ঢাকা ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬

সুবর্ণচরে ঋণ নিয়ে মাছ চাষ, বিষ প্রয়োগে সর্বনাশ চাষির!

আবদুল জব্বার, সুবর্ণচর (নোয়াখালী)
  • আপডেট সময় : ৭২ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় এনজিও থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করা এক চাষির পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৬ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চরওয়াপদা ইউনিয়নের চর বৈশাখী গ্রামে, গত মঙ্গলবার রাতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চর বৈশাখী গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী ও সিরাজ টেলিকমের মালিক সিরাজ উদ্দিন তিনটি ঘেরে চিংড়ি, পাঙ্গাশ, তেলাপিয়া, রুই ও কাতলা প্রজাতির মাছ চাষ করছিলেন। মঙ্গলবার রাতে অজ্ঞাত কেউ তার পুকুরে গ্যাস ট্যাবলেটসহ বিষ প্রয়োগ করে। পরদিন সকালে পুকুরজুড়ে মরা মাছ ভাসতে দেখা যায়।
ভুক্তভোগী চাষি সিরাজ উদ্দিন জানান, “আমি কয়েক বছর ধরে মাছ চাষ করছি। প্রতিদিনের মতো সেদিনও বিকেলে মাছগুলোকে খাবার দিয়েছিলাম। রাতে এসে দেখি সব মাছ মরে ভেসে উঠেছে। আমার তিনটি ঘেরে চাষ করা মাছগুলো অল্প সময়ের মধ্যেই বিক্রির উপযোগী হচ্ছিল। কেউ শত্রুতাবশত বিষ দিয়েছে। এতে আমার ৫-৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “দুই মাস আগে একটি এনজিও থেকে তিনটি ঘের দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে সাতক্ষীরা ও কুমিল্লা থেকে মাছ এনে ছাড়ি। এখন আমি একেবারে নিঃস্ব। যারা আমার এত বড় ক্ষতি করেছে, তাদের বিচার চাই।”
স্থানীয় বাসিন্দা ইউনুস শিকদার বলেন, “সিরাজ মাছ চাষ করে পরিবার চালান। এভাবে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন করা অত্যন্ত অমানবিক। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।”
এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফয়জুল ইসলাম বলেন, “সিরাজ উদ্দিন বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ভবিষ্যতে সরকারিভাবে তাকে প্রণোদনা বা অন্যান্য সহায়তায় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সুবর্ণচরে ঋণ নিয়ে মাছ চাষ, বিষ প্রয়োগে সর্বনাশ চাষির!

আপডেট সময় :

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় এনজিও থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করা এক চাষির পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৬ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চরওয়াপদা ইউনিয়নের চর বৈশাখী গ্রামে, গত মঙ্গলবার রাতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চর বৈশাখী গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী ও সিরাজ টেলিকমের মালিক সিরাজ উদ্দিন তিনটি ঘেরে চিংড়ি, পাঙ্গাশ, তেলাপিয়া, রুই ও কাতলা প্রজাতির মাছ চাষ করছিলেন। মঙ্গলবার রাতে অজ্ঞাত কেউ তার পুকুরে গ্যাস ট্যাবলেটসহ বিষ প্রয়োগ করে। পরদিন সকালে পুকুরজুড়ে মরা মাছ ভাসতে দেখা যায়।
ভুক্তভোগী চাষি সিরাজ উদ্দিন জানান, “আমি কয়েক বছর ধরে মাছ চাষ করছি। প্রতিদিনের মতো সেদিনও বিকেলে মাছগুলোকে খাবার দিয়েছিলাম। রাতে এসে দেখি সব মাছ মরে ভেসে উঠেছে। আমার তিনটি ঘেরে চাষ করা মাছগুলো অল্প সময়ের মধ্যেই বিক্রির উপযোগী হচ্ছিল। কেউ শত্রুতাবশত বিষ দিয়েছে। এতে আমার ৫-৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “দুই মাস আগে একটি এনজিও থেকে তিনটি ঘের দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে সাতক্ষীরা ও কুমিল্লা থেকে মাছ এনে ছাড়ি। এখন আমি একেবারে নিঃস্ব। যারা আমার এত বড় ক্ষতি করেছে, তাদের বিচার চাই।”
স্থানীয় বাসিন্দা ইউনুস শিকদার বলেন, “সিরাজ মাছ চাষ করে পরিবার চালান। এভাবে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন করা অত্যন্ত অমানবিক। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।”
এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফয়জুল ইসলাম বলেন, “সিরাজ উদ্দিন বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ভবিষ্যতে সরকারিভাবে তাকে প্রণোদনা বা অন্যান্য সহায়তায় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”