ঢাকা ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫

সরকারের আট মাসে উদ্ধার হয়নি ১৪০০অস্ত্র আড়াইলাখ গোলাবারুদ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩৫:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ ৩১ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিরাপত্তার শঙ্কা অপরাধ বিশ্লেষকের

গত ৫ আগস্ট দেশের থানাগুলো থেকে লুট হওয়া পুলিশের প্রায় এক হাজার ৪০০ অস্ত্র ও আড়াই লাখ রাউন্ড গুলি আট মাসেও উদ্ধার করা যায়নি। সেসব অস্ত্র দিয়ে ছিনতাই-ডাকাতি এমনকি খুনের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে অপরাধীরা।
গত ৫ আগস্ট দেশের থানাগুলো থেকে লুট হওয়া পুলিশের প্রায় এক হাজার ৪০০ অস্ত্র ও আড়াই লাখ রাউন্ড গুলি এখনও উদ্ধার হয়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র যতদিন দুষ্কৃতিকারীদের কাছে থাকবে ততদিনই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা থাকবে। পুলিশ সদর দফতর বলছে, অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে।
গণঅভ্যুত্থানে বিতর্কিত ভূমিকার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে ৫ আগস্ট দেশের বিভিন্ন থানায় হামলা চালায় ছাত্র-জনতা। এই সুযোগে থানায় ঢুকে লুটপাট চালায় দুর্বৃত্তরা। লুট করা হয় চীনা রাইফেল, এসএমজি, এলএমজি, শটগানসহ ৫ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬৫১টি গোলাবারুদ।
এসব অস্ত্র দিয়ে শুরু হয় ছিনতাই ডাকাতির মতো ঘটনা। অস্ত্র উদ্ধারে ৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় যৌথ বাহিনীর অভিযান। অপরাধীদের কাছ থেকে ও পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় চার হাজার ৩৭১টি অস্ত্র ও সাড়ে তিন লাখের বেশি গোলাবারুদ। এখনো উদ্ধার করা যায়নি প্রায় এক হাজার ৪০০টি। উদ্ধার না হওয়ার কারনে তৈরি হয়েছে নিরাপত্তা শঙ্কা।
র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক খালিদুল হক হাওলাদার বলেন,অবৈধ অস্ত্রধারীকে কোনো অন্যায় করতে দেব না। আমরা যখনই কারোর কাছে অবৈধ অস্ত্র আছে বলে গোয়েন্দা তথ্য পাচ্ছি তখন সাথেই সাথেই অভিযানে যাচ্ছি। পুলিশ সদর দফতরও জানিয়েছে, ঈদের নিরাপত্তায় এসব অস্ত্র উদ্ধারে বাড়ানো হয়েছে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি।
পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) ইনামুল হক সাগর বলেন, পুলিশের যে অস্ত্রগুলো বাইরে রয়েছে যত দ্রুত সম্ভব সেগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি এই অস্ত্রগুলো যেনো কোনো ধরনের অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার না হয় সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে।
তবে, আট মাসেও লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ত্রুটি দেখছেন অপরাধ বিশ্লেষকেরা। ঈদকে ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিতে এসব অস্ত্র উদ্ধারে জোরালো অভিযানের পরামর্শ তাদের।
সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, যতদিন সবগুলো অস্ত্র উদ্ধার না হবে ততদিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটা অথবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়া বা সংঘাত সহিংসতাসহ অন্যান্য যে কোনো অপরাধ সৃষ্টি হওয়ার যথেষ্ট শঙ্কা থেকেই যাবে।
জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে লুট হওয়া এক হাজার ৪০০ অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আবদুল হাফিজ। তিনি বলেন, পাশাপাশি আড়াই লাখ বিভিন্ন ধরনের গুলি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
আবদুল হাফিজ জানান, দু-একটি জেলায় অস্ত্র এবং গোলাবারুদ যেগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে, সেগুলো কিভাবে তাড়াতাড়ি ধ্বংস করা যায় সেটা সম্পর্কে প্রশ্ন ছিল। আগামী দিনে তাদের কি কি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে, যেমন-আমি উল্লেখ করেছি যে, প্রায় ১ হাজার ৪০০ অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি, যেগুলো ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে লুট হয়ে গিয়েছিল। আড়াই লাখ বিভিন্ন ধরণের গুলি এখনো উদ্ধার হয়নি, সেগুলো তাদের জেলায় কোনো না কোনো জায়গায় আছে। সেগুলো সন্ত্রাসীদের হাতে পড়তে পারে এবং তারা ব্যবহার করতে পারে। এ ধরনের আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায়না।
উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী জানান, ‘প্রায় ৬ হাজার অস্ত্র লুট হয়েছে। তিন ভাগের চার ভাগ উদ্ধার হয়ে গেছে। ৬ লাখ গুলির মধ্যে মাত্র আড়াই লাখ উদ্ধার করা যায়নি, তার মানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকিগুলো পযায়ক্রমে চলমান যে অভিযান আছে সেগুলোর মাধ্যমে উদ্ধার করা সম্ভব হবে।’
আবদুল হাফিজ বলেন, ‘আমি উল্লেখ করেছি, স্বৈরাচার এবং তাদের দোসররা বিভিন্ন জায়গায় সংগঠিত হচ্ছে এবং তারা কর্মসূচি দিচ্ছে। তারা দেশকে একটা অস্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যেতে পারে, সে ব্যাপারে তাদের সজাগ থাকতে হবে। আমি আরও উল্লেখ করেছি, সামনে রমজান আসছে, তখন তাদের ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হবে, দ্রব্যমূল্যের বাজারদর তারা যেন নিজ নিজ এলাকায় কম রাখতে পারেন। বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিতে পারে, সেটা যেন মোকাবিলা করতে পারেন।
চলমান অভিযানের বিষয়ে আবদুল হাফিজ বলেন, চলমান অভিযান যেটা আছে সেটা চলবে। সবাইকে সজাগ থাকতে হবে সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজন হলে সরকার সেখানে ব্যবস্থা নেবে। উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, সিভিল প্রশাসনের সঙ্গে সামরিক বাহিনী বা সশস্ত্র বাহিনীর বোঝাপড়া আরও কিভাবে করা যায় সেটি আলোচনায় এসেছে। যুব সমাজের জন্য ইউনিভার্সেল মিলিটারি ট্রেনিং-এর ব্যবস্থা করা যায় কিনা-সেখানে আমাদের যুব সমাজের যারা আছেন তারা মিলিটারি ট্রেনিং পেতে পারেন। তারা দেশের প্রতিরক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সরকারের আট মাসে উদ্ধার হয়নি ১৪০০অস্ত্র আড়াইলাখ গোলাবারুদ

