টেকনাফ ১২ মানবপাচারকারী ও ইয়াবাসহ ২ চোরাকারবারি গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ৩১৫ বার পড়া হয়েছে
কক্সবাজারের টেকনাফের উপকূল দিয়ে মানবপাচারকারী চক্রের ১০০ জনকে পাচারের একটি মিশন ব্যর্থ করে দিয়েছে বিজিবি। টানা ১৪ দিনের গোয়েন্দা নজরদারি এবং নিজস্ব কৌশলে পাচারকারী চক্রের ১২ জন এবং ১১ নারী, শিশু পুরুষকে উদ্ধারের পর এই মিশনটি ব্যর্থ হয়েছে। তারা মঙ্গলবার উপকূলের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমার হয়ে মালয়েশিয়ায় পাচারের চেষ্টা করেছিল।
টেকনাফে ৪৪ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবাসহ দুইজন মাদক কারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। আটকরা হলেন মুহাম্মদ ইয়াসিন ও রহমত আলী। এ সময় পাচার কাজে ব্যবহৃত একটি কার গাড়িও জব্দ করা হয়।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ভোর পর্যন্ত টেকনাফের গহিন পাহাড়ে পাচারকারীদের আস্তানাসহ কয়েকটি স্থানে এই অভিযান চালানো হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিজিবির টেকনাফস্থ ২ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান বিস্ময় প্রকাশ করে জানিয়েছেন, টেকনাফের কচ্ছপিয়া এলাকার গহিন পাহাড়ে অভিজাত ভবন করে ব্যবহার করা হচ্ছে আস্তানা হিসেবে। রয়েছে বিদ্যুৎ সুবিধাও। এই গহিন পাহাড়ে কোনো প্রকার মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকলেও পাচারকারী চক্রের সদস্যরা ইন্টারনেট সুবিধা পাচ্ছেন। ডিভাইস টু ডিভাইস সংযুক্তের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রণ করা হয় মানবপাচার।
আটক ব্যক্তিরা হলেন, মৃত হোসেন আহমেদের ছেলে আব্দুর রশিদ (৩৫), মৃত জগির আহমদের ছেলে মো. জাহেদ (১৮), লেঙ্গুর বিলের নুর বশরের ছেলে মিজানুর রহমান (২০), মো. আইয়ুবের ছেলে মো. আবু তৈয়ব (২৫), নুর মোহাম্মদের ছেলে মো. ইদ্রিস (৩৫), মৃত রশিদ উল্লাহর ছেলে মো. জুবায়ের (৩৩), নুর মোহাম্মদের ছেলে নুরুল আবছার (১৮), মৃত সোহরাবের ছেলে মো. ইসমাইল (৩২), মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে মো. ইমরান (২৮), নুর ইসলামের ছেলে নুর মোহাম্মদ (৪০), মো. জহিরের ছেলে মাহমুদ উল্লাহ (৩০), মোহাম্মদের স্ত্রী খুরশিদা বেগম (৩৪)।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টেকনাফ বিজিবির দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান জানান, বিজিবির গোয়েন্দাদের মালয়েশিয়াগামী সাজিয়ে মানবপাচারকারী চক্রের সুনির্দিষ্ট তথ্য শনাক্ত করা হয়। এর প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে শুরু করা হয় বিজিবির অভিযান। মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন কচ্ছপিয়া এবং বড়ইতলি এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় ১২ জনকে। উদ্ধার করা হয় ১১ জন।
টেকনাফের হোসেন, সাইফুল এবং নিজামের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ চক্রের মূল হোতারা বিভিন্ন শাখা প্রশাখায় ও দলে বিভক্ত হয়ে এই মানব পাচার করে থাকে। বাংলাদেশে অবস্থানরত কিছু মাঠ পর্যায়ের বেতনভুক্ত সদস্য মালয়েশিয়ায় যাত্রী সংগ্রহের উদ্দেশে বিভিন্ন প্রলোভন প্রদর্শন করে। এসব প্রলোভনের মধ্যে রয়েছে উচ্চ বেতনের চাকরি, সুবিধাজনক কর্মসংস্থান, দ্রুত ধনী হওয়ার স্বপ্ন, অল্প খরচে বিদেশ যাত্রা এবং বিনা অর্থে প্রেরণ করে পরবর্তীতে কর্মস্থলে কাজের মাধ্যমে খরচ পরিশোধের সুযোগের প্রতিশ্রুতি।
এ ঘটনায় হোসেন, সাইফুল ও নিজামকে পলাতক আসামি করে আটক ১২ জনের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বিজিবির একটি টহল দল পর্যটক মোড় সংলগ্ন পুরাতন মেরিন ড্রাইভ রোডের জাফর চেয়ারম্যানের বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে।
এ সময় টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি প্রাইভেটকারের গতিরোধ করে তল্লাশি চালান। এ সময় প্রাইভেটকারে থাকা যাত্রীদের সন্দেহজনক আচরণ ও গতিবিধির কারণে গাড়ির ভেতরে তল্লাশি শুরু করেন। তল্লাশির পর প্রাইভেটকারের ভেতরে ২টি গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি গ্যাস সিলিন্ডার সন্দেহজনক মনে হলে সেটি স্থানীয় লেদ মেশিনের দোকানে নিয়ে কাটা হলে তার ভেতরে অভিনব কায়দায় রাখা ৪৪ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। আটক আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।




















