ঢাকা ০৯:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

পাইকগাছায় জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট

অধিক মূল্যে বিক্রির অভিযোগ, ক্ষুব্ধ সাধারণ ক্রেতারা

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৩৭ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

‎খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সর্বত্র খুচরা জ্বালানি তেলের দোকানগুলোতে পেট্রোল ও অকটেনের কৃত্রিম সংকট তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ ক্রেতাদের কাছে “তেল নেই” বলে ফিরিয়ে দেওয়া হলেও পর্দার আড়ালে বিশেষ ক্রেতাদের কাছে চড়া দামে তেল বিক্রি করা হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের এমন কর্মকাণ্ডে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকসহ সাধারণ মানুষ।
‎কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দাম
‎সরেজমিনে এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন বাজার, গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড় এবং গ্রামীণ এলাকার খুচরা দোকানগুলোতে বোতল ও গ্যালনে পর্যাপ্ত পেট্রোল ও অকটেন মজুত রয়েছে। তবে সাধারণ গ্রাহক তেল কিনতে গেলে অধিকাংশ দোকানি সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন যে স্টক শেষ। অথচ পরিচিত বা বিশেষ কেউ এলে সেই দোকান থেকেই প্রতি লিটার তেল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
‎ভুক্তভোগী কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা একাধিক দোকান ঘুরেও তেল পাচ্ছি না। কিন্তু একটু পরেই দেখা যাচ্ছে অন্য একজনের কাছে বেশি দামে ঠিকই তেল বিক্রি করা হচ্ছে। এভাবে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে পকেট কাটা হচ্ছে।”
‎লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি
‎অভিযোগ উঠেছে, উপজেলার অধিকাংশ খুচরা জ্বালানি বিক্রেতার কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই। নিয়ম অনুযায়ী, পেট্রোল বা অকটেনের মতো দাহ্য পদার্থ বিক্রির জন্য বিস্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্স এবং নির্দিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক দোকানি কোনো তোয়াক্কা না করেই যত্রতত্র বিপুল পরিমাণ তেল মজুত রাখছেন। এতে একদিকে যেমন অগ্নিকাণ্ডের বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ পাচ্ছে অসাধু চক্র।
‎প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
‎বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভাঙতে উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি: ‎অবিলম্বে খুচরা দোকানগুলোতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা।
‎বৈধ লাইসেন্স আছে কি না তা যাচাই করা। ‎নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।
‎স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং অভিযান পরিচালনা করা হলে দ্রুতই জ্বালানি তেলের এই অস্থিরতা দূর হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

পাইকগাছায় জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট

অধিক মূল্যে বিক্রির অভিযোগ, ক্ষুব্ধ সাধারণ ক্রেতারা

আপডেট সময় :

‎খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সর্বত্র খুচরা জ্বালানি তেলের দোকানগুলোতে পেট্রোল ও অকটেনের কৃত্রিম সংকট তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ ক্রেতাদের কাছে “তেল নেই” বলে ফিরিয়ে দেওয়া হলেও পর্দার আড়ালে বিশেষ ক্রেতাদের কাছে চড়া দামে তেল বিক্রি করা হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের এমন কর্মকাণ্ডে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকসহ সাধারণ মানুষ।
‎কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দাম
‎সরেজমিনে এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন বাজার, গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড় এবং গ্রামীণ এলাকার খুচরা দোকানগুলোতে বোতল ও গ্যালনে পর্যাপ্ত পেট্রোল ও অকটেন মজুত রয়েছে। তবে সাধারণ গ্রাহক তেল কিনতে গেলে অধিকাংশ দোকানি সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন যে স্টক শেষ। অথচ পরিচিত বা বিশেষ কেউ এলে সেই দোকান থেকেই প্রতি লিটার তেল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
‎ভুক্তভোগী কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা একাধিক দোকান ঘুরেও তেল পাচ্ছি না। কিন্তু একটু পরেই দেখা যাচ্ছে অন্য একজনের কাছে বেশি দামে ঠিকই তেল বিক্রি করা হচ্ছে। এভাবে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে পকেট কাটা হচ্ছে।”
‎লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি
‎অভিযোগ উঠেছে, উপজেলার অধিকাংশ খুচরা জ্বালানি বিক্রেতার কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই। নিয়ম অনুযায়ী, পেট্রোল বা অকটেনের মতো দাহ্য পদার্থ বিক্রির জন্য বিস্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্স এবং নির্দিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক দোকানি কোনো তোয়াক্কা না করেই যত্রতত্র বিপুল পরিমাণ তেল মজুত রাখছেন। এতে একদিকে যেমন অগ্নিকাণ্ডের বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ পাচ্ছে অসাধু চক্র।
‎প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
‎বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভাঙতে উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি: ‎অবিলম্বে খুচরা দোকানগুলোতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা।
‎বৈধ লাইসেন্স আছে কি না তা যাচাই করা। ‎নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।
‎স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং অভিযান পরিচালনা করা হলে দ্রুতই জ্বালানি তেলের এই অস্থিরতা দূর হবে।