাস্তা পারাপার হয়ে থাকেন। বিদ্যালয় সড়ক থেকে নিচু হওয়ায় মাঠে জমে যায় বর্ষার সময় পানি। তাছাড়া নেই কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা। অন্যদিকে আতাতুর্ক সরকারি মডেল হাই স্কুল মার্কেটের বিশাল জেনারেটরের শব্দে শব্দদূষণ ও পাঠদানে রয়েছে মারাত্মক সমস্যা। এ জেনারেটর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেয়ালের পাশেই রাখা হয়েছে। পয়ঃনিষ্কাশনের দূর্ঘন্ধ ও জেনারেটরের বিকট শব্দ, ময়লা আবর্জনার স্তুপ রীতিমতো ভোগান্তির কারন। হাইস্কুল কতৃপক্ষকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অভিযোগ দেয়ার পরও নেয়া হয়নি কার্যকর কোন ভুমিকা কিংবা পদক্ষেপ। এমনটি চলছে বছরের পর বছর। এ পরিস্থিতিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান চলছে যথারীতি। ফলাফল ও পাঠদানে রয়েছে যথেষ্ট সুনাম ও রেকর্ড।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগন জানান, প্রাক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধ্যায়নরত সন্তানদের নিয়ে আসা এবং অপেক্ষা করে নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত বসে থাকি। বাহিরে নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং সিকিউরিটি না থাকায় সঙ্কিত আমরা। যখন তখন যে কেউ ভিতরে প্রবেশ করাটা নিরাপদ নয়। সড়কের পাশে সীমানা প্রাচীর ও গেইট লাগানোর দাবি জানান তারা।
আতাতুর্ক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা তামেন্দা আক্তার চৌধুরী জানান, সড়কের পাশে অর্ধেক বাউন্ডারি করা হয়েছে পৌরসভার সহযোগিতায়। বাকি কিছু অংশ টিন লাগিয়ে দেয়া হলেও তা পর্যাপ্ত সিকিউরিটি বলা যায়না। এ বিষয়ে বিস্তারিত অসুবিধাগুলো তুরস্ক থেকে আগত প্রতিনিধি ও পৌর প্রশাসক ইউএনও স্যারকে অবহিত করেছি। তিনি বাউন্ডারির অসমাপ্ত কাজ শীঘ্রই করে দিবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমরা সবাই নজরদারি সহ সড়ক যাতায়াতে সহযোগিতা করে থাকি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

দাগনভূঞা আতাতুর্ক সপ্রাবি নানাবিধ সমস্যায় চলছে পাঠদান -সমস্যা সমাধানের উদ্যেগ নেই প্রশাসনের 

আপডেট সময় :
ফেনীর দাগনভূঞা পৌর শহরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আতাতুর্ক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে বিভিন্ন সমস্যা থাকলেও নেয়া হয়নি কার্যকর কোন পদক্ষেপ। এদিকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জনিত গেইট নির্মাণ না করা, হাই স্কুলের নির্মিত সেপটি ট্রাংকের পয়ঃনিস্কাশনের দূর্ঘন্ধ, পৌরসভার আবর্জনা না নেয়া, জেনারেটরের বিকট শব্দ, সীমানা প্রাচীর নড়বড়ে পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও পাঠদানে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি অভিভাবকদের।
জানা যায়, দাগনভূঞা আতাতুর্ক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয় ১৯১৯ সালে। প্রতিষ্ঠার দীর্ঘবছর পরে ক্রমান্বয়ে এটিকে আধুনিকায়ন ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে বর্তমানে প্রায় ৯ শতাধিকের উপরে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছেন। দুই শিফটে ৪ বছরের উপরে ও ৫ বছরের উপরে প্রাক প্রাথমিক শিক্ষার্থী এবং দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা ক্লাস করেন সকাল ৯ টা থেকে পৌনে বারোটা পর্যন্ত। দ্বিতীয় শিফটে তৃতীয় থেকে ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা ক্লাস করেন দুপুর ১২.