মানবতার কবি নজরুলের ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে মানবঢল

- আপডেট সময় : ০১:২৮:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪ ৪৩৮ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৫তম জন্মবার্ষির্কীতে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী নাহিদ ইজহার খান
বিশ্বায়ন ও মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলামের দর্শনকে গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে দেবার অঙ্গিকারের মধ্য দিয়ে শনিবার বাংলাদেশজুড়ে কবির ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন করা হয়েছে।
দিবসের শুরুতেই জাতীয় কবির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে দেশজুড়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার সূচনা হয়। জন্মদিনে প্রতুষ্য থেকে কবির সমাধিতে ছিলো মানবঢল। দুরদূরান্ত থেকে প্রাণপ্রিয় কবির প্রতিশ্রদ্ধা জানাতে হাজারো ভক্ত-অনুরাগীরা ছুটে আসেন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অনেক কবি-সাহিত্যিক, গবেষক ও কণ্ঠশিল্পীরা ছুটে আসেন দ্রোহের কবি, সাম্যের কবিকে অবণত মস্তকে শ্রদ্ধা জানাতে।
তাদেরই একজন কলকাতার কণ্ঠশিল্পী সুমনা চট্টোপাধ্যায়। ধরা গলায় বলেন, কবির প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও উপস্থিতি দেখতে পেয়ে তার চোখে জল এসে গেছে। জাগরণের কবি, মানুষের কবি ভালোবাসার কবি নজরুলের প্রতি মানুষের তার আন্তরজুড়ে ভালোবাসা রয়েছে বলেই তিনি কবির গান করেন।
পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ থেকে এসেছে গবেষক জয়নাল আবেদীন। বুকজুড়ে কবির প্রতি ভালোবাসা। সমাধি চত্বরে কথা বলতে গিয়ে প্রথমে গেলেন, এরপর বললেন, একজন কবির প্রতি মানুষের এতো ভালোবাসা-শ্রদ্ধা। বাংলাদেশে না আসলে বুঝতে পারতাম না।

কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা এবং বিশেষ প্রার্থনা শেষে বাংলাদেশের সংস্কৃতি মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী নাহিদ ইজাহার খান বলেন, মন্ত্রণালয়ের ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের তরফে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালাও রয়েছে।
বাংলাদেশেই শুধু নয়, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নজরুলের দর্শনকে ছড়িয়ে দিতে কাজ করে চলেছে নজরুল ”র্চ্চা প্রতিষ্ঠান ‘বাঁশরি’। এবার প্রথমবারের মতো নজরুলের নাটক দিয়ে সপ্তাহব্যাপী নাট্যসমারোহের ঘোষণা দিলেন বাঁশরির কর্ণধার ড. খালেকুজ্জামান। জানালেন, নজরুলের নাটক নিয়ে অচিরেই আগরতলায় যাবার পরিকল্পনা রয়েছে।
নজরুল সাহিত্য ও জীবন দর্শন নিয়ে বাঁশরি নিরলস কর্মপ্রচেষ্ট কে গভীরভাবে সরণ করলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের প্রফেসর খ্যাতনামা নজরূর সঙ্গীত শিল্পী নীলা তাপসী খান।
কবি লিখেছিলেন, মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিও ভাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে কবিকে সমাহিত করা হয়েছে। সবুজে ঢাকা বিশাল সমাধি চত্বর। মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। দেশ-বিদেশের হাজারো পর্যটকরা একবার হলেও কবির সমাধিতে ছুটে আসেন।
১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে কবি সমাধি প্রাঙ্গণ লোকেলোকারণ্য। বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কবিকে প্রাণঢালা শ্রদ্ধা নিবেদন করে কিছুক্ষণ নীরবে দাড়িয়ে থেকে কবির প্রতি সম্মান প্রর্দশন করেন।
সমাধি প্রাঙ্গণ মঞ্চে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পশ্চিববঙ্গ ও বাংলাদেশের শিল্পীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।