কেশবপুর পৌরসভায় বছরে ছয় মাস থাকে জলাবদ্ধতা
- আপডেট সময় : ১৮৫ বার পড়া হয়েছে
যশোরের কেশবপুর পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ গত একমাস ধরে পানিবন্দি হয়ে থাকলেও তাদের খোঁজ-খবর নেয়নি কেউ। ইতিমধ্যে প্রায় ১৫০টি পরিবার যশোর-সাতক্ষীরা সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।
কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ, মহিলা ফাজিল মাদ্রাসা ও মধ্যকুল মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করায় ছেলে মেয়েরা ক্লাসে যেতে পারছে না। পানিবন্দি এলাকায় খাদ্যসহ বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
কেশবপুর পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণির হলেও প্রতি বছর ৯টি ওয়ার্ডের অধিকাংশ এলাকা প্রায় ৫/৬ মাস জলাবদ্ধ হয়ে থাকে। সম্প্রতি টানা বৃষ্টি ও হরিহর নদীর উজানের পানিতে কেশবপুর পৌরস-ভার মাছ বাজার, কাঁচা বাজার, ধান হাটসহ পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের অধিকাংশ গ্রাম তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ৬ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এরমধ্যে মধ্যকুল ও হাবাসপোল গ্রামের অন্তত ৫০টি পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে মধ্যকুল এলাকায় যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের দুই ধারে টংঘর বেঁধে আশ্রয় নিয়েছে। অপরদিকে, ও আলতাপোল এলাকার শতাধিক পরিবার সড়কসহ বিভিন্ন উঁচুস্থানে আশ্রয় নিয়েছে। অন্যরা নিজ নিজ বাড়িতে ঘরের মধ্যে খাট দিয়ে ‘মাচা’ তৈরি করে রয়েছেন। এলাকায় গো-খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় টয়লেট তলিয়ে যাওয়ায় মলত্যাগে সমস্যায় পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। নিম্ন আয়ের মানুষেরা কাজ না পেয়ে খাদ্য সংকটে ভুগলেও উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোন ত্রাণের ব্যবস্থা না করায় অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছেন বন্যার্তরা।
অপরিকল্পিতভাবে মৎস্য ঘের, নদী ও খাল খননসহ ড্রেন নির্মাণ করার ফলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ মধ্যকুল এলাকায় যশোর-সাতক্ষীরা সড়কে আশ্রয় নেয়া পরিবারের জন্য দুটি টয়লেটের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে মধ্যকুল, হাবাসপোল, আলতাপোল গ্রামের অধিকাংশ পরিবার পানিবন্দি হয়ে রয়েছে। এছাড়া বালিয়াডাঙ্গা, ব্রহ্মকাটি, কেশবপুর পৌরসদরসহ অন্য গ্রামগুলির আংশিক এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধ এলাকায় বিষধর সাপের উপদ্রব বেড়েছে। প্রায় প্রতিটা ঘরে সাপ উঠছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
মধ্যকুল গ্রামের সাহাবাজ সরদার, মিলন বিশ্বাস ও আব্দুল বারিক বলেন, গত একমাস ধরে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে পানিবন্দি হয়ে থাকলেও এই পর্যন্ত তাদের খোঁজখবর নেয়নি কেউ। এছাড়া কাজকর্ম না থাকায় খাদ্য সংকট দেখা দিলেও সরকারি-বেসরকারিভাবে তাদের সাহায্যের জন্য কেউ এগিয়ে আসেনি। তারা পানিবন্দি এলাকায় দ্রুত খাদ্য সরবরাহের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।
জানা যায়, হরিহর ও বুড়িভদ্রা নদীতে পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়ার ফলে গত ৮/৯ বছর ধরে ৫/৬ মাস কেশবপুর পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ জলাবদ্ধ হয়ে থাকে।
কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক রেকসোনা খাতুন বলেন, ‘সম্প্রতি অতিবৃষ্টিতে পৌরসভা এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে জলাবদ্ধ মানুষের মাঝে ত্রাণ পৌছে দিতে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
ডিমলায় গভীর গর্তে ধ্বসে পড়েছে প্রাচীর দেয়াল শংকায় ও ঝুকিতে কলেজ শিক্ষক পরিবার।
ডিমলা ( নীলফামারী) প্রতিনিধি নীলফামারী ডিমলায় প্রতিহিংসা বশত গভীর গর্তে ধ্বসে পড়েছে প্রাচীর দেয়াল শংকায় ও ঝুকিতে কলেজ শিক্ষক পরিবার।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে , নীলফামারী জেলা ডিমলা উপজেলার সদরের বাবুরহাট এলাকায় আমজাদ হোসেন সরকারের ছেলে ও ডিমলা ইসলিয়া ডিগ্রী কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জহুরুল ইসলাম গত ১১ বছর আগে ১২ শতক জমি ক্রয় করেন।বর্তমানে তিনি ওই জমিতে তিন তলা বিশিষ্ট ভবনির্মাণ শুরু করে ইতিমধ্যেই এক তলা ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ করেন। ভবন নির্মাণের কাজ শুরুর পর হতে পার্শ্ববর্তী মৃত ক্ষিতিশ চন্দ্র রায়ের ছেলে দীপক চন্দ্র রায় (৩৫)এর০ সাথে চলা চলের রাস্তা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে দীপক কুমার রায় প্রতিহিংসা বসত তার পক্ষীও লোকজন নিয়ে কলেজ শিক্ষক জহুরুল ইসলামের ভবন ঘেঁষে গভীর গর্ত করেন। সৃষ্ট গর্তের কারণে শুক্রবার সকালে শিক্ষক জহুরুল ইসলামের সীমানা প্রাচির ধসে পড়েছে । ঝুঁকিতে পড়েছে সদ্য নির্মিত ভবনটি। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে কোন মুহূর্তে ভবনটি ধসে পড়ে বিধস্ত হতে পারে। এ ব্যাপারে জহুরুল ইসলাম বাদী হয়ে ডিমলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছে। ডিমলা ইসলামিয়া ডিগ্রী কলেজের শিক্ষক জহুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন,জমিটি অভিযুক্ত দীপক কুমার রায়ের নিকট থেকে ক্রয় করার পার হতেই দাতা দীপক কুমারের সাথে চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধ কে কাজে লাগিয়ে দীপক চন্দ্র রায় এ ও তার লোকজন আমার অনুপস্থিতির সুযোগে আমার সদ্য নির্মিত ভবন ঘেসে গভীর গর্ত তৈরি করে এর ফলে শনিবার আমার নির্মিত প্রাচীর সীমানা ধসে পড়েছে। গভীর গর্তের কারণে আমার সদ্য নির্মিত ভবনটিও ঝুঁকিতে পড়েছে । ভবনটি যে কোন মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে। আমি পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি কখন যে ভবনটি ধসে পড়ে।
এ ব্যাপারে ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ফজলে এলাহী জানান, উক্ত ঘটনা নিয়ে ইতিপূর্বেও অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সেটি বিজ্ঞ আদালতে এখন বিচারাধীন রয়েছে। গভীর গর্তের কারণে প্রাচীর দেয়াল ধসে পড়ার বিষয়ে আবারো অভিযোগ পাওয়া গেছে, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

















