ঢাকা ০১:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

আজ গ্রাম প্রতিরক্ষা দল ভিডিপি’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী

এম সাদ্দাম হোসেন পবন
  • আপডেট সময় : ৪৪৮ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গ্রামীন জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন,স্বর্নিভরতা অর্জন ও স্থানীয় শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় ১৯৭৬ সালের ৫ই জানুয়ারী গ্রাম প্রতিরক্ষা দল ভিডিপি গঠন করেন শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।
দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ও দলগতভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ভিডিপি’র গ্রাম পর্যায়ে প্লাটুন তৈরিতে গুরুত্ব দিয়ে দিয়ে এই বাহিনীকে সামাজিক নেতৃত্বের ভূমিকায় ক্ষমতায়ন করে ছিলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সরকারের সদিচ্ছার অভাবে তৃনমূলে ভিডিপিতে কর্মরত দলনেতা-নেত্রীদের অবহেলিত হয়ে থাকতে হয়।
জুলাই গনঅভ্যুত্থানের পর বাহিনীর সদরদপ্তর তাড়াহুড়ো করে সুদীর্ঘ সময় কাজ করা ইউনিয়ন দলনেতা-নেত্রীদের কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ কোন আর্থিক অনুদান না দিয়ে শুন্য হাতে বিদায় করায় ওই সব অব্যাহতিপ্রাপ্ত দলনেতা-নেত্রীরা মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে জানাগেছে।

১৯৭৬ সালের ৫ জানুয়ারী গ্রাম প্রতিরক্ষা দল ভিডিপি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ইউনিয়ন ভিডিপি দলনেতা পুরুষ ও দলনেত্রী মহিলা এই দুটি পদে সম্মানী ভাতার আওতায় স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে তাদের নিয়োগ করে বাহিনী। পরবর্তী কালে গ্রামীন জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং ২০০৯ সনের স্থানীয় সরকার আইনে এই বাহিনীকে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা হিসাবে ক্ষমতা দেয়া হয়।
সুদীর্ঘ সময় বাহিনীর উন্নয়ন ও শৃংখলায় ইউনিয়ন দলনেতা-নেত্রীরা সম্মানি ভাতা প্রাপ্ত হলেও গ্রামীন শান্তি শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তায় রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে সক্রিয় ভাবে সহায়তা করার পর বয়স বিবেচনায় তাদের বাধ্যতামূলক ভাবে অব্যাহতি দিয়েছে বাহিনী। অব্যাহতির পূর্বে তাদের বার্ধক্য জনিত সময়ে আর্থিক ভাবে এককালীন অনুদানের বিষয়টি নিয়ে বাহিনীর সদর দপ্তর মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করেনি বলে নিশ্চিত করেছে সদর দফতরের একাধিক কর্মকর্তা।

১৯৮২ সালে ইউনিয়ন দলনেতা ও নেত্রীরা এক’শ আশি টাকা ভাতায় কাজ শুরু করে বিএনপি শাসনামলে আড়াই’শ থেকে ২০০৫ সালে তিন’শ ২৫ টাকা এবং আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর তা বাড়িয়ে আড়াই হাজার টাকা সম্মানী ভাতায় স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে দেশ ও জাতির কল্যানে কাজ করছে। দেশের অন্যান্য সরকারি সংস্থার অস্থায়ী জনবল রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারণীদের মানবিকতায় স্থায়ী হলেও একমাত্র ভিডিপি ইউনিয়ন দলনেতা-নেত্রীদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেনি। রাষ্ট্রের অন্য কোন সংস্থার দীর্ঘ সময়কালে স্বেচ্ছাসেবায় এমন ত্যাগের ইতিহাস নেই অথচ ভিডিপি সদস্যদের ত্যাগের ইতিহাস গৌরবময়।
