সংবাদ শিরোনাম ::
পিবিআইর জালে ধরা খুনি
পরকীয়ার ফাঁদে ডেকে এনে শিরশ্ছেদ
এ এইচ ইমরান
- আপডেট সময় : ২৭৭ বার পড়া হয়েছে
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা মস্তকবিহীন লাশের পরিচয় শনাক্তের মাত্র চার দিনের মাথায় হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরকীয়া সম্পর্ক ও ব্ল্যাকমেইলকে কেন্দ্র করে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এ ঘটনায় জড়িত প্রধান অভিযুক্ত রুহুল আমিন ওরফে রাব্বিকে (২৬) রাজধানীর মধ্য বাড্ডা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পিবিআই বলছে, পরিকল্পিতভাবে ডেকে এনে কুপিয়ে হত্যা করে মাথা আলাদা করে ফেলা হয়।
নিহত যুবকের নাম আবরাহাম খান ওরফে আলিম খান (২৭)। বাড়ি রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায়। গ্রেপ্তারকৃত আসামি মো. রুহুল আমিন ওরফে রাব্বি (২৬)—নিহতের পরিচিত এবং পরকীয়ার সম্পর্ক থাকা নারীর আপন ভাগনে।
জানাযায়, গত ১৬ ডিসেম্বর সকালে আড়াইহাজার থানার শ্রীনিবাসদী এলাকার বালুর মাঠসংলগ্ন সড়কের পাশে স্থানীয় লোকজন একটি মস্তকবিহীন লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন টিম ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে। প্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত শনাক্ত হয় নিহতের পরিচয়।
তদন্তে উঠে আসে, নিহত আবরাহাম খান ১৫ ডিসেম্বর সকালে ঢাকার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। সকাল সাড়ে আটটার দিকে বোনের সঙ্গে তাঁর শেষ ফোনালাপ হয়। এরপর থেকেই তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
পিবিআই জানায়, নিহত আবরাহাম খানের সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃত রুহুল আমিনের খালার পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি পরিবারে জানাজানি হলে নিহত ব্যক্তি ওই নারীকে ব্ল্যাকমেইল করতে শুরু করেন বলে অভিযোগ। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রুহুল আমিন ও তাঁর খালা মিলে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ওই নারীকে ‘টোপ’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ১৫ ডিসেম্বর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী রাজবাড়ীর পাংশা থেকে আড়াইহাজারে ডেকে আনা হয় আবরাহাম খানকে। সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষায় ছিলেন রুহুল আমিন, তাঁর খালা এবং আরও কয়েকজন সহযোগী।তদন্ত কর্মকর্তা জানান, নির্জন স্থানে নিয়ে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় আবরাহাম খানকে। পরে পরিচয় গোপন ও তদন্ত বিভ্রান্ত করতে লাশের মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। নিহতের জামাকাপড় খুলে নেওয়া হয়। মাথা, হত্যায় ব্যবহৃত দা ও কাপড় একটি ব্যাগে ভরে পাশের খালে ফেলে দেওয়া হয়।
১৮ ডিসেম্বর স্থানীয়দের দেখানো মতে ওই খাল থেকে নিহতের খণ্ডিত মস্তক, দা ও জ্যাকেটের অংশবিশেষ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে গোপন তথ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির ভিত্তিতে গত শুক্রবার রাতে ঢাকার মধ্য বাড্ডা এলাকা থেকে আত্মগোপনের প্রাক্কালে গ্রেপ্তার করা হয় রুহুল আমিনকে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ (বিপিএম) বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত ও নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”
গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে হাজির করা হবে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।














