ঢাকা ০৯:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo শেরপুরে কেন্দ্রে কেন্দ্রে যাচ্ছে ব্যালটসহ ভোটের উপকরণ Logo সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর প্রস্তুতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানে আনসার-ভিডিপি Logo নির্বাচনী মাঠে তৎপর আনসার বাহিনীর ১,১৯১টি স্ট্রাইকিং টিম Logo কাঁঠালিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধে, আহত-৭ Logo শাল্লায় জালিয়াতি করে জলমহাল দখল চেষ্টার অভিযোগ Logo বাগেরহাটে নির্বাচন থেকে সরে দাড়ালেন স্বতন্ত্র প্রার্থী Logo মাগুরায় দুই আসনে ৭ দলের ১১ প্রার্থী Logo ২য় পদ্মা সেতু ও নদী শাসন ইসু প্রভাব ফেলবে গোয়ালন্দের ভোটের হিসেবে Logo ‘এবার ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কোনো সুযোগ নেই’ Logo পেঁয়াজের সাদা ফুলে নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন গোয়ালন্দের চাষিরা

তিস্তায় বোমা মেশিনে দিয়ে পাথর উত্তোলনের মহা উৎসব

ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১৮ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিস্তা নদী থেকে পাথর উত্তোলনে জিরো টলারেট নীতির ঘোষণা দেয়। একইসঙ্গে অবৈধ সিন্ডিকেটকে শক্ত হাতে দমনের অঙ্গীকার করেন রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সেলিম আল দীন। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। মুলত ঘোষণাটি হলো লোক দেখানো শুভঙ্করের ফাঁকি।
তিস্তা নদী এখন আর শুধু একটি নদী নয় এটি পরিণত হয়েছে পাথর খেকো সিন্ডিকেটের উন্মুক্ত লুটপাটের মাঠের অভয়ারণ্য ক্ষেত্রস্থল । ইঞ্জিনচালিত নৌকার পর এবার নদীর বুকে বসানো হয়েছে একাধিক শক্তিশালী সিক্স সিলিন্ডার বোমা মেশিন’, যা দিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে নদীর তলদেশ থেকে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের ‘জিরো টলারেট’ ঘোষণা ও বিজিবির কঠোর অবস্থানের অঙ্গীকারকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে নির্বিঘ্নে চলছে এই ভয়ংকর কর্মকাণ্ড। গত ৩ মাস এ প্রয়োলংকারী কর্মকাণ্ড চলছে ঢাকঢোল পিটিয়ে। গত ১ সপ্তাহ আগে স্থানীয় সাংবাদিক মামুনার রশিদ সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তোপের মুখে পড়েন পাথর উত্তোলনকারী চক্রের।
পাথর উত্তোলনকারী চক্র বুজে গেছে এটা তাদের মুখের ডায়লগ বাস্তবে জিরো। সেকারনে চক্রটি বোমা মেশিনের সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়ে ছয়টির অধিক বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলনে মেতে উঠেছে।
দৈনিক গণমুক্তি ধারাবাহিক সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের বার্নির ঘাট, সীমান্ত ফাঁড়ি এলাকা ও তেলির বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হলেও তিস্তা নদী থেকে পাথর উত্তোলন সাময়িক বন্ধ থাকার পর আট ঘাট বেধে আবারো চমজমাট ভাবে পাথর উত্তোলনের কাজ নির্দ্বিধায় চলছে ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট বছরের পর বছর ধরে তিস্তা নদী থেকে পাথর তুলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। পাথর উত্তোলনকারী চক্রটি।
নির্বিচারে পাথর উত্তোলনের কারণে প্রতিবছরই ভয়াবহ নদীভাঙন ও আকস্মিক বন্যার মুখে পড়ছে তিস্তা পাড়ের বাসিন্দাদের। আবাদি জমি, বসতভিটা, স্কুল-মসজিদ—সবকিছু একের পর এক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে । প্রতি বর্ষা মৌসুমে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাতে হয় তিস্তানদী তীরের হাজারো মানুষ।