একজন ইউনিয়ন ভিডিপি দলনেতা ও নেত্রীর মাসে পনেরো কর্ম দিবস বাহিনীর প্রদত্ত দায়িত্বের মধ্যে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ে দু-দিন মাসিক সমন্বয় সভা,ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন সমন্বয় সভা, স্থানীয় আইন শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভা,দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা সভা,স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সভায় উপস্থিতসহ মাসে তাদের প্রত্যেককে পনেরো কর্মদিবস সরকারী কাজে কর্মরত থাকতে হয়। এর বিনিময়ে সরকার প্রদত্ত সম্মানী ভাতায় বর্তমান বাজারমূল্যে একটি পরিবারের তিন দিনের ভরণপোষণের ব্যয়ের সমমান। একজন ভিডিপি ইউনিয়ন দলনেতা-নেত্রী সমাজের মানুষের কল্যানে সামাজিক দায়বদ্ধতায় কাজ করছে। বাংলাদেশে শতভাগ দারিদ্র্যতা নিরসনের ক্ষেত্রে এই পরিবারগুলোর উন্নয়ন আনা প্রয়োজন।
একাধিক জেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ড্যান্ট বলছেন-বয়সের ভারে নুয়ে পড়া অনেক দলনেতা-নেত্রীরা দায়িত্ব পালনে অক্ষম ছিল তাই ৫৯ বছর বা কর্মরত ২৫ বছর যা আগে হয় সেই আলোকেই তাদের অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেয় বাহিনী। ইউনিয়ন দলনেতা-নেত্রী নিয়োগ নীতিমালা থাকলেও সুযোগ সুবিধার কোন নীতিমালা না থাকায় এনিয়েও অনেক আক্ষেপ দেখা গেছে।
অব্যাহিত পাওয়া এসব ইউনিয়ন দলনেতা-নেত্রী সমাজে অত্যন্ত অস্বচ্ছল এবং মানবেতর জীবনযাপন করছে বলেও সরেজমিনে গিয়ে এমন তথ্য উঠে এসেছে। শেষ বয়সে এসে পরিবারের জন্য কিছু না করতে পেরে ব্যর্থ জীবনের অসহায়ত্বকে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে বলে জানান তারা। যে সম্মানি ভাতা দিয়ে সংসারের প্রয়োজনে কিছু যোগান হতো সেই যোগান বন্ধ হওয়ার ফলে পরিবারের সদস্যরাও তাদের ভাল-মন্দে গুরুত্ব দিচ্ছে না। এমন বাস্তবতায় শুন্য হাতে বিদায়ের রীতিপ্রথা বাহিনীর সম্ভাবনাকে পিছিয়ে দেবে বলেও ভুক্তভোগী অনেক দলনেতা-নেত্রীরা আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছেন।
শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত গড়া এই বাহিনীর আধুনিকায়নে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।
সারাদেশে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ইউনিয়ন দলনেতা-নেত্রীদের বাধ্যতামূলক অব্যাহতি দেয়া হয়।
বাহিনীর সদর দপ্তরের অপারেশনস শাখার পরিচালক মুহাম্মদ নুরে আলম সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় সারা দেশে কর্মরত ইউনিয়ন ভিডিপি দলনেতা ও নেত্রী যাদের বয়স ৫৯ অতিবাহিত হয়েছে তাদের অব্যাহতি প্রদান করে জেলা কমান্ড্যান্টরা । সে অনুযায়ী দেশের প্রত্যেক জেলা কমান্ড্যান্টরা বিশেষ সাক্ষাৎকার বা মতবিনিময়ের মাধ্যমে ইউনিয়ন দলনেতা ও নেত্রীদের অব্যাহতি দেয়া হয়।