আপডেট সময় : ০১:৩৫:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫

নিরাপত্তার শঙ্কা অপরাধ বিশ্লেষকের

গত ৫ আগস্ট দেশের থানাগুলো থেকে লুট হওয়া পুলিশের প্রায় এক হাজার ৪০০ অস্ত্র ও আড়াই লাখ রাউন্ড গুলি আট মাসেও উদ্ধার করা যায়নি। সেসব অস্ত্র দিয়ে ছিনতাই-ডাকাতি এমনকি খুনের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে অপরাধীরা।
গত ৫ আগস্ট দেশের থানাগুলো থেকে লুট হওয়া পুলিশের প্রায় এক হাজার ৪০০ অস্ত্র ও আড়াই লাখ রাউন্ড গুলি এখনও উদ্ধার হয়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র যতদিন দুষ্কৃতিকারীদের কাছে থাকবে ততদিনই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা থাকবে। পুলিশ সদর দফতর বলছে, অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে।
গণঅভ্যুত্থানে বিতর্কিত ভূমিকার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে ৫ আগস্ট দেশের বিভিন্ন থানায় হামলা চালায় ছাত্র-জনতা। এই সুযোগে থানায় ঢুকে লুটপাট চালায় দুর্বৃত্তরা। লুট করা হয় চীনা রাইফেল, এসএমজি, এলএমজি, শটগানসহ ৫ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬৫১টি গোলাবারুদ।
এসব অস্ত্র দিয়ে শুরু হয় ছিনতাই ডাকাতির মতো ঘটনা। অস্ত্র উদ্ধারে ৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় যৌথ বাহিনীর অভিযান। অপরাধীদের কাছ থেকে ও পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় চার হাজার ৩৭১টি অস্ত্র ও সাড়ে তিন লাখের বেশি গোলাবারুদ। এখনো উদ্ধার করা যায়নি প্রায় এক হাজার ৪০০টি। উদ্ধার না হওয়ার কারনে তৈরি হয়েছে নিরাপত্তা শঙ্কা।
র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক খালিদুল হক হাওলাদার বলেন,অবৈধ অস্ত্রধারীকে কোনো অন্যায় করতে দেব না। আমরা যখনই কারোর কাছে অবৈধ অস্ত্র আছে বলে গোয়েন্দা তথ্য পাচ্ছি তখন সাথেই সাথেই অভিযানে যাচ্ছি। পুলিশ সদর দফতরও জানিয়েছে, ঈদের নিরাপত্তায় এসব অস্ত্র উদ্ধারে বাড়ানো হয়েছে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি।
পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) ইনামুল হক সাগর বলেন, পুলিশের যে অস্ত্রগুলো বাইরে রয়েছে যত দ্রুত সম্ভব সেগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি এই অস্ত্রগুলো যেনো কোনো ধরনের অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার না হয় সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে।
তবে, আট মাসেও লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ত্রুটি দেখছেন অপরাধ বিশ্লেষকেরা। ঈদকে ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিতে এসব অস্ত্র উদ্ধারে জোরালো অভিযানের পরামর্শ তাদের।
সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, যতদিন সবগুলো অস্ত্র উদ্ধার না হবে ততদিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটা অথবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়া বা সংঘাত সহিংসতাসহ অন্যান্য যে কোনো অপরাধ সৃষ্টি হওয়ার যথেষ্ট শঙ্কা থেকেই যাবে।
জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে লুট হওয়া এক হাজার ৪০০ অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আবদুল হাফিজ। তিনি বলেন, পাশাপাশি আড়াই লাখ বিভিন্ন ধরনের গুলি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
আবদুল হাফিজ জানান, দু-একটি জেলায় অস্ত্র এবং গোলাবারুদ যেগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে, সেগুলো কিভাবে তাড়াতাড়ি ধ্বংস করা যায় সেটা সম্পর্কে প্রশ্ন ছিল। আগামী দিনে তাদের কি কি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে, যেমন-আমি উল্লেখ করেছি যে, প্রায় ১ হাজার ৪০০ অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি, যেগুলো ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে লুট হয়ে গিয়েছিল। আড়াই লাখ বিভিন্ন ধরণের গুলি এখনো উদ্ধার হয়নি, সেগুলো তাদের জেলায় কোনো না কোনো জায়গায় আছে। সেগুলো সন্ত্রাসীদের হাতে পড়তে পারে এবং তারা ব্যবহার করতে পারে। এ ধরনের আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায়না।
উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী জানান, ‘প্রায় ৬ হাজার অস্ত্র লুট হয়েছে। তিন ভাগের চার ভাগ উদ্ধার হয়ে গেছে। ৬ লাখ গুলির মধ্যে মাত্র আড়াই লাখ উদ্ধার করা যায়নি, তার মানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকিগুলো পযায়ক্রমে চলমান যে অভিযান আছে সেগুলোর মাধ্যমে উদ্ধার করা সম্ভব হবে।’
আবদুল হাফিজ বলেন, ‘আমি উল্লেখ করেছি, স্বৈরাচার এবং তাদের দোসররা বিভিন্ন জায়গায় সংগঠিত হচ্ছে এবং তারা কর্মসূচি দিচ্ছে। তারা দেশকে একটা অস্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যেতে পারে, সে ব্যাপারে তাদের সজাগ থাকতে হবে। আমি আরও উল্লেখ করেছি, সামনে রমজান আসছে, তখন তাদের ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হবে, দ্রব্যমূল্যের বাজারদর তারা যেন নিজ নিজ এলাকায় কম রাখতে পারেন। বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিতে পারে, সেটা যেন মোকাবিলা করতে পারেন।
চলমান অভিযানের বিষয়ে আবদুল হাফিজ বলেন, চলমান অভিযান যেটা আছে সেটা চলবে। সবাইকে সজাগ থাকতে হবে সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজন হলে সরকার সেখানে ব্যবস্থা নেবে। উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, সিভিল প্রশাসনের সঙ্গে সামরিক বাহিনী বা সশস্ত্র বাহিনীর বোঝাপড়া আরও কিভাবে করা যায় সেটি আলোচনায় এসেছে। যুব সমাজের জন্য ইউনিভার্সেল মিলিটারি ট্রেনিং-এর ব্যবস্থা করা যায় কিনা-সেখানে আমাদের যুব সমাজের যারা আছেন তারা মিলিটারি ট্রেনিং পেতে পারেন। তারা দেশের প্রতিরক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেন।