নওগাঁর পোরশায় টেকনোলজিস্ট ছাড়াই এক্স-রে পরিচালনার অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১৫ বার পড়া হয়েছে
নওগাঁর পোরশায় টেকনোলজিস্ট ছাড়াই কর্মচারী দিয়ে রেডিওলজি (এক্স-রে) করার অভিযোগ উঠেছে লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালকের বিরুদ্ধে। গত এক বছর থেকে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক শরিফুল ইসলাম কর্মচারীদের দিয়ে রেডিওলজি (এক্স-রে) পরিচালনা করে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে জেলা সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অভিজ্ঞ টেকনোলজিস্ট ছাড়া এক্স-রে করায় স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে উপজেলার বাসীন্দারা।
জানা যায়- জেলার পোরশা উপজেলা হলেও নীতপুর এলাকায় এর সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম, স্বাস্থ্যসেবা ও হাট-বাজারসহ ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা হয়ে থাকে। নীতপুরে অবস্থিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রাস্তার বিপরীত পাশে লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার। যার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আনবিক শক্তি কমিশনের কোন লাইসেন্স নাই। সেখানে গত প্রায় এক বছর থেকে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ছাড়াই প্রতিষ্ঠানের কর্মচারিদের দিয়ে এক্স-রে পরিচালনা করে আসছে। একটি এক্স-রে কক্ষ অবশ্যই বিকিরণ সুরক্ষা বজায় রেখে তৈরি করতে হবে। রেডিয়েশন যেন বাইরে না আসতে পারে, সেজন্য দরজায় স্লাইডিং বা ভারী লেড-ক্ল্যাডিং থাকতে হবে। কিন্তু সেখানে সাধারণ একটি কক্ষে এক্স-রে করা হয়।
হাসপাতাল সংলগ্ন হওয়ায় একটি দালাল চক্র সিন্ডিকেট করে রোগীদের এ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়। প্রত্যন্ত এলাকার সহজ-সরল মানুষ না বুঝে দালালদের প্ররোচনায় পড়ে সেখানে এক্স-রে করে। ভুলভাল এক্স-রের কারণে সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে হয়রানি হতে হয়। এতে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কালাইবাড়ি গ্রামের এক গৃহবধু বলেন- বাম হাতের কবজির সমস্যার জন্য ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে ৫০০ টাকায় এক্স-রে করা হয়েছিল। এক্স-রে রিপোর্ট দেখানো হলে সেটি ভুল হয়েছে বলা হয়। ভুল এক্স-রে হওয়ায় টাকা ফেরত চাওয়া হলে মালিক আর টাকা ফেরত দেয়নি।
পাশের পদ্ম (সাবেদা) ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার আতিকুর রহমান বলেন- জানামতে লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রেডিওলজি (এক্স-রে) পরিচালনার জন্য অভিজ্ঞ টেকনোলজিস্ট নাই। টেকনোলজিস্ট ছাড়াতো এক্স-রে করার নিয়ম নাই।
এ বিষয়ে লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, অনভিজ্ঞদের দিয়ে এক্স-রে পরিচালনার অভিযোগটি সঠিক না। এক্স-রে পরিচালনার জন্য মাহাথির মাহমুদ নামে একজন অভিজ্ঞ টেকনোলজিস্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগও অবগত আছেন।
বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অর্গানাইজেশন পোরশা শাখার সভাপতি আবু তাহের বলেন- আমরা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট দিয়ে রেডিওলজি পরিচালনা করে থাকি। কিন্তু লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ছাড়াই গত এক বছর থেকে অনৈতিকভাবে অসিম আকরাম কাজল ও ঈসা নামে দুইজন কর্মচারিকে দিয়ে এক্স-রে পরিচালনা করছে। এরা কেউ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট না। যা বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন- ২০১০ এর অধিনে দন্ডনীয় অপরাধ। স্বাস্থ্য বিভাগকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবী জানাই। এক্স-রে ভুল হলে রোগ নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং রোগীদের ভোগান্তী বাড়ে।
নওগাঁ জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ আমিনুল ইসলাম বলেন- এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ তদন্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনে প্রশাসন নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তিনি বলেন- অভিজ্ঞ টেকনোলজিস্ট দিয়ে অবশ্যই রেডিওলজি (এক্স-রে) পরিচালনা করতে হবে। যদি অভিজ্ঞ টেকনোলজিস্ট দিয়ে এক্স-রে করা না হয় তাহলে পরীক্ষা সঠিক ভাবে ও সঠিক মাত্রায় নাও হতে পারে। এছাড়া সাময়িক হয়ত ক্ষতি বুঝতে পারা যাবে না। কিন্তু দীর্ঘ সময় এভাবে চলতে থাকলে শরীরের ক্ষতি হবে।


