তবে বাহিনীর সদর দপ্তরের অপারেশনস শাখার নির্দেশনায় ২০২৪-২০২৫ সাল পর্যন্ত সারাদেশে কতজন ইউনিয়ন ভিডিপি দলনেতা-নেত্রীদের অব্যাহতি দেয়া হয় সে সম্পর্কে তথ্য দিতে অনীহান প্রকাশ করে সদর দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। পরিচালক পর্যায়ের একাধিক দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করেও এই তথ্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
কেউ দীর্ঘ ৪০ বছর কেউ বা ৩০ বছর নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে বাহিনীর কর্মকান্ড নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করা এসব ইউনিয়ন দলনেতা-নেত্রীদের শুন্য হাতে বিদায় দেয়ার বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার বিশ্লেষকরা বলছে-জীবনের শেষ অবধি কাজ করা এসব দায়িত্বশীল সদস্যদের কোন ভাবেই শুন্য হাতে বিদায় করা নৈতিক ভাবে সমর্থন যোগ্য নয়। বাহিনীর পক্ষ থেকে অব্যাহতি পাওয়া অসহায় দলনেতা-নেত্রীদের সামাজিক স্বচ্ছলতায় এককালীন অনুদান দেয়া উচিৎ ছিল। এক্ষেত্রে বাহিনীর সদরদপ্তরের সদিচ্ছার অভাব ছিল বলে মনে করেন অনেক মানবাধিকার বিশ্লেষক। অব্যাহতি পাওয়া কয়েকটি জেলার ইউনিয়ন পর্যায়ের এসব দলনেতা-নেত্রীদের সাথে কথা বলা হলে তারা জানান,সুদীর্ঘ দায়িত্ব পালনের পর জীবনের শেষ সময়ে এসে অব্যাহতি দেয়ার এই সিদ্ধান্ত নেয়ার পূর্বে বাহিনীর নীতিনির্ধারণী মহল মানবিক বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা পূর্বক এককালীন অনুদান মঞ্জুরিতে সহায়ক ভূমিকা রাখার সুযোগ ছিল। যে কোন সরকার রাষ্ট্রীয় স্বেচ্ছাসেবীদের প্রতি মানবিক থাকে সর্বদাই, সেক্ষেত্রে সরকারের নীতি সহায়তার সুযোগ তৈরির আগেই বিদায়ের মাধ্যমে দায়মুক্তির বিষয়টি অমানবিক বলে মনে করছে দলনেতা-নেত্রীরা।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নাম প্রকাশ না করার শর্তে অবসর নেয়া একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, -সুশৃঙ্খল বৃহৎ এই বাহিনীতে মাঠ পর্যায়ে সরাসরি ইউনিয়ন ভিডিপি দলনেতা-নেত্রীদের সাথে কাজ করার সুবাদে অনেক অভিজ্ঞতা অন্বেষণ হয়েছে। দেশ ও জাতির কল্যানে ভিডিপি সদস্যরা আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করে। ভিডিপি ইউনিয়ন দলনেতা-নেত্রীদের সম্মানী ভাতা বৃদ্ধি এবং অবসর সংক্রান্ত এক কালিন অনুদানের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত ছিল। কোন কার্যক্রম বাস্তবায়নের আগে যদি বিষয়টি সরকারে জানানো হতো তবে সরকার মানবিক হয়ে তাদের সার্বিক কর্মের স্বীকৃতি স্বরুপ অব্যাহতির মধ্যে দিয়ে একটা অনুদানের ব্যবস্থা নিতে পারতো। অব্যাহতি দেয়ার আগেই এমন পদক্ষেপ নেয়া হলে হয়তো বাহিনীতে সহায়ক ভূমিকা রাখা ইউনিয়ন দলনেতা ও নেত্রীদের
বাহিনীর নীতি-নির্ধারণী মহলের বিশেষ বিবেচনায় এনে সরকারে গুরুত্বরোপ করা হয়ছে । ইউনিয়ন দলনেতা-নেত্রী,আনসার কমান্ডারদের সম্মানজনক ভাতা প্রদানে আমরা সর্বদা আন্তরিক।

বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত উচ্চ পদস্থ এক কর্মকর্তা বলেন-আনসার ও ভিডিপি’র আধুনিকায়নে ইতিবাচক পরিবর্তন হয়নি,প্রশাসনিক বৈষম্য রয়েছে। এই বাহিনীকে সময়ের সাথে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারকে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। ইউনিয়ন ভিডিপি দলনেতা-নেত্রীদের সমস্যা সমাধানে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে বাহিনীর সদর দফতরকে যোগাযোগ রাখতে হবে।