ইতিপূর্বে যৌথ অভিযানে পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত ইঞ্জিনচালিত নৌকা ধ্বংস এবং বিপুল পরিমাণ যন্ত্রাংশ জব্দ করা হলেও এগুলোর কোনটারই প্রতিকার পাওয়া যায়নি ।
অভিযানের পরও থামেনি পাথর চক্র। বরং প্রশাসনের দুর্বল প্রয়োগ ও দৃশ্যমান শাস্তির অভাবকে পুঁজি করে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ করে তিস্তা নদী থেকে বোমা মেশিন প্রকাশ্যে ধুমধামে পাথর উত্তোলন করা হলেও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বরত প্রশাসন কঠোর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় হরি লুটের মত তিস্তা নদী হতে পাথর উত্তোলন চলছে তো চলছেই।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—তিস্তা নদীর ডানতীর ভাঙন রোধ ও তীর সংরক্ষণে প্রতিবছর শত শত কোটি টাকা ব্যয় করছে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পউবো)। অথচ একই সময়ে নদীর ভেতরেই চলছে অবাধ পাথর উত্তোলন, যা এসব প্রকল্পকে কার্যত আত্মঘাতী করে তুলছে। সম্প্রতি তিস্তার নতুন চ্যানেল সৃষ্টি হয়ে খালিশা চাপানি ইউনিয়নের ছোট খাতা সুপারিটরি গ্রামে শত শত একর আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। সেই চ্যানেলটিও আড়াই কোটি টাকা ব্যায়ে সিসি ব্লক ও জিও লেটার বস্তায় ভরিয়ে ভাঙ্গন রোধ করা হয়েছে।
গত বর্ষায় উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬টিতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়। তিস্তা ব্যারাজ এলাকা, তিস্তা বাজার, তেলির বাজার, চরখড়িবাড়ি, বাইশপুকুর, কালিগঞ্জ ও ভেন্ডাবাড়িসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও লোহার যন্ত্র দিয়ে নদীর তলদেশে গভীর গর্ত করে পাথর উত্তোলন চলছে।
জানা গেছে, টেপাখড়িবাড়ির গুচ্ছগ্রাম এলাকা আবু তাহেরের ছেলে রিপন ইসলাম (২৭), গয়াবাড়ির মৃত মোশাররফ খাঁ এর ছেলে মো,জাহাঙ্গীর খাঁ (৪৫), একই ইউনিয়নের কাউয়া ধনীপাড়া গ্রামের রশিদুল ইসলামের ছেলে মো, এনামুল হক (৪০), গয়াবাড়ী কুমলাই পাড়া গ্রামের বাহাদুর মিয়ার ছেলে মো,আনিছুর রহমান (৪০), লাকি স্কুল পাড়ার মৃত মোকাদ্দেস আলীর ছেলে, আবু জাফর খান (৩৫) ও আব্দুর রহমান (৪৫) এবং মৃত আকবর আলীর ছেলে, মো.রজব আলী (৪৩)
নামের চক্র বোমা মেশিন বসিয়ে অবাধে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে এর পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে ভাঙন রোধের কাজ চলছে ।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, একটি দুষ্কৃতিকারী চক্র সম্প্রতি রাতের আঁধারে বোমা মেশিন বসিয়ে তিস্তা নদী হতে পাথর উত্তোলনে কোমর বেধে নেমেছে। অনেক চেষ্টা করেও তাদের কোনরকমেই থামানো যাচ্ছে না। এটা বন্ধে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান বলেন,তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধে জরুরী আইন প্রয়োগ করা হবে। অবৈধ পাথর উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। কোনোভাবেই এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়েরুজ্জামানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান,আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের কারণে ব্যস্ত রয়েছি। বোমা মেশিন বসিয়ে তিস্তা নদী হতে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকারীদের তালিকা তৈরি করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলা করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিস্তা নদী হতে কোনক্রমেই অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করতে দেয়া হবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

