সিলেটের ৬টি আসনে নির্বাচনী উত্তাপ মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা
- আপডেট সময় : ৩৪ বার পড়া হয়েছে
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চায়ের আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেটের ৬টি সংসদীয় আসনে বইছে উৎসবমুখর নির্বাচনী হাওয়া। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই সরগরম হয়ে উঠেছে ভোটের মাঠ। ভোটারদের পরিসংখ্যান আর প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে সিলেটের ৬টি আসনের সর্বশেষ সরগরম অবস্থা।
সিলেটের রাজনীতিতে একটি জনপ্রিয় প্রবাদ আছে, ‘সিলেট-১ আসনে যে দলের প্রার্থী বিজয়ী হন, সেই দলই সরকার গঠন করে।’ মর্যাদাপূর্ণ এই হেভিওয়েট আসনে এবারও বইছে তীব্র নির্বাচনী হাওয়া। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই সিলেট নগরী ও সদর উপজেলাজুড়ে শুরু হয়েছে প্রার্থীদের বিরামহীন দৌড়ঝাঁপ। এই আসনে মোট ভোটার হলোঃ ৬,৮০,৯৪৬ জন। প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন এবার বিএনপির খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির (ধানের শীষ), জামায়াতের মাওলানা হাবিবুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাহমুদুল হাসান (হাতপাখা), বাসদ-মার্কসবাদীর সঞ্জয় কান্ত দাস (কাঁচি), সিপিবির মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন (কাস্তে), গণঅধিকার পরিষদ – জিওপির আকমল হোসেন (ট্রাক), ইনসানিয়াত বিপ্লবের শামীম মিয়া (আপেল)। এ আসনে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সিলেট নগরীর জিতু মিয়ার পয়েন্ট থেকে শুরু করে আখালিয়া ঘাট, আম্বরখানা ও শাহপরাণ গেইট পর্যন্ত পুরো এলাকা এখন পোস্টার ও ব্যানারে ছেয়ে গেছে। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে একটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। খন্দকার মুক্তাদির তার বাবার ইমেজ ও ধানের শীষের গণজোয়ারের ওপর ভরসা রাখছেন, অন্যদিকে মাওলানা হাবিবুর রহমান দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক শক্তি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জয়ের স্বপ্ন দেখছেন।
সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে প্রবাসীদের ভোট কার বাক্সে পড়বে এই নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা! বিএনপির তাহসিনা রুশদী লুনা (ধানের শীষ), ১০ দলীয় জোটের মুহাম্মদ মুনতাছির আলী (দেয়াল ঘড়ি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আমির উদ্দিন (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরী (লাঙ্গল) এই ৪ প্রার্থীকে নিয়ে সিলেট – ২। ‘নিখোঁজ’ নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী লুনার প্রতি রয়েছে ওই আসনের নাগরিক ও প্রবাসীদের বিশাল সহানুভূতি। অন্যদিকে ক্লিন ইমেজের প্রার্থী মুনতাছির আলী বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরী (লাঙ্গল) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও প্রচারণায় কম যান না।
এদিকে সিলেটের প্রবেশদ্বার খ্যাত দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৩ আসনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। এ আসনে প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই সরগরম হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মাঠ। এবার এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪,১৬,০০০ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২,১১,৭০৯ এবং নারী ভোটার ২,০৪,২৮৯ জন। বিএনপির মোহাম্মদ আব্দুল মালিক (ধানের শীষ), জাপা’র আতিকুর রহমান (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র ব্যারিস্টার মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রেদওয়ানুল হক চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুসলেহ উদ্দীন রাজু ও স্বতন্ত্র মইনুল বাকর। সিলেট-৩ আসনে বিএনপির ভোট ব্যাংক ঐতিহাসিকভাবেই বেশ শক্তিশালী। তবে এবার জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান আতিক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তাকিম রাজা চৌধুরীর সক্রিয় উপস্থিতি ভোটের সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে তিন উপজেলার প্রবাসী ভোটারদের পছন্দ-অপছন্দ জয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ-গোয়াইনঘাট-জৈন্তাপুর) আসনে মোট ভোটার: ৫,১২,৯৩৩ জন। পুরুষ ভোটার ২,৬৭,১৩০, নারী ভোটার ২,৪৫,৮০২। বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা সাঈদ আহমদ, গণঅধিকার পরিষদ – জিওপির জহিরুল ইসলাম, জামায়াতের জয়নাল আবেদীন (দাঁড়িপাল্লা) ৫ প্রার্থীর লড়াই হবে এই আসনে। সিলেটের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এ আসনে প্রার্থী হওয়ায় এক নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। জামায়াত নেতা জয়নাল আবেদীনের স্থানীয় জনপ্রিয়তা আরিফুল হকের জন্য বড় পরীক্ষা হবে।
সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনে মোট ভোটার: ৪,২৮,৭৪৮ জন, পুরুষ ভোটার ২,২১,৩৫৭, নারী ভোটার ২,০৭,৩৯১ । এই আসনে প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের উবায়দুল্লাহ ফারুক, খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আবুল হাসান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. বিলাল উদ্দিন, স্বতন্ত্র মামুনুর রশীদ। এ আসনে ওলামা ও ধর্মীয় নেতাদের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। এছাড়া খেলাফত মজলিসের মাওলানা আবুল হাসান (দেয়াল ঘড়ি) এবং বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা মামুনুর রশীদ (ফুটবল) মাঠে উত্তাপ ছড়াচ্ছেন।
সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে মোট ভোটার ৫,০৯,০৯৩, পুরুষ ভোটার ২,৫৬,৯৩৮, নারী ভোটার ২,৫২,১৫৫। এই আসনের প্রার্থী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল – বিএনপির এমরান আহমদ চৌধুরী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, স্বতন্ত্র মো. ফখরুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আবদুন নূর, গণঅধিকার পরিষদ – জিওপির জাহিদুর রহমান। হেলিকপ্টার প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফখরুল ইসলাম তার দীর্ঘদিনের মানবিক কাজের সুবাদে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন। তবে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার লড়াইও এখানে সমানতালে চলছে।
সামগ্রিকভাবে সিলেটে বিএনপি ও জামায়াতের একক বা জোটগত লড়াইয়ের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ‘চমক’ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটারদের পবিত্র আমানত কার পক্ষে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

