প্রসঙ্গত: বাহিনীর ইতোবৃত্ত সূত্র জানায়, ১৯৪৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারী স্থানীয় জন-নিরাপত্তায় অন্যান্য বাহিনীকে সহায়তা করার লক্ষ্যকে ঘিরে আনসার বাহিনী প্রতিষ্ঠা লাভ করে। প্রতিষ্ঠা কালিন এই বাহিনীর প্রধান হিসেবে জেমস বুকানন পরিচালক ৯ মাস দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তী সময় ৫২’র ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষায় প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে শহীদ হন তরুন আনসার কমান্ডার আব্দুল জোব্বার ; যার নামে শফিপুর আনসার ও ভিডিপি একাডেমী চত্বরে স্কুল এন্ড কলেজের নাম করণ করা হয়।
মাতৃ-ভূমির টান ও দেশাত্ববোধ আনসার বাহিনী সদস্য থেকে শুরু করে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের জাগ্রত করেছিল, যার ফলে ৪০ হাজার রাইফেল সহ আনসার বাহিনী অকুতোভয় সদস্যরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রতিজ্ঞায়। দেশকে শত্রু মুক্ত করার সংগ্রামে পাক-হানাদার বাহিনীর সম্মুখযুদ্ধে আনসার বাহিনীর ৬৭০ জন সদস্য শহীদ হন। স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্রে আনসার বাহিনী অন্যতম অংশীদার, যাদের রক্তের বিনিময় অর্জিত হয়েছে মোদের স্বাধীনতা ।
প্লাটুন কমান্ডার ইয়াদ আলীর নেতৃত্বে ১২ জন বীর আনসার সদস্য ঐত্যিহাসিক ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী মুজিব নগর সরকার কে প্রথম গার্ড অব অনার প্রদান করে, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ সম্মানের দাবীদার। তার স্বীকৃতি স্বরূপ সরকার ২০১২ সালে একমাত্র আনসার বাহিনীকে ১৭ এপ্রিল ঐত্যিহাসিক মুজিব নগর দিবসে গার্ড অব অনার প্রদান করার ক্ষমতা অর্পন করেছেন। যা আনসার বাহিনীর জন্য একটি বিরল সম্মান সুচক মাইল ফলক।
গার্ড অব অনার প্রদানের নেতৃত্বদান কারী প্লাটুন কমান্ডার ইয়াদ আলী নামে বাহিনীর সর্ব বৃহৎ শফিপুর একাডেমীতে অবস্থিত প্যারেড গ্রাউন্ডের নাম করন
করা হয়।
৭১’র পরবর্তী কালে আনসার বাহিনীর কর্মকান্ডের পরিধি সম্প্রসারণে জন-নিরাপত্তার পাশাপাশি দেশ ও জাতির উন্নয়ন ভাবনায় ১৯৭৬ সালের ৫ই জানুয়ারী গ্রাম প্রতিরক্ষা দল ভিডিপি প্রতিষ্ঠা লাভ করে, যার পূর্ণাঙ্গ নাম করণ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী করা হয়।
বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ভিত্তিক প্রশিক্ষণ ধর্মী বৃহৎ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা দল-সবুজ শ্যামল বাংলার শান্তি, শৃঙ্খলা রক্তিম বাংলাদেশে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখায় সর্বোচ্চ সম্মানের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৯৫ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদে ‘‘শৃঙ্খলা বাহিনী’’ হিসাবে মর্যাদা প্রদান করাহয়।
বাহিনীর কর্ম-তৎপরতায় স্থানীয় আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার আনসার-ভিডিপিকে স্থানীয় সরকার আইন-২০০৯ এ স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসাবে ক্ষমতা প্রদান করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

