ঢাকা ০৯:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫

রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি: নিখোঁজ বিজিবি সদস্যের মরদেহ উদ্ধার

এস এম হুমায়ুন কবির, কক্সবাজার
  • আপডেট সময় : ০৪:০৪:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ মার্চ ২০২৫ ৫৫ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

রোহিঙ্গাবাহী নৌকা ডুবির ঘটনায় সাগরে নিখোঁজ বিজিবি সিপাহী মো. বিল্লাল হাসানের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বিজিবির শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত ফাঁড়িতে কর্মরত সিপাহী বিল্লাল মুরাদ নগর উপজেলার কাজিরতলা গ্রামের বজলুর রহমানের ছেলে।

রবিবার (২৩ মার্চ) বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ গোলারচর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর থেকে তার মৃতদেহ পাওয়া যায়। এর আগে গেলো শুক্রবার গভীর রাতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় কক্সবাজারের টেকনাফ সমুদ্রে রোহিঙ্গাদের বহনকারী নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটে। এতে থাকা নারী-শিশুসহ ২৫ জন রোহিঙ্গাকে জীবত উদ্ধার করা হয়। সেসময় বিজিবির সদস্যসহ আরও বেশ কিছু রোহিঙ্গা নিখোঁজ হন।

এঘটনায় গতকাল শনিবার এক শিশু চার রোহিঙ্গা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এ নিয়ে পাচঁ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান বলেন, ‘ দুই দিন পর সাগর থেকে বিজিবির সদস্যর মরদেহ পাওয়া গেছে। এর আগে সমুদ্রে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টাকালে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিম পাড়ায় রোহিঙ্গা বহনকারী নৌকা উদ্ধার অভিযানে যায় বিজিবি সদস্যরা। এসময় নৌকার ডুবির ঘটনায় সমুদ্রে নিখোঁজ হন সে। আশিকুর রহমান বলেন, ”ঘটনার দিন খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় উদ্ধার অভিযানে যান এবং শিশুসহ ২৫ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। আমাদের উদ্ধার অভিযান চলছে।’

এদিকে নিহত বিজিবি সদস্যের ভাই আবু বকর বলেন, ”ভাইকে খোঁজার জন্য টেকনাফের উদ্দেশ্য রওনা হয়েছিলাম। এর মধ্য খবর আসে সাগরে চরের মধ্য ভাইয়ের মরদেহ পাওয়া গেছে। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন জানান, ”এ ঘটনায় আরও বেশ কিছু রোহিঙ্গা নিখোঁজ রয়েছে। তাদের বিষয়ে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। স্থানীয়রা জানান, ২২ মার্চ শুক্রবার রাতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা বোঝাই একটি নৌকা টেকনাফে শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম পাড়া এলাকায় সাগরে ভাসতে দেখে বিজিবির সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিনের মালিকাধীন মাছ ধরার নৌকায় শাকের মাঝির নেতৃত্বে মাঝিমাল্লারা রোহিঙ্গা বহনকারী নৌকাটি থামানোর সংকেত দেন সমুদ্রে। পরে ওই নৌকাতে উঠেন বিজিবি সদস্য। এ সময় উত্তাল সাগরের ঢেউয়ে নৌকাটি ডুবে যায়। তাদের চিৎকারে নারী-শিশুসহ ২৫ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে স্থানীয় জেলে ও বিজিবি। পরে নিখোঁজ বিজিবির সদস্যসহ রোহিঙ্গাদের সন্ধানে সাগরে তল্লাশি চালানো হয়। ডুবে যাওয়া নৌকায় অর্ধশতাধিক লোকজন ছিল বলে জানিয়েছেন উদ্ধার রোহিঙ্গারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি: নিখোঁজ বিজিবি সদস্যের মরদেহ উদ্ধার

আপডেট সময় : ০৪:০৪:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ মার্চ ২০২৫

 

রোহিঙ্গাবাহী নৌকা ডুবির ঘটনায় সাগরে নিখোঁজ বিজিবি সিপাহী মো. বিল্লাল হাসানের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বিজিবির শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত ফাঁড়িতে কর্মরত সিপাহী বিল্লাল মুরাদ নগর উপজেলার কাজিরতলা গ্রামের বজলুর রহমানের ছেলে।

রবিবার (২৩ মার্চ) বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ গোলারচর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর থেকে তার মৃতদেহ পাওয়া যায়। এর আগে গেলো শুক্রবার গভীর রাতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় কক্সবাজারের টেকনাফ সমুদ্রে রোহিঙ্গাদের বহনকারী নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটে। এতে থাকা নারী-শিশুসহ ২৫ জন রোহিঙ্গাকে জীবত উদ্ধার করা হয়। সেসময় বিজিবির সদস্যসহ আরও বেশ কিছু রোহিঙ্গা নিখোঁজ হন।

এঘটনায় গতকাল শনিবার এক শিশু চার রোহিঙ্গা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এ নিয়ে পাচঁ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান বলেন, ‘ দুই দিন পর সাগর থেকে বিজিবির সদস্যর মরদেহ পাওয়া গেছে। এর আগে সমুদ্রে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টাকালে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিম পাড়ায় রোহিঙ্গা বহনকারী নৌকা উদ্ধার অভিযানে যায় বিজিবি সদস্যরা। এসময় নৌকার ডুবির ঘটনায় সমুদ্রে নিখোঁজ হন সে। আশিকুর রহমান বলেন, ”ঘটনার দিন খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় উদ্ধার অভিযানে যান এবং শিশুসহ ২৫ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। আমাদের উদ্ধার অভিযান চলছে।’

এদিকে নিহত বিজিবি সদস্যের ভাই আবু বকর বলেন, ”ভাইকে খোঁজার জন্য টেকনাফের উদ্দেশ্য রওনা হয়েছিলাম। এর মধ্য খবর আসে সাগরে চরের মধ্য ভাইয়ের মরদেহ পাওয়া গেছে। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন জানান, ”এ ঘটনায় আরও বেশ কিছু রোহিঙ্গা নিখোঁজ রয়েছে। তাদের বিষয়ে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। স্থানীয়রা জানান, ২২ মার্চ শুক্রবার রাতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা বোঝাই একটি নৌকা টেকনাফে শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম পাড়া এলাকায় সাগরে ভাসতে দেখে বিজিবির সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিনের মালিকাধীন মাছ ধরার নৌকায় শাকের মাঝির নেতৃত্বে মাঝিমাল্লারা রোহিঙ্গা বহনকারী নৌকাটি থামানোর সংকেত দেন সমুদ্রে। পরে ওই নৌকাতে উঠেন বিজিবি সদস্য। এ সময় উত্তাল সাগরের ঢেউয়ে নৌকাটি ডুবে যায়। তাদের চিৎকারে নারী-শিশুসহ ২৫ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে স্থানীয় জেলে ও বিজিবি। পরে নিখোঁজ বিজিবির সদস্যসহ রোহিঙ্গাদের সন্ধানে সাগরে তল্লাশি চালানো হয়। ডুবে যাওয়া নৌকায় অর্ধশতাধিক লোকজন ছিল বলে জানিয়েছেন উদ্ধার রোহিঙ্গারা।