ঢাকা ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

নিখোঁজ ছাত্রীর মরদেহ পাওয়া গেল প্রতিবেশীর গোয়ালঘরে

এম. এ. জলিল রানা, জয়পুরহাট
  • আপডেট সময় : ১০৯ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

২০ সেপ্টেম্বর-২০২৫। জয়পুরহাটে নিখোঁজ ছাত্রীর মরদেহ পাওয়া গেল প্রতিবেশীর গোয়ালঘরে।জেলার ক্ষেতলাল উপজেলায় নিখোঁজের ৪৮ ঘণ্টা পর তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার আনুমানিক রাত ৮টার দিকে উপজেলার বড়তারা ইউনিয়নের শালবন গ্রামের প্রতিবেশীর বাড়ির গোয়ালঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় উত্তেজিত লোকজন প্রতিবেশীর বাড়ি ঘেরাও করে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। এদিন রাত ৯টার দিকে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থল গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুই নারীকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসেন।
নিহত ওই ছাত্রীর নাম মোছা: তাসনিয়া (১০)। সে শালবন গ্রামের এরশাদ আলীর মেয়ে। স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এবং পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর-২০২৫) সন্ধ্যা ৬টার পর বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে তাসনিয়া নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনেরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তাকে পায়নি। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর-২০২৫) শিশুটির বাবা এরশাদ আলী ক্ষেতলাল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেন। শুক্রবার সন্ধ্যার পর প্রতিবেশী একরামুল হোসেনের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। গ্রামের লোকজনের সন্দেহ হলে তারা একরামুলের বাড়িতে যায়। একরামুল ঘটনা টের পেয়ে দ্রুত বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। গ্রামবাসীরা একরামুলের বাড়ির গোয়ালঘরে একটি বস্তায় তাসনিয়ার মরদেহ দেখতে পান।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত লোকজন একরামুলের বাড়িটি ঘেরাও করে রাখেন। তারা থানা-পুলিশকে খবর দেন। রাত ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন বাড়িতে ঢুকে হামলা-ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। রাত ৯টার দিকে সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুই নারীকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসেন।
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আব্দুল করিম বলেন, শিশু তাসনিয়া নিখোঁজ ছিল। তার বাবা এরশাদ হোসেন থানায় জিডি করেন। প্রতিবেশী একরামুলের গোয়ালঘরে তার অর্ধগলিত বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। শিশু তাসনিয়াকে শ্বাসরোধ হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুইজন নারীকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত সত্যতা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নিখোঁজ ছাত্রীর মরদেহ পাওয়া গেল প্রতিবেশীর গোয়ালঘরে

আপডেট সময় :

২০ সেপ্টেম্বর-২০২৫। জয়পুরহাটে নিখোঁজ ছাত্রীর মরদেহ পাওয়া গেল প্রতিবেশীর গোয়ালঘরে।জেলার ক্ষেতলাল উপজেলায় নিখোঁজের ৪৮ ঘণ্টা পর তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার আনুমানিক রাত ৮টার দিকে উপজেলার বড়তারা ইউনিয়নের শালবন গ্রামের প্রতিবেশীর বাড়ির গোয়ালঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় উত্তেজিত লোকজন প্রতিবেশীর বাড়ি ঘেরাও করে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। এদিন রাত ৯টার দিকে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থল গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুই নারীকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসেন।
নিহত ওই ছাত্রীর নাম মোছা: তাসনিয়া (১০)। সে শালবন গ্রামের এরশাদ আলীর মেয়ে। স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এবং পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর-২০২৫) সন্ধ্যা ৬টার পর বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে তাসনিয়া নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনেরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তাকে পায়নি। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর-২০২৫) শিশুটির বাবা এরশাদ আলী ক্ষেতলাল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেন। শুক্রবার সন্ধ্যার পর প্রতিবেশী একরামুল হোসেনের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। গ্রামের লোকজনের সন্দেহ হলে তারা একরামুলের বাড়িতে যায়। একরামুল ঘটনা টের পেয়ে দ্রুত বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। গ্রামবাসীরা একরামুলের বাড়ির গোয়ালঘরে একটি বস্তায় তাসনিয়ার মরদেহ দেখতে পান।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত লোকজন একরামুলের বাড়িটি ঘেরাও করে রাখেন। তারা থানা-পুলিশকে খবর দেন। রাত ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন বাড়িতে ঢুকে হামলা-ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। রাত ৯টার দিকে সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুই নারীকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসেন।
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আব্দুল করিম বলেন, শিশু তাসনিয়া নিখোঁজ ছিল। তার বাবা এরশাদ হোসেন থানায় জিডি করেন। প্রতিবেশী একরামুলের গোয়ালঘরে তার অর্ধগলিত বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। শিশু তাসনিয়াকে শ্বাসরোধ হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুইজন নারীকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত সত্যতা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।