আজ গ্রাম প্রতিরক্ষা দল ভিডিপি’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী

আপডেট সময় :

গ্রামীন জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন,স্বর্নিভরতা অর্জন ও স্থানীয় শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় ১৯৭৬ সালের ৫ই জানুয়ারী গ্রাম প্রতিরক্ষা দল ভিডিপি গঠন করেন শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।
দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ও দলগতভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ভিডিপি’র গ্রাম পর্যায়ে প্লাটুন তৈরিতে গুরুত্ব দিয়ে দিয়ে এই বাহিনীকে সামাজিক নেতৃত্বের ভূমিকায় ক্ষমতায়ন করে ছিলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সরকারের সদিচ্ছার অভাবে তৃনমূলে ভিডিপিতে কর্মরত দলনেতা-নেত্রীদের অবহেলিত হয়ে থাকতে হয়।
জুলাই গনঅভ্যুত্থানের পর বাহিনীর সদরদপ্তর তাড়াহুড়ো করে সুদীর্ঘ সময় কাজ করা ইউনিয়ন দলনেতা-নেত্রীদের কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ কোন আর্থিক অনুদান না দিয়ে শুন্য হাতে বিদায় করায় ওই সব অব্যাহতিপ্রাপ্ত দলনেতা-নেত্রীরা মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে জানাগেছে।

১৯৭৬ সালের ৫ জানুয়ারী গ্রাম প্রতিরক্ষা দল ভিডিপি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ইউনিয়ন ভিডিপি দলনেতা পুরুষ ও দলনেত্রী মহিলা এই দুটি পদে সম্মানী ভাতার আওতায় স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে তাদের নিয়োগ করে বাহিনী। পরবর্তী কালে গ্রামীন জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং ২০০৯ সনের স্থানীয় সরকার আইনে এই বাহিনীকে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা হিসাবে ক্ষমতা দেয়া হয়।
সুদীর্ঘ সময় বাহিনীর উন্নয়ন ও শৃংখলায় ইউনিয়ন দলনেতা-নেত্রীরা সম্মানি ভাতা প্রাপ্ত হলেও গ্রামীন শান্তি শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তায় রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে সক্রিয় ভাবে সহায়তা করার পর বয়স বিবেচনায় তাদের বাধ্যতামূলক ভাবে অব্যাহতি দিয়েছে বাহিনী। অব্যাহতির পূর্বে তাদের বার্ধক্য জনিত সময়ে আর্থিক ভাবে এককালীন অনুদানের বিষয়টি নিয়ে বাহিনীর সদর দপ্তর মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করেনি বলে নিশ্চিত করেছে সদর দফতরের একাধিক কর্মকর্তা।

১৯৮২ সালে ইউনিয়ন দলনেতা ও নেত্রীরা এক’শ আশি টাকা ভাতায় কাজ শুরু করে বিএনপি শাসনামলে আড়াই’শ থেকে ২০০৫ সালে তিন’শ ২৫ টাকা এবং আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর তা বাড়িয়ে আড়াই হাজার টাকা সম্মানী ভাতায় স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে দেশ ও জাতির কল্যানে কাজ করছে। দেশের অন্যান্য সরকারি সংস্থার অস্থায়ী জনবল রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারণীদের মানবিকতায় স্থায়ী হলেও একমাত্র ভিডিপি ইউনিয়ন দলনেতা-নেত্রীদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেনি। রাষ্ট্রের অন্য কোন সংস্থার দীর্ঘ সময়কালে স্বেচ্ছাসেবায় এমন ত্যাগের ইতিহাস নেই অথচ ভিডিপি সদস্যদের ত্যাগের ইতিহাস গৌরবময়।
