ঢাকা ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬

নোয়াখালী প্রাইম হসপিটালে হাতের অপারেশন করতে গিয়ে প্রাণ হারালো নারী

গাজী রুবেল, নোয়াখালী ব্যুরোপ্রধান
  • আপডেট সময় : ৮৬ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীর প্রাইম হসপিটালে ভুল চিকিৎসায় রাবেয়া বেগম (৪৮) নামে নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
আজ রোববার নিহতের মেঝো ছেলে মো. রাজন হোসেন এমন অভিযোগ করেন। এর আগে, শনিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে প্রাইম হসপিটালের অপারেশন থিয়েটারে ওই নারী মারা যান। মৃত রাবেয়া লক্ষীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের শেখপুর গ্রামের সর্দার বাড়ির শামছুল হুদার স্ত্রী।
নিহতের ছেলে রাজন হোসেন অভিযোগ করে বলেন, তার মা দুই মাস আগে বাড়ির উঠানে পা পিছলে পড়লে বাম হাতের কব্জির ওপরের হাড় ভেঙে যায়। তাৎক্ষণিক চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের এক ডাক্তারের কাছে ভাঙা হাতে প্লাস্টার করা হয়। দুই মাস পর প্লাস্টার খুলে এক্সরে করলে দেখা যায় ভাঙা হাড় জোড়া লাগেনি। এরপর মাইজদীর প্রাইম হসপিটালের ডাক্তার, নোয়াখালী মেডিক্যাল কলেজের এসিস্টেন্ট প্রফেসর ডা. ফরিদুল ইসলামের সাথে ৭৫ হাজার টাকায় মায়ের বাম হাতের ভাঙা স্থানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পাত বসানোর চুক্তি হয়। চুক্তি মোতাবেক শনিবার সন্ধ্যায় মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। একই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে অজ্ঞান করেন অ্যানেসথেসিয়ান গোলাম হায়দার। পরে তার আর জ্ঞান ফেরেনি।
রাজন অভিযোগ আরও বলেন, অজ্ঞান করার এক ঘন্টা পর তাকে আইসিইউতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে ব্যাপক তালবাহানা করে রাত সাড়ে ৩টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান আমার মা মারা গেছেন। প্রকৃতপক্ষে আমার মা অজ্ঞান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যান। রোববার সকালে হাসপাতাল থেকে আমাদের জানানো হয় অপারেশন, আইসিইউ ও অ্যাম্বুলেন্সের কোন খরচ লাগবেনা আপনারা মরদেহ নিয়ে যান। হাসপাতাল থেকে আমাকে বলা হয়েছে আমার মায়ের হাই প্রেসার থাকায় এমন হয়েছে। আবার বলে লো প্রেসার ছিল, এজন্য এমন হয়েছে। রবিবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে আমার বড় ভাই ও জেঠা হাসপাতালে এসে সমঝোতা করে মরদেহ নিয়ে গেছেন। কি সমঝোতা হয়েছে সেটা আমি এখনো জানিনা।
যোগাযোগ করা হেেল, নোয়াখালী মেডিক্যাল কলেজের এসিস্টেন্ট প্রফেসর এবং মাইজদীর প্রাইম হসপিটালের ডাক্তার ফরিদুল ইসলাম জানান, তিনি নিজে অপারেশনের দায়িত্বে ছিলেন, রোগির অপারেশন সুন্দর ভাবে হয়েছে কিন্তু রোগি হার্টএটাক করেছে। নোয়াখালী মাইজদী প্রাইম হসপিটালের এজিএম শিপন সেন ভুল চিকিৎসার মৃত্যু অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, অপারেশনের পর রোগীর অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। ডাক্তার রোগীর স্বজনদের বলেছে আপনারা মামলা করার প্রয়োজন মনে করলে করেন।
নোয়াখালী সিভিল সাজর্ন ডাক্তার মরিয়ম সিমি বলেন, এ ঘটনায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নোয়াখালী প্রাইম হসপিটালে হাতের অপারেশন করতে গিয়ে প্রাণ হারালো নারী

আপডেট সময় :

নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীর প্রাইম হসপিটালে ভুল চিকিৎসায় রাবেয়া বেগম (৪৮) নামে নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
আজ রোববার নিহতের মেঝো ছেলে মো. রাজন হোসেন এমন অভিযোগ করেন। এর আগে, শনিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে প্রাইম হসপিটালের অপারেশন থিয়েটারে ওই নারী মারা যান। মৃত রাবেয়া লক্ষীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের শেখপুর গ্রামের সর্দার বাড়ির শামছুল হুদার স্ত্রী।
নিহতের ছেলে রাজন হোসেন অভিযোগ করে বলেন, তার মা দুই মাস আগে বাড়ির উঠানে পা পিছলে পড়লে বাম হাতের কব্জির ওপরের হাড় ভেঙে যায়। তাৎক্ষণিক চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের এক ডাক্তারের কাছে ভাঙা হাতে প্লাস্টার করা হয়। দুই মাস পর প্লাস্টার খুলে এক্সরে করলে দেখা যায় ভাঙা হাড় জোড়া লাগেনি। এরপর মাইজদীর প্রাইম হসপিটালের ডাক্তার, নোয়াখালী মেডিক্যাল কলেজের এসিস্টেন্ট প্রফেসর ডা. ফরিদুল ইসলামের সাথে ৭৫ হাজার টাকায় মায়ের বাম হাতের ভাঙা স্থানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পাত বসানোর চুক্তি হয়। চুক্তি মোতাবেক শনিবার সন্ধ্যায় মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। একই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে অজ্ঞান করেন অ্যানেসথেসিয়ান গোলাম হায়দার। পরে তার আর জ্ঞান ফেরেনি।
রাজন অভিযোগ আরও বলেন, অজ্ঞান করার এক ঘন্টা পর তাকে আইসিইউতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে ব্যাপক তালবাহানা করে রাত সাড়ে ৩টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান আমার মা মারা গেছেন। প্রকৃতপক্ষে আমার মা অজ্ঞান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যান। রোববার সকালে হাসপাতাল থেকে আমাদের জানানো হয় অপারেশন, আইসিইউ ও অ্যাম্বুলেন্সের কোন খরচ লাগবেনা আপনারা মরদেহ নিয়ে যান। হাসপাতাল থেকে আমাকে বলা হয়েছে আমার মায়ের হাই প্রেসার থাকায় এমন হয়েছে। আবার বলে লো প্রেসার ছিল, এজন্য এমন হয়েছে। রবিবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে আমার বড় ভাই ও জেঠা হাসপাতালে এসে সমঝোতা করে মরদেহ নিয়ে গেছেন। কি সমঝোতা হয়েছে সেটা আমি এখনো জানিনা।
যোগাযোগ করা হেেল, নোয়াখালী মেডিক্যাল কলেজের এসিস্টেন্ট প্রফেসর এবং মাইজদীর প্রাইম হসপিটালের ডাক্তার ফরিদুল ইসলাম জানান, তিনি নিজে অপারেশনের দায়িত্বে ছিলেন, রোগির অপারেশন সুন্দর ভাবে হয়েছে কিন্তু রোগি হার্টএটাক করেছে। নোয়াখালী মাইজদী প্রাইম হসপিটালের এজিএম শিপন সেন ভুল চিকিৎসার মৃত্যু অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, অপারেশনের পর রোগীর অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। ডাক্তার রোগীর স্বজনদের বলেছে আপনারা মামলা করার প্রয়োজন মনে করলে করেন।
নোয়াখালী সিভিল সাজর্ন ডাক্তার মরিয়ম সিমি বলেন, এ ঘটনায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।