ঢাকা ১২:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের নেতৃত্বে ইয়াছিন-মুন্না Logo চাঁদপুরে ৫ কোটি টাকার নিষিদ্ধ জাল জব্দ করেছে কোস্টগার্ড Logo বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে আউটসোর্সিং নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ Logo ১৪০ বছরের সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে ভারী যান চলাচল বন্ধ Logo ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ হেক্টর ফসল, ৩৫ পয়েন্টে নদীভাঙন Logo সবুজ ক্যাম্পাস গড়তে প্লাস্টিক বর্জন ও বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে Logo নোয়াখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মসজিদের খতিবের মৃত্যু Logo নোয়াখালীতে শিশু আসমা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় তৃতীয় দফায় পেছালো Logo নোয়াখালীতে সড়কে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং Logo নেত্রকোনায় পৌরশহরের রাস্তায় যানজট, সীমাহীন দুর্ভোগ

টুঙ্গিপাড়ায় সংবাদ প্রকাশের পরই সক্রিয় প্রতারক চক্র

সচিবালয়ের নাম ভাঙিয়ে চিকিৎসকদের কাছে টাকা দাবি

টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১৭৯ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া ১০০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কনসালটেন্ট চিকিৎসকদের অনিয়মিত উপস্থিতি নিয়ে গত ৪ মার্চ দেশের বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পরপরই সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি প্রতারক চক্র। সচিবালয়ের কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসকদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, সংবাদ প্রকাশের পর একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানভীর আহমেদের কাছে ফোন আসে। ফোনকারী নিজেকে সচিবালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বলেন, হাসপাতালের কনসালটেন্টদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে এবং তাদের বদলি করা হবে। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কনসালটেন্টদের মোবাইল নম্বর চেয়ে নেন। ফোনটি আসে ০১৩৩৯৭৯৩৮৭৪ নম্বর থেকে।
এর কিছুক্ষণ পর প্রতারক চক্রের সদস্যরা হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি) ডা. শিপ্রা নন্দীর কাছে ফোন করে। ফোনে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বদলির সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং তাকে ফরিদপুরে বদলি করা হবে। তবে পাঁচ লাখ টাকা দিলে সেই বদলি আদেশ বাতিল করা সম্ভব হবে বলেও জানানো হয়। টাকা পাঠানোর জন্য একটি রকেট মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর ০১৩২০৭৩৭২১৩ দেওয়া হয়।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় ডা. তানভীর আহমেদ পুলিশের সহায়তা নেন। পুলিশের মাধ্যমে নম্বর দুটি যাচাই করে জানা যায়, এগুলোর নিবন্ধন রয়েছে মোসাম্মৎ মমতাজ বেগম, পিতা আব্দুল মান্নান নামে এক ব্যক্তির নামে। তার স্থায়ী ঠিকানা রাজবাড়ী সদর এবং বর্তমান ঠিকানা সাভার উপজেলা বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানভীর আহমেদ বলেন, “সংবাদ প্রকাশের পর চিকিৎসকদের কাছে সচিবালয়ের নাম ভাঙিয়ে টাকা দাবির বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করেছি। আশা করছি দ্রুতই প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—সংবাদ প্রকাশের পরপরই প্রতারক চক্র কীভাবে এত দ্রুত হাসপাতালের চিকিৎসকদের তথ্য সংগ্রহ করে তাদের কাছে ফোন দিতে পারলো? এ নিয়ে ধারণা করা হচ্ছে, হাসপাতাল বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ তথ্য কোনোভাবে প্রতারকদের কাছে পৌঁছে যেতে পারে।
এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আইয়ুব আলী জানান, বিষয়টি মৌখিকভাবে জানতে পেরেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চিকিৎসকরা বলছেন, সরকারি দপ্তরের নাম ভাঙিয়ে এ ধরনের প্রতারণা শুধু চিকিৎসকদের নয়, পুরো স্বাস্থ্যখাতের জন্যই উদ্বেগজনক। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

টুঙ্গিপাড়ায় সংবাদ প্রকাশের পরই সক্রিয় প্রতারক চক্র

সচিবালয়ের নাম ভাঙিয়ে চিকিৎসকদের কাছে টাকা দাবি

আপডেট সময় :

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া ১০০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কনসালটেন্ট চিকিৎসকদের অনিয়মিত উপস্থিতি নিয়ে গত ৪ মার্চ দেশের বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পরপরই সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি প্রতারক চক্র। সচিবালয়ের কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসকদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, সংবাদ প্রকাশের পর একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানভীর আহমেদের কাছে ফোন আসে। ফোনকারী নিজেকে সচিবালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বলেন, হাসপাতালের কনসালটেন্টদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে এবং তাদের বদলি করা হবে। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কনসালটেন্টদের মোবাইল নম্বর চেয়ে নেন। ফোনটি আসে ০১৩৩৯৭৯৩৮৭৪ নম্বর থেকে।
এর কিছুক্ষণ পর প্রতারক চক্রের সদস্যরা হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি) ডা. শিপ্রা নন্দীর কাছে ফোন করে। ফোনে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বদলির সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং তাকে ফরিদপুরে বদলি করা হবে। তবে পাঁচ লাখ টাকা দিলে সেই বদলি আদেশ বাতিল করা সম্ভব হবে বলেও জানানো হয়। টাকা পাঠানোর জন্য একটি রকেট মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর ০১৩২০৭৩৭২১৩ দেওয়া হয়।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় ডা. তানভীর আহমেদ পুলিশের সহায়তা নেন। পুলিশের মাধ্যমে নম্বর দুটি যাচাই করে জানা যায়, এগুলোর নিবন্ধন রয়েছে মোসাম্মৎ মমতাজ বেগম, পিতা আব্দুল মান্নান নামে এক ব্যক্তির নামে। তার স্থায়ী ঠিকানা রাজবাড়ী সদর এবং বর্তমান ঠিকানা সাভার উপজেলা বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানভীর আহমেদ বলেন, “সংবাদ প্রকাশের পর চিকিৎসকদের কাছে সচিবালয়ের নাম ভাঙিয়ে টাকা দাবির বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করেছি। আশা করছি দ্রুতই প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—সংবাদ প্রকাশের পরপরই প্রতারক চক্র কীভাবে এত দ্রুত হাসপাতালের চিকিৎসকদের তথ্য সংগ্রহ করে তাদের কাছে ফোন দিতে পারলো? এ নিয়ে ধারণা করা হচ্ছে, হাসপাতাল বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ তথ্য কোনোভাবে প্রতারকদের কাছে পৌঁছে যেতে পারে।
এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আইয়ুব আলী জানান, বিষয়টি মৌখিকভাবে জানতে পেরেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চিকিৎসকরা বলছেন, সরকারি দপ্তরের নাম ভাঙিয়ে এ ধরনের প্রতারণা শুধু চিকিৎসকদের নয়, পুরো স্বাস্থ্যখাতের জন্যই উদ্বেগজনক। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।