ঢাকা ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

লিখিত অভিযোগেও প্রতিকার মেলেনি

গোবিন্দগঞ্জের ইউএনওর বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ

গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১৭১ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার মেলেনি।
জানা গেছে, ইউএনও সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় যোগদান করেন। তিনি যোগদানের পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থাকার পরও স্থানীয়দের মতামত উপেক্ষা করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে শহীদ মিনার নির্মাণ করেন। সম্প্রতি রাতের আধাঁরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সীমানা প্রাচীরের দেয়াল ভেঙ্গে গ্রিল খুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। অভিযোগ রয়েছে, হাট ইজারদারের সঙ্গে মোটা অংকের ঘুষ বাণিজ্য করে ইউএনও নিজেই ওই কাজটি করিয়েছেন। শহীদ মিনা ভাংঙ্গার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু দৃর্বৃত্তদের সনাক্ত বা আইনের আওতায় আনা হয়নি। বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ সেটি নিয়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভ মিছিল করলেও অদ্যবধি কোন প্রতিকার মেলেনি।
অপরদিকে, সরকারি অন্তত ৮৯টি পুকুর ইজারা দেওয়া হয়। এরমধ্যে ১৩টি ভূয়া মৎসজীবি সমিতির নামে ১৬টি পুকুর ইজারা দেয় জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি। তাছাড়া ৮৯টি পুকুর ইজারায় মোটা অংকের ঘুষ বাণ্যিজ্যের অভিযোগ ওঠে ইউএনওর বিরুদ্ধে। এসব পুকুর ইজারায় অনিয়ম নিয়ে আদালতে মামলাও করা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, গোবিন্দগঞ্জ হাট ইজারায় প্রায় ২ কোটি টাকার হাট ঘুষ বাণিজ্য করে গত সনের তুলনায় সরকারি সিডিউল মোতাবেক শতকরা ১০ ভাগ বাড়িয়ে ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ইজারা দেওয়া হয়। এছাড়া ফেয়ার প্রাইসের ডিলার নিয়োগ, টিআর, জিআর, কাবিখা, এডিপি, এলজিএসপিসহ উপজেলা পরিষদের সরকারি বরাদ্দে নানা অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার সহ ঘুষ বাণিজ্য করে আসছেন তিনি। এতে করে সরকার লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
জানতে চাইলে ইউএনও সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, আপনাদের কাজ (সাংবাদিক) তথ্য সংগ্রহ করে নিউজ করা। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে উচ্চ মহলে অভিযোগসহ সংবাদ প্রকাশের পরামর্শ দেন তিনি।
এ ব্যাপারে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক চৌধুরী মোয়াজ্জম আহমদ বলেন, ইউএনওর বিরুদ্ধে বিষয়গুলো শুনেছি। অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

লিখিত অভিযোগেও প্রতিকার মেলেনি

গোবিন্দগঞ্জের ইউএনওর বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ

আপডেট সময় :

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার মেলেনি।
জানা গেছে, ইউএনও সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় যোগদান করেন। তিনি যোগদানের পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থাকার পরও স্থানীয়দের মতামত উপেক্ষা করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে শহীদ মিনার নির্মাণ করেন। সম্প্রতি রাতের আধাঁরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সীমানা প্রাচীরের দেয়াল ভেঙ্গে গ্রিল খুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। অভিযোগ রয়েছে, হাট ইজারদারের সঙ্গে মোটা অংকের ঘুষ বাণিজ্য করে ইউএনও নিজেই ওই কাজটি করিয়েছেন। শহীদ মিনা ভাংঙ্গার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু দৃর্বৃত্তদের সনাক্ত বা আইনের আওতায় আনা হয়নি। বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ সেটি নিয়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভ মিছিল করলেও অদ্যবধি কোন প্রতিকার মেলেনি।
অপরদিকে, সরকারি অন্তত ৮৯টি পুকুর ইজারা দেওয়া হয়। এরমধ্যে ১৩টি ভূয়া মৎসজীবি সমিতির নামে ১৬টি পুকুর ইজারা দেয় জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি। তাছাড়া ৮৯টি পুকুর ইজারায় মোটা অংকের ঘুষ বাণ্যিজ্যের অভিযোগ ওঠে ইউএনওর বিরুদ্ধে। এসব পুকুর ইজারায় অনিয়ম নিয়ে আদালতে মামলাও করা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, গোবিন্দগঞ্জ হাট ইজারায় প্রায় ২ কোটি টাকার হাট ঘুষ বাণিজ্য করে গত সনের তুলনায় সরকারি সিডিউল মোতাবেক শতকরা ১০ ভাগ বাড়িয়ে ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ইজারা দেওয়া হয়। এছাড়া ফেয়ার প্রাইসের ডিলার নিয়োগ, টিআর, জিআর, কাবিখা, এডিপি, এলজিএসপিসহ উপজেলা পরিষদের সরকারি বরাদ্দে নানা অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার সহ ঘুষ বাণিজ্য করে আসছেন তিনি। এতে করে সরকার লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
জানতে চাইলে ইউএনও সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, আপনাদের কাজ (সাংবাদিক) তথ্য সংগ্রহ করে নিউজ করা। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে উচ্চ মহলে অভিযোগসহ সংবাদ প্রকাশের পরামর্শ দেন তিনি।
এ ব্যাপারে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক চৌধুরী মোয়াজ্জম আহমদ বলেন, ইউএনওর বিরুদ্ধে বিষয়গুলো শুনেছি। অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।