একজন ইউনিয়ন ভিডিপি দলনেতা ও নেত্রীর মাসে পনেরো কর্ম দিবস বাহিনীর প্রদত্ত দায়িত্বের মধ্যে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ে দু-দিন মাসিক সমন্বয় সভা,ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন সমন্বয় সভা, স্থানীয় আইন শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভা,দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা সভা,স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সভায় উপস্থিতসহ মাসে তাদের প্রত্যেককে পনেরো কর্মদিবস সরকারী কাজে কর্মরত থাকতে হয়। এর বিনিময়ে সরকার প্রদত্ত সম্মানী ভাতায় বর্তমান বাজারমূল্যে একটি পরিবারের তিন দিনের ভরণপোষণের ব্যয়ের সমমান। একজন ভিডিপি ইউনিয়ন দলনেতা-নেত্রী সমাজের মানুষের কল্যানে সামাজিক দায়বদ্ধতায় কাজ করছে। বাংলাদেশে শতভাগ দারিদ্র্যতা নিরসনের ক্ষেত্রে এই পরিবারগুলোর উন্নয়ন আনা প্রয়োজন।
একাধিক জেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ড্যান্ট বলছেন-বয়সের ভারে নুয়ে পড়া অনেক দলনেতা-নেত্রীরা দায়িত্ব পালনে অক্ষম ছিল তাই ৫৯ বছর বা কর্মরত ২৫ বছর যা আগে হয় সেই আলোকেই তাদের অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেয় বাহিনী। ইউনিয়ন দলনেতা-নেত্রী নিয়োগ নীতিমালা থাকলেও সুযোগ সুবিধার কোন নীতিমালা না থাকায় এনিয়েও অনেক আক্ষেপ দেখা গেছে।
অব্যাহিত পাওয়া এসব ইউনিয়ন দলনেতা-নেত্রী সমাজে অত্যন্ত অস্বচ্ছল এবং মানবেতর জীবনযাপন করছে বলেও সরেজমিনে গিয়ে এমন তথ্য উঠে এসেছে। শেষ বয়সে এসে পরিবারের জন্য কিছু না করতে পেরে ব্যর্থ জীবনের অসহায়ত্বকে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে বলে জানান তারা। যে সম্মানি ভাতা দিয়ে সংসারের প্রয়োজনে কিছু যোগান হতো সেই যোগান বন্ধ হওয়ার ফলে পরিবারের সদস্যরাও তাদের ভাল-মন্দে গুরুত্ব দিচ্ছে না। এমন বাস্তবতায় শুন্য হাতে বিদায়ের রীতিপ্রথা বাহিনীর সম্ভাবনাকে পিছিয়ে দেবে বলেও ভুক্তভোগী অনেক দলনেতা-নেত্রীরা আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছেন।
শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত গড়া এই বাহিনীর আধুনিকায়নে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।
সারাদেশে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ইউনিয়ন দলনেতা-নেত্রীদের বাধ্যতামূলক অব্যাহতি দেয়া হয়।
বাহিনীর সদর দপ্তরের অপারেশনস শাখার পরিচালক মুহাম্মদ নুরে আলম সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় সারা দেশে কর্মরত ইউনিয়ন ভিডিপি দলনেতা ও নেত্রী যাদের বয়স ৫৯ অতিবাহিত হয়েছে তাদের অব্যাহতি প্রদান করে জেলা কমান্ড্যান্টরা । সে অনুযায়ী দেশের প্রত্যেক জেলা কমান্ড্যান্টরা বিশেষ সাক্ষাৎকার বা মতবিনিময়ের মাধ্যমে ইউনিয়ন দলনেতা ও নেত্রীদের অব্যাহতি দেয়া হয়।
