ঢাকা ১১:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬

মুক্তাগাছায় বাসের ধাক্কায় নানী- নাতির মর্মান্তিক মৃত্যু

রিপন সারওয়ার, মুক্তাগাছা ( ময়মনসিংহ)
  • আপডেট সময় : ৮৭ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় মাত্র কয়েক মুহূর্তে থেমে গেল দুই ক্ষুদে জীবিকার স্বপ্ন, নিভে গেল নানী-নাতির হাসিমাখা পথচলা। গত শুক্রবার গভীর রাতে দ্রুতগামী বাসের চাপায় প্রাণ হারালেন নন্দীবাড়ী এলাকার ক্ষুদে ব্যবসায়ী সালমান শাহ (২২) এবং তার নানী হামিদা খাতুন (৫৫)।
মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার দিবাগত রাত সারে ১২টার দিকে ময়মনসিংহ – টাঙ্গাইল মহাসড়কের সত্রাসিয়া এলাকায়। জামালপুরগামী এস কে জননী নামে একটি দ্রুতগামী বাস পেছন থেকে তাদের বহনকারী ভ্যানরিকশাকে সজোরে ধাক্কা দিলে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান হামিদা খাতুন। গুরুতর আহত সালমান শাহকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ময়মনসিংহ তালতলা এলাকায় একটি ইসলামী সম্মেলনে পেয়াজু-পাপড়সহ নানা তেলেভাজা বিক্রি করে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য যাদের ছোট্ট রিকশাভ্যানটাই ছিল জীবিকার ভরসা – সেই রিকশাভ্যানই হয়ে দাঁড়াল মৃত্যুর ফাঁদ।
নিহত সালমান শাহ নন্দীবাড়ী এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। সংসারের হাল ধরতে দিনরাত খেটে যাওয়া এই যুবককে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন স্বজনেরা। নানী – নাতির এমন নির্মম বিদায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ রিপন চন্দ্র গোপ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। দুর্ঘটনার পর বাসটি আটক করা হলেও চালক পালিয়ে গিয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত ভ্যানরিকশাটিও উদ্ধার করে থানায় রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, চালককে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
একটি পরিবারের দুই প্রিয় মুখের এমন আকস্মিক বিদায়ে শোক, ক্ষোভ আর অসহায়ত্বে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো মুক্তাগাছা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মুক্তাগাছায় বাসের ধাক্কায় নানী- নাতির মর্মান্তিক মৃত্যু

আপডেট সময় :

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় মাত্র কয়েক মুহূর্তে থেমে গেল দুই ক্ষুদে জীবিকার স্বপ্ন, নিভে গেল নানী-নাতির হাসিমাখা পথচলা। গত শুক্রবার গভীর রাতে দ্রুতগামী বাসের চাপায় প্রাণ হারালেন নন্দীবাড়ী এলাকার ক্ষুদে ব্যবসায়ী সালমান শাহ (২২) এবং তার নানী হামিদা খাতুন (৫৫)।
মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার দিবাগত রাত সারে ১২টার দিকে ময়মনসিংহ – টাঙ্গাইল মহাসড়কের সত্রাসিয়া এলাকায়। জামালপুরগামী এস কে জননী নামে একটি দ্রুতগামী বাস পেছন থেকে তাদের বহনকারী ভ্যানরিকশাকে সজোরে ধাক্কা দিলে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান হামিদা খাতুন। গুরুতর আহত সালমান শাহকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ময়মনসিংহ তালতলা এলাকায় একটি ইসলামী সম্মেলনে পেয়াজু-পাপড়সহ নানা তেলেভাজা বিক্রি করে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য যাদের ছোট্ট রিকশাভ্যানটাই ছিল জীবিকার ভরসা – সেই রিকশাভ্যানই হয়ে দাঁড়াল মৃত্যুর ফাঁদ।
নিহত সালমান শাহ নন্দীবাড়ী এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। সংসারের হাল ধরতে দিনরাত খেটে যাওয়া এই যুবককে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন স্বজনেরা। নানী – নাতির এমন নির্মম বিদায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ রিপন চন্দ্র গোপ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। দুর্ঘটনার পর বাসটি আটক করা হলেও চালক পালিয়ে গিয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত ভ্যানরিকশাটিও উদ্ধার করে থানায় রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, চালককে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
একটি পরিবারের দুই প্রিয় মুখের এমন আকস্মিক বিদায়ে শোক, ক্ষোভ আর অসহায়ত্বে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো মুক্তাগাছা।