জয়পুরহাটে ৩২ ইউনিয়ন কৃষি সেবা কেন্দ্রের প্রায় ২৭টিই পরিত্যক্ত
কৃষি সেবা বঞ্চিত প্রান্তিক চাষিরা
- আপডেট সময় : ১০৬ বার পড়া হয়েছে
জয়পুরহাটে ৩২ ইউনিয়ন কৃষি সেবা কেন্দ্রের প্রায় ২৭টিই পরিত্যক্ত, কৃষি সেবা বঞ্চিত প্রান্তিক চাষিরা।
এম.এ. জলিল রানা,জয়পুরহাট: ২৬ নভেম্বর-২০২৫। জয়পুরহাটে ৩২ ইউনিয়ন কৃষি সেবা কেন্দ্রের প্রায় ২৭টিই পরিত্যক্ত, কৃষি সেবা থেকে বঞ্চিত প্রান্তিক চাষিরা। জেলায় অযত্ন-অবহেলায় জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে প্রান্তিক চাষিদের একেবারে কাছের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন কৃষি সেবা কেন্দ্রগুলো। বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে হয়েছে জনশূন্য,পরিত্যক্ত ভবনগুলো এখন যেন পরিনত হয়েছে ময়লার ভাগার আর মাদকসেবীদের আখড়ায়।রাতেদিনে বিরতিহীভাবে চলে মাদকসেবীদের আনাগোনা। এক সময়ের গুরুত্বপূর্ণ এইসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একদিকে যেমন কৃষি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রান্তিক চাষিরা। তেমনি অপরদিকে নষ্ট হচ্ছে সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পদ। কেন্দ্রগুলো দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে আবারও কৃষি সেবা আগের অবস্থায় ফিরে আসবে আমনটাই দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনসাধাণর ও চাষিরা।
একাধিক সুত্রে জানা গেছে, প্রায় ৮০ দশকে প্রান্তিক চাষিদের দোরগোড়ায় কৃষি সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই জেলার ৩২টি ইউনিয়নে নির্মাণ করা হয় ‘ইউনিয়ন কৃষি সম্প্রসারণ কেন্দ্র’ ‘কৃষি তথ্য সেবা এবং পরামর্শ প্রদান কেন্দ্র’। কেন্দ্রগুলোতে প্রথম দিকে বীজ, সার ও কৃষি পণ্য সংরক্ষণ করা হতো। এছাড়াও কেন্দ্রে গেলে কৃষি বিভাগের কাছ থেকে কৃষিপণ্য উৎপাদনে নানাও পরামর্শ পেতেন স্থানীয় চাষিরা। পরে কিছু কিছু কেন্দ্রে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা চাষিদের মাঝে পরামর্শ দিতেন। কিন্তু ভবনগুলো দীর্ঘদিন থেকে সংস্কার না করায় বেহালদশার অবস্থায় থাকতে থাকতে এখন কালের বিবর্তন আর সময়ের ব্যাধানে ভবনগুলো জনশূন্য ও পরিত্যক্ত রয়েছে। কোনো ভবনের দেয়াল ও ছাদের পলেস্তরা খুলে গেছে, কোনটার ভেঙে গেছে জানালা দরজা, ভরে গেছে আগাছা আর লতাপাতায়। জরাজীর্ণ ভবনগুলো দেখতে যেন ভুতুড়ে বাড়ি আর ময়লার ভাগার। জেলার ৩২টি ইউনিয়নের ৪-৫টি ছাড়া বাকি সবগুলো কেন্দ্রেই এখন পরিত্যাক্ত। স্থানীয় জনসাধারণ ও চাষিদের অভিযোগ, ভবনগুলো পরিত্যক্ত থাকায় এখানে চলে মাদকসেবীদের আড্ডা। সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে এসব কেন্দ্র নির্মাণ করলেও সংস্কারের অভাবে সেবা পাচ্ছেন না প্রান্তিক চাষিরা। তাই দ্রুত সংস্কার করে পূর্বের অবস্থায় প্রান্তিক চাষিদের কৃষি সেবা নিশ্চিত করার জোড়দাবি তাদের।
জেলার সদর উপজেলার পূরানাপৈল গ্রামের কৃষক শাহাদৎ ও হোসেন আলী বলেন, পূরানাপৈল ইউনিয়ন কৃষি অফিসে আগে কৃষি অফিসার বসতো। আমরা কৃষি বিষয়ে আসলে যে কোনো পরামর্শ পেতাম। বেশকিছু বছর থেকে দেখছি এই অফিস বন্ধ। কৃষি কর্মকর্তারা এখন কোথায় থাকে খুঁজে পাওয়া যায় না। এই অফিসে কেউ না আসার কারণে বাজারের যত ময়লা আবর্জনা সব অফিসের সামনে সহ চারপাশে ফেলা হচ্ছে, এখন অফিসটি যেন ময়লার স্তুপ।
একই গ্রামের আব্দুল মতিন ,বাদসা ও আবু বক্কর বলেন, আমরা আগে দেখেছি কৃষি অফিসাররা এখানে থাকতো। বিভিন্ন কৃষি উপকরণ এখানে পাওয়া যেত। কোন ফসলের কী রোগ এখানে আসলেই পরামর্শ পাওয়া যেত। এখন বছরের পর বছর ধরে এই অফিস পরিত্যক্ত ,ময়লার ভাগাড় হয়ে দুর্গন্ধে চলাচল করা যায় না।অনেকেই এখানে নেশা করে,বলা যায় নেশাখোরদের আখড়া। আমরা চাই আগের মতো কৃষি অফিসাররা আবারও এখানে বসুক। কৃষকদের সহযোগিতা করুক।
জামালগঞ্জের আলা উদ্দীন বলেন, সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে এসব কৃষি সেবা কেন্দ্র নির্মাণ করেছে কিন্তু এখন সংস্কারের অভাবে এসব কেন্দ্রগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে সরকারের সম্পদ নষ্ট হচ্ছে, আর আমরাও সেবা পাচ্ছি না। দ্রুত ভবনগুলো সংস্কার করা হোক কেন্দ্রগুলো।
সদরের জামালপুর গ্রামের চাষি আকমল হোসেন বলেন, আমাদের ইউনিয়ন কৃষি সেবা অফিসে এক সময় বীজ থেকে শুরু করে সব ধরনের কৃষি সহযোগিতা পাওয়া যেত। কিন্তু এখানে অনেক দিন থেকে কোনো অফিসার আসতে দেখিনি। এজন্য বন্ধ হয়ে আছে ,আর লতাপাতায় ভবনটি ভুতের বাড়ির মতো দেখাচ্ছে। অনেক ছেলে-পেলে এখানে রাতের বেলা বেলাতো দুরের কথা দিনের বেলাতেও নেশা করে। কৃষি সেবা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রগুলো দ্রুত সংস্কার করা খুবী জরুরী।
প্রতিবেদনের সত্যতা স্বীকার করে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক এ.কে.এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, প্রথমদিকে এসব অফিসগুলোতে বীজসহ কৃষি পণ্য সংরক্ষণ করা হতো। পরে কিছু অফিসে আমাদের অফিসাররা কৃষকদের কৃষিসেবা দিতেন। পরে সংস্কারের অভাবে ভবনগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় ৫-৬টি বাদ দিয়ে সবগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। যদি বরাদ্দ পাওয়া যায় তাহলে ভবনগুলো সংস্কার করা হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।


















