ঢাকা ০৯:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬

পিএইচডির নামে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ

প্রভাষকের বিরুদ্ধে রেজুলেশন জালিয়াতির অভিযোগ

আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৮৫ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা সরকারি ডিগ্রি কলেজের ইসলাম শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক সৈয়দ মো. ইয়ার আলির বিরুদ্ধে কলেজের রেজুলেশন বই জালিয়াতির মাধ্যমে পিএইচডি ডিগ্রি ব্যবহার করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি কলেজের নথিপত্রে তথ্য ঘষামাজা করে নিজেকে পিএইচডিধারী হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চতর স্কেলের আর্থিক সুবিধা ভোগ করে আসছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, তৎকালীন বেসরকারি কলেজ বিধিমালা অনুযায়ী কোনো শিক্ষক উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট গভর্নিং বডির পূর্বানুমতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক। তবে অভিযোগ রয়েছে, সৈয়দ ইয়ার আলি কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই ২০১৫ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে ওই ডিগ্রিকে বৈধ প্রমাণ করতে কলেজের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রে জালিয়াতির আশ্রয় নেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২৯ নভেম্বর ২০১৩ তারিখে অনুষ্ঠিত গভর্নিং বডির ০৪/১৩ নম্বর সভার রেজুলেশন বইয়ের ৪ নম্বর প্রস্তাবে মূলত কলেজ ভবন রং করার সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ ছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কৌশলে ওই প্রস্তাবের বিষয়বস্তু পরিবর্তন করে সেখানে নিজের পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের জন্য ছুটির অনুমোদনের তথ্য যুক্ত করা হয়। এই ভুয়া রেজুলেশন ব্যবহার করেই তিনি সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে আসছেন।
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম বলেন, “সম্প্রতি সৈয়দ ইয়ার আলি তার পিএইচডি সংক্রান্ত একটি রেজুলেশনের ফটোকপি সত্যায়নের জন্য আমার কাছে আনেন। কিন্তু মূল রেজুলেশন বইয়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখি, সেখানে বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে। মূল বইয়ে ওই তারিখে ভবন রং করার সিদ্ধান্ত থাকলেও তার দেওয়া কপিতে পিএইচডির জন্য ছুটির অনুমোদনের কথা উল্লেখ আছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রভাষক সৈয়দ মো. ইয়ার আলি জালিয়াতির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন,আমি বিধি অনুযায়ীই পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছি। যদি কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।
এদিকে একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর জালিয়াতির অভিযোগে স্থানীয় শিক্ষিত সমাজ ও সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষকের পিএইচডি ডিগ্রি বাতিল, অবৈধভাবে গ্রহণ করা সরকারি অর্থ ফেরত এবং দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

পিএইচডির নামে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ

প্রভাষকের বিরুদ্ধে রেজুলেশন জালিয়াতির অভিযোগ

আপডেট সময় :

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা সরকারি ডিগ্রি কলেজের ইসলাম শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক সৈয়দ মো. ইয়ার আলির বিরুদ্ধে কলেজের রেজুলেশন বই জালিয়াতির মাধ্যমে পিএইচডি ডিগ্রি ব্যবহার করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি কলেজের নথিপত্রে তথ্য ঘষামাজা করে নিজেকে পিএইচডিধারী হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চতর স্কেলের আর্থিক সুবিধা ভোগ করে আসছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, তৎকালীন বেসরকারি কলেজ বিধিমালা অনুযায়ী কোনো শিক্ষক উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট গভর্নিং বডির পূর্বানুমতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক। তবে অভিযোগ রয়েছে, সৈয়দ ইয়ার আলি কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই ২০১৫ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে ওই ডিগ্রিকে বৈধ প্রমাণ করতে কলেজের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রে জালিয়াতির আশ্রয় নেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২৯ নভেম্বর ২০১৩ তারিখে অনুষ্ঠিত গভর্নিং বডির ০৪/১৩ নম্বর সভার রেজুলেশন বইয়ের ৪ নম্বর প্রস্তাবে মূলত কলেজ ভবন রং করার সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ ছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কৌশলে ওই প্রস্তাবের বিষয়বস্তু পরিবর্তন করে সেখানে নিজের পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের জন্য ছুটির অনুমোদনের তথ্য যুক্ত করা হয়। এই ভুয়া রেজুলেশন ব্যবহার করেই তিনি সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে আসছেন।
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম বলেন, “সম্প্রতি সৈয়দ ইয়ার আলি তার পিএইচডি সংক্রান্ত একটি রেজুলেশনের ফটোকপি সত্যায়নের জন্য আমার কাছে আনেন। কিন্তু মূল রেজুলেশন বইয়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখি, সেখানে বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে। মূল বইয়ে ওই তারিখে ভবন রং করার সিদ্ধান্ত থাকলেও তার দেওয়া কপিতে পিএইচডির জন্য ছুটির অনুমোদনের কথা উল্লেখ আছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রভাষক সৈয়দ মো. ইয়ার আলি জালিয়াতির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন,আমি বিধি অনুযায়ীই পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছি। যদি কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।
এদিকে একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর জালিয়াতির অভিযোগে স্থানীয় শিক্ষিত সমাজ ও সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষকের পিএইচডি ডিগ্রি বাতিল, অবৈধভাবে গ্রহণ করা সরকারি অর্থ ফেরত এবং দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।