তবে বাহিনীর সদর দপ্তরের অপারেশনস শাখার নির্দেশনায় ২০২৪-২০২৫ সাল পর্যন্ত সারাদেশে কতজন ইউনিয়ন ভিডিপি দলনেতা-নেত্রীদের অব্যাহতি দেয়া হয় সে সম্পর্কে তথ্য দিতে অনীহান প্রকাশ করে সদর দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। পরিচালক পর্যায়ের একাধিক দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করেও এই তথ্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
কেউ দীর্ঘ ৪০ বছর কেউ বা ৩০ বছর নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে বাহিনীর কর্মকান্ড নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করা এসব ইউনিয়ন দলনেতা-নেত্রীদের শুন্য হাতে বিদায় দেয়ার বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার বিশ্লেষকরা বলছে-জীবনের শেষ অবধি কাজ করা এসব দায়িত্বশীল সদস্যদের কোন ভাবেই শুন্য হাতে বিদায় করা নৈতিক ভাবে সমর্থন যোগ্য নয়। বাহিনীর পক্ষ থেকে অব্যাহতি পাওয়া অসহায় দলনেতা-নেত্রীদের সামাজিক স্বচ্ছলতায় এককালীন অনুদান দেয়া উচিৎ ছিল। এক্ষেত্রে বাহিনীর সদরদপ্তরের সদিচ্ছার অভাব ছিল বলে মনে করেন অনেক মানবাধিকার বিশ্লেষক। অব্যাহতি পাওয়া কয়েকটি জেলার ইউনিয়ন পর্যায়ের এসব দলনেতা-নেত্রীদের সাথে কথা বলা হলে তারা জানান,সুদীর্ঘ দায়িত্ব পালনের পর জীবনের শেষ সময়ে এসে অব্যাহতি দেয়ার এই সিদ্ধান্ত নেয়ার পূর্বে বাহিনীর নীতিনির্ধারণী মহল মানবিক বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা পূর্বক এককালীন অনুদান মঞ্জুরিতে সহায়ক ভূমিকা রাখার সুযোগ ছিল। যে কোন সরকার রাষ্ট্রীয় স্বেচ্ছাসেবীদের প্রতি মানবিক থাকে সর্বদাই, সেক্ষেত্রে সরকারের নীতি সহায়তার সুযোগ তৈরির আগেই বিদায়ের মাধ্যমে দায়মুক্তির বিষয়টি অমানবিক বলে মনে করছে দলনেতা-নেত্রীরা।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নাম প্রকাশ না করার শর্তে অবসর নেয়া একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, -সুশৃঙ্খল বৃহৎ এই বাহিনীতে মাঠ পর্যায়ে সরাসরি ইউনিয়ন ভিডিপি দলনেতা-নেত্রীদের সাথে কাজ করার সুবাদে অনেক অভিজ্ঞতা অন্বেষণ হয়েছে। দেশ ও জাতির কল্যানে ভিডিপি সদস্যরা আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করে। ভিডিপি ইউনিয়ন দলনেতা-নেত্রীদের সম্মানী ভাতা বৃদ্ধি এবং অবসর সংক্রান্ত এক কালিন অনুদানের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত ছিল। কোন কার্যক্রম বাস্তবায়নের আগে যদি বিষয়টি সরকারে জানানো হতো তবে সরকার মানবিক হয়ে তাদের সার্বিক কর্মের স্বীকৃতি স্বরুপ অব্যাহতির মধ্যে দিয়ে একটা অনুদানের ব্যবস্থা নিতে পারতো। অব্যাহতি দেয়ার আগেই এমন পদক্ষেপ নেয়া হলে হয়তো বাহিনীতে সহায়ক ভূমিকা রাখা ইউনিয়ন দলনেতা ও নেত্রীদের
বাহিনীর নীতি-নির্ধারণী মহলের বিশেষ বিবেচনায় এনে সরকারে গুরুত্বরোপ করা হয়ছে । ইউনিয়ন দলনেতা-নেত্রী,আনসার কমান্ডারদের সম্মানজনক ভাতা প্রদানে আমরা সর্বদা আন্তরিক।

বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত উচ্চ পদস্থ এক কর্মকর্তা বলেন-আনসার ও ভিডিপি’র আধুনিকায়নে ইতিবাচক পরিবর্তন হয়নি,প্রশাসনিক বৈষম্য রয়েছে। এই বাহিনীকে সময়ের সাথে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারকে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। ইউনিয়ন ভিডিপি দলনেতা-নেত্রীদের সমস্যা সমাধানে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে বাহিনীর সদর দফতরকে যোগাযোগ রাখতে হবে।
