ঢাকা ০৯:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬

মসজিদে রাখা কোরআন শরীফে আগুন, এলাকাজুড়ে ক্ষোভ

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৯১ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার পার্শ্ববর্তী পাকুন্দিয়া উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের বালিয়াপাড়া মসজিদে রাখা কোরআন শরীফে দুর্বৃত্তদের দেয়া অগ্নিসংযোগের ফলে ৩০টি কোরআন শরীফ পুড়ে গেছে ।
এ ঘটনায় পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে পারভেজ নামে একজন যুবককে আটক করেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৪টার দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৪টার দিকে লোকমান মাইক সার্ভিসের কর্মচারী মো. রাব্বি, রাব্বুল মিয়া ও মো. কাউসার ওয়াজ মাহফিলের কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে মসজিদের ভেতরে আগুন দেখতে পান। তারা তাৎক্ষণিকভাবে ডাক চিৎকার করলে মসজিদের ইমামসহ এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে এসে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ সময় মসজিদের বারান্দায় রাখা মক্তবের শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩০টি পবিত্র কোরআন শরীফ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুপম দাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( সদর সার্কেল) মো. শরিফুল হক ও আহুতিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মোস্তফা কামাল, পাকুন্দিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মো. রফিকুল ইসলাম এবং পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান সরুজ ও মেম্বার মোক্তার উদ্দিনসহ অন্যান্যরা।
মসজিদের ইমাম মাওলানা বায়েজিদ জানান, মসজিদের পাশের একটি কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পথচারীদের ডাকচিৎকারে ঘুম ভেঙে উঠে দেখি কে বা কারা পবিত্র কোরআন শরীফে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
স্থানীয় মুসল্লি কারী আব্দুর রহিম বলেন, কোরআন শরীফ পোড়ানোর ঘটনা মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে গভীর আঘাত হেনেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এলাকায় মাদক কারবার, জুয়া ও নানাবিধ অপরাধ বাড়লেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার অভাব রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম বাদল জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
আহুতিয়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মোস্তফা কামাল জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পারভেজ নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।
পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুপম দাস বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এলাকাবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মসজিদে রাখা কোরআন শরীফে আগুন, এলাকাজুড়ে ক্ষোভ

আপডেট সময় :

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার পার্শ্ববর্তী পাকুন্দিয়া উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের বালিয়াপাড়া মসজিদে রাখা কোরআন শরীফে দুর্বৃত্তদের দেয়া অগ্নিসংযোগের ফলে ৩০টি কোরআন শরীফ পুড়ে গেছে ।
এ ঘটনায় পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে পারভেজ নামে একজন যুবককে আটক করেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৪টার দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৪টার দিকে লোকমান মাইক সার্ভিসের কর্মচারী মো. রাব্বি, রাব্বুল মিয়া ও মো. কাউসার ওয়াজ মাহফিলের কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে মসজিদের ভেতরে আগুন দেখতে পান। তারা তাৎক্ষণিকভাবে ডাক চিৎকার করলে মসজিদের ইমামসহ এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে এসে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ সময় মসজিদের বারান্দায় রাখা মক্তবের শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩০টি পবিত্র কোরআন শরীফ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুপম দাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( সদর সার্কেল) মো. শরিফুল হক ও আহুতিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মোস্তফা কামাল, পাকুন্দিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মো. রফিকুল ইসলাম এবং পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান সরুজ ও মেম্বার মোক্তার উদ্দিনসহ অন্যান্যরা।
মসজিদের ইমাম মাওলানা বায়েজিদ জানান, মসজিদের পাশের একটি কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পথচারীদের ডাকচিৎকারে ঘুম ভেঙে উঠে দেখি কে বা কারা পবিত্র কোরআন শরীফে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
স্থানীয় মুসল্লি কারী আব্দুর রহিম বলেন, কোরআন শরীফ পোড়ানোর ঘটনা মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে গভীর আঘাত হেনেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এলাকায় মাদক কারবার, জুয়া ও নানাবিধ অপরাধ বাড়লেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার অভাব রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম বাদল জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
আহুতিয়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মোস্তফা কামাল জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পারভেজ নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।
পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুপম দাস বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এলাকাবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।