ঢাকা ০২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬

ডিমলায় পাউবোর বাঁধ প্রকল্প বাস্তবায়নের জটিলতা শর্তসাপেক্ষে অবসান

ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৯৭ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃক প্রায় পনে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে খালিশা চাপানী ইউনিয়নের ছোটখাতা নদী খনন ও জিও ব্যাগ পিচিং (তিস্তা ডানতীর প্রতিরক্ষা) প্রকল্প বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের অবসান হয়েছে। দীর্ঘদিন পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও সংঘর্ষের ঘটনায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা ডিমলা থানায় উভয় পক্ষের মধ্যে মীমাংসার মাধ্যমে নিরসন করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প এলাকার প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না করেই ডালিয়া পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী কৌশলে নিজস্ব লোকজনের মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন। আরও অভিযোগ করা হয়, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের লাইসেন্স ব্যবহার করে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দিয়ে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে কাজ করানো হচ্ছিল।
এ ঘটনায় প্রকল্প এলাকা ও পার্শ্ববর্তী গয়াবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা জাফর আলী খানসহ প্রায় আড়াই শতাধিক মানুষ পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে ডালিয়া পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে সরাসরি অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, চলতি বর্ষা মৌসুমে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে খালিশা চাপানী ইউনিয়নের ছোটখাতা সুপুরিটারী এলাকায় শতাধিক একর আবাদি জমি ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়। এতে নতুন একটি চ্যানেল সৃষ্টি হয়ে কার্যত একটি শাখা নদীর রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও এলাকা রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ১০০ মিটার এলাকায় প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ ৭৮ হাজার টাকা ব্যয়ে খনন ও তিস্তা ডানতীর প্রতিরক্ষা কাজ শুরু করে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রংপুরের ইউনাইটেড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী মো. জাফর আলীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, চলতি অর্থবছরে দেশের বিভিন্ন স্থানে একযোগে ২১টি প্রকল্প চলমান থাকায় ব্যস্ততার কারণে খালিশা চাপানী ইউনিয়নের বিএনপি সভাপতি মো. সাইফুল ইসলামের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ডালিয়া পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রকল্পের কাজ নিয়ে স্থানীয়ভাবে দুটি পক্ষের মধ্যে আধিপত্যের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছিল। বিষয়টি গত মঙ্গলবার রাতে ডিমলা থানায় উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে।
ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শওকত আলী সরকার জানান, খালিশা চাপানীর ছোটখাতা এলাকায় তিস্তা ডানতীর প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম ও জিয়া পরিষদ উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জাফর আলী খানের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়। পরবর্তীতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উভয় পক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা শেষে শর্তসাপেক্ষে বিরোধের অবসান ঘটানো হয়।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে আর্থিক লেনদেন ও জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত দাবিকে কেন্দ্র করেই মূলত বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। সর্বশেষ প্রকল্প কাজের ২০ ভাগের ৩ ভাগ হিস্যা পাবেন অভিযোগকারী পক্ষ মো,জাফর আলী খান তবে শর্ত হলো সকল অভিযোগ প্রত্যাহার করতে হবে । থানায় সমঝোতার মাধ্যমে অভিযোগ প্রত্যাহার ও প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ সুগম করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ডিমলায় পাউবোর বাঁধ প্রকল্প বাস্তবায়নের জটিলতা শর্তসাপেক্ষে অবসান

আপডেট সময় :

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃক প্রায় পনে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে খালিশা চাপানী ইউনিয়নের ছোটখাতা নদী খনন ও জিও ব্যাগ পিচিং (তিস্তা ডানতীর প্রতিরক্ষা) প্রকল্প বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের অবসান হয়েছে। দীর্ঘদিন পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও সংঘর্ষের ঘটনায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা ডিমলা থানায় উভয় পক্ষের মধ্যে মীমাংসার মাধ্যমে নিরসন করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প এলাকার প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না করেই ডালিয়া পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী কৌশলে নিজস্ব লোকজনের মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন। আরও অভিযোগ করা হয়, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের লাইসেন্স ব্যবহার করে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দিয়ে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে কাজ করানো হচ্ছিল।
এ ঘটনায় প্রকল্প এলাকা ও পার্শ্ববর্তী গয়াবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা জাফর আলী খানসহ প্রায় আড়াই শতাধিক মানুষ পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে ডালিয়া পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে সরাসরি অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, চলতি বর্ষা মৌসুমে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে খালিশা চাপানী ইউনিয়নের ছোটখাতা সুপুরিটারী এলাকায় শতাধিক একর আবাদি জমি ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়। এতে নতুন একটি চ্যানেল সৃষ্টি হয়ে কার্যত একটি শাখা নদীর রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও এলাকা রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ১০০ মিটার এলাকায় প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ ৭৮ হাজার টাকা ব্যয়ে খনন ও তিস্তা ডানতীর প্রতিরক্ষা কাজ শুরু করে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রংপুরের ইউনাইটেড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী মো. জাফর আলীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, চলতি অর্থবছরে দেশের বিভিন্ন স্থানে একযোগে ২১টি প্রকল্প চলমান থাকায় ব্যস্ততার কারণে খালিশা চাপানী ইউনিয়নের বিএনপি সভাপতি মো. সাইফুল ইসলামের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ডালিয়া পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রকল্পের কাজ নিয়ে স্থানীয়ভাবে দুটি পক্ষের মধ্যে আধিপত্যের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছিল। বিষয়টি গত মঙ্গলবার রাতে ডিমলা থানায় উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে।
ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শওকত আলী সরকার জানান, খালিশা চাপানীর ছোটখাতা এলাকায় তিস্তা ডানতীর প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম ও জিয়া পরিষদ উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জাফর আলী খানের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়। পরবর্তীতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উভয় পক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা শেষে শর্তসাপেক্ষে বিরোধের অবসান ঘটানো হয়।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে আর্থিক লেনদেন ও জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত দাবিকে কেন্দ্র করেই মূলত বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। সর্বশেষ প্রকল্প কাজের ২০ ভাগের ৩ ভাগ হিস্যা পাবেন অভিযোগকারী পক্ষ মো,জাফর আলী খান তবে শর্ত হলো সকল অভিযোগ প্রত্যাহার করতে হবে । থানায় সমঝোতার মাধ্যমে অভিযোগ প্রত্যাহার ও প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ সুগম করা হয়েছে।