আলোচনায় আসতে একজনকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই ফেঁসে যাচ্ছেন মজিবার রহমান
- আপডেট সময় : ৯২ বার পড়া হয়েছে
যশোরের কেশবপুরে চাচতো ভাইদের সাথে একটি মিসকেস মামলায় হেরে গিয়ে ৪ মাস পর, ভূমি অফিসের সার্টিফিকেট এ্যাসিস্টান্ট মোঃ হাদীউজ্জামানকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই ফেঁসে যাচ্ছেন মোঃ মজিবার রহমান নামে এক ব্যক্তি। ওই মিস কেসের সার্টিফাইট নকল তলতে ভূমি অফিসের হাদীউজ্জামান তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে, গত ১১ নভেম্বর তিনি সাংবাদিকদের নিকট অভিযোগ করেন। বিষয়টি ফেসবুকসহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হলে, ১২ নভেম্বর প্রেসক্লব কেশবপুরের ৫/৬জন সাংবাদিক এ ব্যাপারে তার বক্তব্য নিতে গেলে তিনি ভিডিও বক্তব্যের মাধ্যমে জানান, অফিসে নকল তোলার জন্য মোঃ হাদিউজ্জামান তার কাছ থেকে কোন টাকা নেননি। ভুমি অফিসের মলয় বাবু তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়েছেন। ইতিমধ্যে ১০ হাজার টাকা তিনি তাকে ফেরতও দিয়েছেন। বাকী ১০ হাজার টাকা ফেরত দেবেন বলে জানান। তার কাছে বক্তব্য নিতে গেলে তিনি ভিডিও সাক্ষাতকার নিতে বলেন সাংবাদিকদের। মুজিবুর রহমানের সাথে আলাপ চারিতার এক পর্যায়ে তিনি বলেই ফেলেন এরই মধ্যে তিনি তার কেসের নকল ভূমি অফিস থেকে বুঝে পেয়েছেন। ফেসবুকসহ পত্র-পত্রিকায় আলোচনায় আসতে তিনি এই কাজটি করেছেন। অবস্য এজন্য তিনি দুঃখ প্রকাশও করেন।সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানা যায়, কেশবপুর উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের আঃ গণি সানার ছেলে মোঃ মজিবার রহমান তার চাচাত ভাই মোঃ মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) অফিসে ১৫০ ধারায় একটি মিসকেস মামলা দায়ের করেন। যার নম্বর-১৪৪/২০২৪-২৫। তাং- ১৯/১২/২০২৪। যার আরএস খতিয়ান নং-১৩৮, নামজারি খতিয়ান নং-১৩৪০, ৮৯১, দাগ নং-৬২৪। পরবর্তিতে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মামলাটি আমলে নিয়ে ৩০/০৭/২৫ তারিখে তার শুনানীর জন্য দিন ধার্য করে, বাদী ও বিবাদী পক্ষকে নোটিশ প্রদান করেন। কিন্তু ধার্য তারিখে মামলার বাদী মজিবার রহমান ওই জমির পক্ষে তার প্রাপ্যতার কোন প্রমান দিতে না পারায় সহকারি কমিশনার (ভূমি)মোঃ শরীফ নেওয়াজ মামলাটি নামঞ্জুর পূর্বক নথি জাতের নির্দেন দেন। ওই কেসের আবেদন থেকে শুরু করে, নায়েবের তদন্ত প্রতিবেদনসহ অন্যান্য কাজে মজিবাবের পক্ষে সহয়তা করেন মলয় নামে এক প্রতারক। এসব প্রতারনার জন্য মলয়কে ভূমি অফিস ঢোকার কড়াকড়ি আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ। এতে ক্ষিপ্ত হয়েই সে মজিবার রহমানকে দিয়ে ওই মিথ্যা নাটক সাজিয়েছেন বলে অনুসন্ধানে জানা যায়। পরবর্তিতে মজিবার রহমান ওই মামলার সার্টিফাইট নকল তোলার জন্য গত ১৫/১০/২০২৫ তারিখে যশোর জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি আবেদন করেন। আবেদনটি ১৯/১০/২৫ তারিখে কেশবপুর ভূমি অফিসের নাজির খানায় আসে। এরপর ১২/১১/২৫ তারিখে নাজির খানা থেকে তিনি তার সার্টিফাইট নকল কপি বুঝে নিয়ে যান। নকল খানার নাজির অভিজিৎ বিশ্বাস। উপজেলার বারইহাটি গ্রামের মলয় ভূমি অফিসের লোক পরিচয় দিয়ে ১০/১২ বছর ধরে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারনা করে আসছে বলে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। মোঃ হাদীউজ্জামান জানান নকল খানার নকল সরবরহের দায়িত্বে আছেন নাজির অভিজিৎ বিশ্বাস। অথচ তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি এব্যাপারে মজিবার রহমানসহ সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে আদালতে মানহানীর মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
মজিবার রহমান বলেন, তিনি জার প্রাপ্য জমি বুঝে পেতে কেশবপুর ভূমি অফিসে ১৫০ ধারায় একটি মিসকেস্ মামলা দায়ের করেন। মামলাটি খারিজ হয়ে গেলে ভার নকল তোলার জন্য মলয়কে ২০ হাজার টাকা দেন। ১২ হতেধর নজির খানা থেকে তিনি তার নকলও বুঝে পেয়েছেন।
ভূমি অফিসের সার্টিফিকেট এ্যাসিস্টান্ট মোঃ হাদীউজ্জামান বলেন, মজিবার রহমান গত ৪ মাস পূর্বে ১৫০ ধারায় একটি মিসকেচ মামলা করেন। মামলাটি তার পক্ষে পরিচালনা করেন বারইহাটি গ্রামের মলয় নামে একব্যাক্তি।
দোতরফা শুনানীতে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। এরপর মলয় তার নকল তোলার জন্য অফিসে আবেদন করেছেন কি-না তিনি তা জানেন না এবং এ ব্যাপারে মজিবার রহমানের সাথে তার কোন কথাও হয়নি।
উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ শরীফ নেওয়াজ বলেন, মিস-১৪৪/২০২৪-২৫, ১৫০ ধারার মামলাটির নথি পর্যালোচনার সময় বাদী পক্ষ মজিবার রহমানের প্রাপ্যতা সঠিক না থাকায় তা খারিজ হয়ে যায়। এরপর ওই মামলার নকল তোলার জন্য বাদী পক্ষ নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করলে তার সার্টিফাইট নকল সরবরহ করা হয়েছে।নকল তোলার জন্য অফিসের কেউ কোন অর্থ গ্রহন করেনি।



