তিস্তায় বোমা মেশিনে দিয়ে পাথর উত্তোলনের মহা উৎসব

আপডেট সময় :

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিস্তা নদী থেকে পাথর উত্তোলনে জিরো টলারেট নীতির ঘোষণা দেয়। একইসঙ্গে অবৈধ সিন্ডিকেটকে শক্ত হাতে দমনের অঙ্গীকার করেন রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সেলিম আল দীন। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। মুলত ঘোষণাটি হলো লোক দেখানো শুভঙ্করের ফাঁকি।
তিস্তা নদী এখন আর শুধু একটি নদী নয় এটি পরিণত হয়েছে পাথর খেকো সিন্ডিকেটের উন্মুক্ত লুটপাটের মাঠের অভয়ারণ্য ক্ষেত্রস্থল । ইঞ্জিনচালিত নৌকার পর এবার নদীর বুকে বসানো হয়েছে একাধিক শক্তিশালী সিক্স সিলিন্ডার বোমা মেশিন’, যা দিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে নদীর তলদেশ থেকে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের ‘জিরো টলারেট’ ঘোষণা ও বিজিবির কঠোর অবস্থানের অঙ্গীকারকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে নির্বিঘ্নে চলছে এই ভয়ংকর কর্মকাণ্ড। গত ৩ মাস এ প্রয়োলংকারী কর্মকাণ্ড চলছে ঢাকঢোল পিটিয়ে। গত ১ সপ্তাহ আগে স্থানীয় সাংবাদিক মামুনার রশিদ সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তোপের মুখে পড়েন পাথর উত্তোলনকারী চক্রের।
পাথর উত্তোলনকারী চক্র বুজে গেছে এটা তাদের মুখের ডায়লগ বাস্তবে জিরো। সেকারনে চক্রটি বোমা মেশিনের সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়ে ছয়টির অধিক বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলনে মেতে উঠেছে।
দৈনিক গণমুক্তি ধারাবাহিক সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের বার্নির ঘাট, সীমান্ত ফাঁড়ি এলাকা ও তেলির বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হলেও তিস্তা নদী থেকে পাথর উত্তোলন সাময়িক বন্ধ থাকার পর আট ঘাট বেধে আবারো চমজমাট ভাবে পাথর উত্তোলনের কাজ নির্দ্বিধায় চলছে ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট বছরের পর বছর ধরে তিস্তা নদী থেকে পাথর তুলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। পাথর উত্তোলনকারী চক্রটি।
নির্বিচারে পাথর উত্তোলনের কারণে প্রতিবছরই ভয়াবহ নদীভাঙন ও আকস্মিক বন্যার মুখে পড়ছে তিস্তা পাড়ের বাসিন্দাদের। আবাদি জমি, বসতভিটা, স্কুল-মসজিদ—সবকিছু একের পর এক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে । প্রতি বর্ষা মৌসুমে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাতে হয় তিস্তানদী তীরের হাজারো মানুষ।
ইতিপূর্বে যৌথ অভিযানে পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত ইঞ্জিনচালিত নৌকা ধ্বংস এবং বিপুল পরিমাণ যন্ত্রাংশ জব্দ করা হলেও এগুলোর কোনটারই প্রতিকার পাওয়া যায়নি ।
অভিযানের পরও থামেনি পাথর চক্র। বরং প্রশাসনের দুর্বল প্রয়োগ ও দৃশ্যমান শাস্তির অভাবকে পুঁজি করে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ করে তিস্তা নদী থেকে বোমা মেশিন প্রকাশ্যে ধুমধামে পাথর উত্তোলন করা হলেও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বরত প্রশাসন কঠোর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় হরি লুটের মত তিস্তা নদী হতে পাথর উত্তোলন চলছে তো চলছেই।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—তিস্তা নদীর ডানতীর ভাঙন রোধ ও তীর সংরক্ষণে প্রতিবছর শত শত কোটি টাকা ব্যয় করছে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পউবো)। অথচ একই সময়ে নদীর ভেতরেই চলছে অবাধ পাথর উত্তোলন, যা এসব প্রকল্পকে কার্যত আত্মঘাতী করে তুলছে। সম্প্রতি তিস্তার নতুন চ্যানেল সৃষ্টি হয়ে খালিশা চাপানি ইউনিয়নের ছোট খাতা সুপারিটরি গ্রামে শত শত একর আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। সেই চ্যানেলটিও আড়াই কোটি টাকা ব্যায়ে সিসি ব্লক ও জিও লেটার বস্তায় ভরিয়ে ভাঙ্গন রোধ করা হয়েছে।
গত বর্ষায় উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬টিতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়। তিস্তা ব্যারাজ এলাকা, তিস্তা বাজার, তেলির বাজার, চরখড়িবাড়ি, বাইশপুকুর, কালিগঞ্জ ও ভেন্ডাবাড়িসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও লোহার যন্ত্র দিয়ে নদীর তলদেশে গভীর গর্ত করে পাথর উত্তোলন চলছে।
জানা গেছে, টেপাখড়িবাড়ির গুচ্ছগ্রাম এলাকা আবু তাহেরের ছেলে রিপন ইসলাম (২৭), গয়াবাড়ির মৃত মোশাররফ খাঁ এর ছেলে মো,জাহাঙ্গীর খাঁ (৪৫), একই ইউনিয়নের কাউয়া ধনীপাড়া গ্রামের রশিদুল ইসলামের ছেলে মো, এনামুল হক (৪০), গয়াবাড়ী কুমলাই পাড়া গ্রামের বাহাদুর মিয়ার ছেলে মো,আনিছুর রহমান (৪০), লাকি স্কুল পাড়ার মৃত মোকাদ্দেস আলীর ছেলে, আবু জাফর খান (৩৫) ও আব্দুর রহমান (৪৫) এবং মৃত আকবর আলীর ছেলে, মো.রজব আলী (৪৩)
নামের চক্র বোমা মেশিন বসিয়ে অবাধে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে এর পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে ভাঙন রোধের কাজ চলছে ।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, একটি দুষ্কৃতিকারী চক্র সম্প্রতি রাতের আঁধারে বোমা মেশিন বসিয়ে তিস্তা নদী হতে পাথর উত্তোলনে কোমর বেধে নেমেছে। অনেক চেষ্টা করেও তাদের কোনরকমেই থামানো যাচ্ছে না। এটা বন্ধে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান বলেন,তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধে জরুরী আইন প্রয়োগ করা হবে। অবৈধ পাথর উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। কোনোভাবেই এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়েরুজ্জামানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান,আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের কারণে ব্যস্ত রয়েছি। বোমা মেশিন বসিয়ে তিস্তা নদী হতে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকারীদের তালিকা তৈরি করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলা করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিস্তা নদী হতে কোনক্রমেই অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করতে দেয়া হবে না।