ঢাকা ০৫:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬

হাতিয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, নিহত ৫

নোয়াখালী ব্যুরোপ্রধান
  • আপডেট সময় : ৮৭ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার জাগলার চরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৮ থেকে ১০ জন। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ একজনের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারলেও বাকি চারজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
গতকাল মঙ্গলবার উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সীমান্তবর্তী জাগলার চর গ্রামে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। নিহত আলাউদ্দিন (৪০) সুখচর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চর আমান উল্যাহ গ্রামের ছেরাং বাড়ির মহিউদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জাগলার চরের জমি এখনো সরকারিভাবে কাউকে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়নি। এই সুযোগে গত ৫ আগস্টের পর জাহাজমারা ইউনিয়নের কোপা সামছু বাহিনী চরের বেশ কিছু জমি বিক্রি করে। পরে সুখচর ইউনিয়নের আলাউদ্দিন বাহিনী ওই জমির দখল নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে এবং আরও বেশি দামে জমি বিক্রির চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে উভয় গ্রæপ আলাদাভাবে জমি বিক্রি করতে গেলে বিরোধ চরমে পৌঁছে।
অভিযোগ রয়েছে, চর দখলের সঙ্গে জড়িত ডাকাত আলাউদ্দিনের সঙ্গে সুখচর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বেলায়েত হোসেন সেলিম, আওয়ামী লীগ নেতা নিজাম মেম্বার ও বিএনপি নেতা নবীর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। তাদের সহায়তায় কোপা সামছু বাহিনীকে চর থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা করা হয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে চরের জমি দখলকে কেন্দ্র করে কোপা সামছু ও আলাউদ্দিন গ্রæপ মুখোমুখি অবস্থানে গিয়ে গোলাগুলিতে জড়িয়ে পড়ে। এতে আলাউদ্দিনসহ পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আলাউদ্দিনকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি চারজনের মরদেহ ঘটনাস্থলেই পড়ে ছিল।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সুখচর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বেলায়েত হোসেন সেলিমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম জানান, একটি মরদেহ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে রয়েছে এবং চারটি মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
তিনি আরও জানান, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

হাতিয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, নিহত ৫

আপডেট সময় :

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার জাগলার চরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৮ থেকে ১০ জন। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ একজনের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারলেও বাকি চারজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
গতকাল মঙ্গলবার উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সীমান্তবর্তী জাগলার চর গ্রামে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। নিহত আলাউদ্দিন (৪০) সুখচর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চর আমান উল্যাহ গ্রামের ছেরাং বাড়ির মহিউদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জাগলার চরের জমি এখনো সরকারিভাবে কাউকে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়নি। এই সুযোগে গত ৫ আগস্টের পর জাহাজমারা ইউনিয়নের কোপা সামছু বাহিনী চরের বেশ কিছু জমি বিক্রি করে। পরে সুখচর ইউনিয়নের আলাউদ্দিন বাহিনী ওই জমির দখল নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে এবং আরও বেশি দামে জমি বিক্রির চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে উভয় গ্রæপ আলাদাভাবে জমি বিক্রি করতে গেলে বিরোধ চরমে পৌঁছে।
অভিযোগ রয়েছে, চর দখলের সঙ্গে জড়িত ডাকাত আলাউদ্দিনের সঙ্গে সুখচর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বেলায়েত হোসেন সেলিম, আওয়ামী লীগ নেতা নিজাম মেম্বার ও বিএনপি নেতা নবীর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। তাদের সহায়তায় কোপা সামছু বাহিনীকে চর থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা করা হয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে চরের জমি দখলকে কেন্দ্র করে কোপা সামছু ও আলাউদ্দিন গ্রæপ মুখোমুখি অবস্থানে গিয়ে গোলাগুলিতে জড়িয়ে পড়ে। এতে আলাউদ্দিনসহ পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আলাউদ্দিনকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি চারজনের মরদেহ ঘটনাস্থলেই পড়ে ছিল।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সুখচর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বেলায়েত হোসেন সেলিমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম জানান, একটি মরদেহ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে রয়েছে এবং চারটি মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
তিনি আরও জানান, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।