প্রসঙ্গত: বাহিনীর ইতোবৃত্ত সূত্র জানায়, ১৯৪৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারী স্থানীয় জন-নিরাপত্তায় অন্যান্য বাহিনীকে সহায়তা করার লক্ষ্যকে ঘিরে আনসার বাহিনী প্রতিষ্ঠা লাভ করে। প্রতিষ্ঠা কালিন এই বাহিনীর প্রধান হিসেবে জেমস বুকানন পরিচালক ৯ মাস দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তী সময় ৫২’র ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষায় প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে শহীদ হন তরুন আনসার কমান্ডার আব্দুল জোব্বার ; যার নামে শফিপুর আনসার ও ভিডিপি একাডেমী চত্বরে স্কুল এন্ড কলেজের নাম করণ করা হয়।
মাতৃ-ভূমির টান ও দেশাত্ববোধ আনসার বাহিনী সদস্য থেকে শুরু করে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের জাগ্রত করেছিল, যার ফলে ৪০ হাজার রাইফেল সহ আনসার বাহিনী অকুতোভয় সদস্যরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রতিজ্ঞায়। দেশকে শত্রু মুক্ত করার সংগ্রামে পাক-হানাদার বাহিনীর সম্মুখযুদ্ধে আনসার বাহিনীর ৬৭০ জন সদস্য শহীদ হন। স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্রে আনসার বাহিনী অন্যতম অংশীদার, যাদের রক্তের বিনিময় অর্জিত হয়েছে মোদের স্বাধীনতা ।
প্লাটুন কমান্ডার ইয়াদ আলীর নেতৃত্বে ১২ জন বীর আনসার সদস্য ঐত্যিহাসিক ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী মুজিব নগর সরকার কে প্রথম গার্ড অব অনার প্রদান করে, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ সম্মানের দাবীদার। তার স্বীকৃতি স্বরূপ সরকার ২০১২ সালে একমাত্র আনসার বাহিনীকে ১৭ এপ্রিল ঐত্যিহাসিক মুজিব নগর দিবসে গার্ড অব অনার প্রদান করার ক্ষমতা অর্পন করেছেন। যা আনসার বাহিনীর জন্য একটি বিরল সম্মান সুচক মাইল ফলক।
গার্ড অব অনার প্রদানের নেতৃত্বদান কারী প্লাটুন কমান্ডার ইয়াদ আলী নামে বাহিনীর সর্ব বৃহৎ শফিপুর একাডেমীতে অবস্থিত প্যারেড গ্রাউন্ডের নাম করন
করা হয়।
৭১’র পরবর্তী কালে আনসার বাহিনীর কর্মকান্ডের পরিধি সম্প্রসারণে জন-নিরাপত্তার পাশাপাশি দেশ ও জাতির উন্নয়ন ভাবনায় ১৯৭৬ সালের ৫ই জানুয়ারী গ্রাম প্রতিরক্ষা দল ভিডিপি প্রতিষ্ঠা লাভ করে, যার পূর্ণাঙ্গ নাম করণ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী করা হয়।
বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ভিত্তিক প্রশিক্ষণ ধর্মী বৃহৎ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা দল-সবুজ শ্যামল বাংলার শান্তি, শৃঙ্খলা রক্তিম বাংলাদেশে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখায় সর্বোচ্চ সম্মানের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৯৫ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদে ‘‘শৃঙ্খলা বাহিনী’’ হিসাবে মর্যাদা প্রদান করাহয়।
বাহিনীর কর্ম-তৎপরতায় স্থানীয় আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার আনসার-ভিডিপিকে স্থানীয় সরকার আইন-২০০৯ এ স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসাবে ক্ষমতা প্রদান করেছেন।