১০ মিনিট থেকে বিকেল ৪.১৫ মিনিট পর্যন্ত । শিক্ষার্থীদের আনুপাতিক হারে শিক্ষক রয়েছেন ১২ জন। বাড়তি চাপ প্রতিনিয়ত বাড়লে ও বাড়েনি শিক্ষকদের সংখ্যা। একদিকে উপজেলায় নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাশাপাশি প্রবাসীদের পরিবার বাসা বাড়িতে অবস্থানের কারন সন্তানদের লেখাপড়া করানো এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরি সুবাদে চাকুরীজীবি সন্তানদের পড়াশোনার অন্যতম সুবিধা হিসেবে এ বিদ্যালয়টিকে বেঁচে নেন। যার কারনে বাড়তি চাপ রয়েছে প্রতি বছর। এছাড়া আশপাশের স্থানীয়দের ও একই ইচ্ছে এ বিদ্যালয়ে সন্তানকে ভর্তি করানো। সীমিত পরিসর হলেও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা। আসন সংখ্যা বাড়ানো সহ শিক্ষকদের সংখ্যা বাড়ানোর ও দাবি তুলেছেন অনেকেই। এতগুলো কোমলমতি  শিক্ষার্থীদের বাহিরে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত অভিভাবকগন ও শিক্ষকরা। প্রধান গেইট নড়বড়ে পরিস্থিতিতে দাড়িয়ে আছে, সীমানা প্রাচীরের পাশেই বিভিন্ন অস্থায়ী দোকানপাট বসিয়েছেন অনেকেই। ফেনী নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে এ বিদ্যালয়। স্কুল ছুটির পর সড়ক পারাপারে রয়েছে ভয়াবহ ঝুঁকি। অভিভাবক এবং শিক্ষকদের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীরা রাস্তা পারাপার হয়ে থাকেন। বিদ্যালয় সড়ক থেকে নিচু হওয়ায় মাঠে জমে যায় বর্ষার সময় পানি। তাছাড়া নেই কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা। অন্যদিকে আতাতুর্ক সরকারি মডেল হাই স্কুল মার্কেটের বিশাল জেনারেটরের শব্দে শব্দদূষণ ও পাঠদানে রয়েছে মারাত্মক সমস্যা। এ জেনারেটর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেয়ালের পাশেই রাখা হয়েছে। পয়ঃনিষ্কাশনের দূর্ঘন্ধ ও জেনারেটরের বিকট শব্দ, ময়লা আবর্জনার স্তুপ রীতিমতো ভোগান্তির কারন। হাইস্কুল কতৃপক্ষকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অভিযোগ দেয়ার পরও নেয়া হয়নি কার্যকর কোন ভুমিকা কিংবা পদক্ষেপ। এমনটি চলছে বছরের পর বছর। এ পরিস্থিতিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান চলছে যথারীতি। ফলাফল ও পাঠদানে রয়েছে যথেষ্ট সুনাম ও রেকর্ড।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগন জানান, প্রাক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধ্যায়নরত সন্তানদের নিয়ে আসা এবং অপেক্ষা করে নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত বসে থাকি। বাহিরে নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং সিকিউরিটি না থাকায় সঙ্কিত আমরা। যখন তখন যে কেউ ভিতরে প্রবেশ করাটা নিরাপদ নয়। সড়কের পাশে সীমানা প্রাচীর ও গেইট লাগানোর দাবি জানান তারা।
আতাতুর্ক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা তামেন্দা আক্তার চৌধুরী জানান, সড়কের পাশে অর্ধেক বাউন্ডারি করা হয়েছে পৌরসভার সহযোগিতায়। বাকি কিছু অংশ টিন লাগিয়ে দেয়া হলেও তা পর্যাপ্ত সিকিউরিটি বলা যায়না। এ বিষয়ে বিস্তারিত অসুবিধাগুলো তুরস্ক থেকে আগত প্রতিনিধি ও পৌর প্রশাসক ইউএনও স্যারকে অবহিত করেছি। তিনি বাউন্ডারির অসমাপ্ত কাজ শীঘ্রই করে দিবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমরা সবাই নজরদারি সহ সড়ক যাতায়াতে সহযোগিতা করে থাকি।