ঢাকা ০৬:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চাঁদপুরে ৫ কোটি টাকার নিষিদ্ধ জাল জব্দ করেছে কোস্টগার্ড Logo বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে আউটসোর্সিং নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ Logo ১৪০ বছরের সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে ভারী যান চলাচল বন্ধ Logo ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ হেক্টর ফসল, ৩৫ পয়েন্টে নদীভাঙন Logo সবুজ ক্যাম্পাস গড়তে প্লাস্টিক বর্জন ও বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে Logo নোয়াখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মসজিদের খতিবের মৃত্যু Logo নোয়াখালীতে শিশু আসমা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় তৃতীয় দফায় পেছালো Logo নোয়াখালীতে সড়কে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং Logo নেত্রকোনায় পৌরশহরের রাস্তায় যানজট, সীমাহীন দুর্ভোগ Logo আদমদীঘিতে কীটনাশক ঔষধের দোকানে দু:সাহসিক চুরি

ডামুড্যায় ২ শত বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখে মাছ ধরা উৎসব পালিত

ডামুড্যা (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১৪৬ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের ০৬নং ওয়ার্ড ফোরকারপাড় দিঘীতে প্রায় ২০০ বছরের পুরনো ঐতিহ্য ধরে রেখে অনুষ্ঠিত হয়েছে মাছ ধরার উৎসব। শতাধিক মাছ শিকারীর অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এই আয়োজন ঘিরে দিঘীপাড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
গত শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল ৮ থেকেই দিঘীর চারপাশে জড়ো হতে থাকেন স্থানীয় বাসিন্দা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ। নির্ধারিত সময় ঘোষণা করা হলে একযোগে শিকারীরা ঝাঁকি জাল দিয়ে মাছ ধরার উৎসব শুরু করেন, কলা গাছের ভেলা, নৌকা ও দেশীয় বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে পানিতে নেমে পড়েন। দিঘীর চারপাশে আগে থেকেই বাঁশ পুঁতে জাল দিয়ে ঘিরে রাখা হয়, যাতে মাছ বাইরে যেতে না পারে।
একসঙ্গে শতাধিক মানুষের মাছ ধরার দৃশ্য দেখতে দিঘীপাড়ে ভিড় করেন শত শত দর্শনার্থী। পরিবার-পরিজন নিয়ে এই আয়োজন উপভোগ করেন তারা। শিশু-কিশোরদের মধ্যেও দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
কোনশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আনিছুর রহমান বাচ্চু বলেন, “২০০ বছর পূর্বে থেকে এই দিঘীতে মাছ ধরার আয়োজন হয়ে আসছে। এটি শুধু মাছ ধরা নয়, বরং গ্রামের মানুষের মিলনমেলা।”
আয়োজক কমিটির সদস্য বিল্লাল হোসেন মিবু জানান, “বছরের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দিঘীতে মাছ ধরা বন্ধ রাখা হয়, যাতে মাছ বড় হতে পারে। পরে নির্ধারিত দিনে বিভিন্ন হারে ফি এর মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করে টিকিটধারী সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।”
জানা গেছে, জমিদার আমল থেকেই এ ধরনের আয়োজন চলে আসছে। সময়ের পরিবর্তনে অনেক কিছু বদলালেও এই ঐতিহ্য এখনো টিকে আছে গ্রামবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগে। এটি সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও আনন্দ ভাগাভাগির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত।
দিনব্যাপী এই আয়োজন শেষে ধরা মাছ শিকারীদের মধ্যে ভাগ করে নেয়া হয়। কেউ পরিবারের জন্য মাছ নিয়ে যান, আবার কেউ তা বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে যান।
স্থানীয়দের আশা, এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রামীণ সংস্কৃতির এই অংশ আরও পরিচিত হয়ে উঠবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ডামুড্যায় ২ শত বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখে মাছ ধরা উৎসব পালিত

আপডেট সময় :

শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের ০৬নং ওয়ার্ড ফোরকারপাড় দিঘীতে প্রায় ২০০ বছরের পুরনো ঐতিহ্য ধরে রেখে অনুষ্ঠিত হয়েছে মাছ ধরার উৎসব। শতাধিক মাছ শিকারীর অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এই আয়োজন ঘিরে দিঘীপাড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
গত শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল ৮ থেকেই দিঘীর চারপাশে জড়ো হতে থাকেন স্থানীয় বাসিন্দা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ। নির্ধারিত সময় ঘোষণা করা হলে একযোগে শিকারীরা ঝাঁকি জাল দিয়ে মাছ ধরার উৎসব শুরু করেন, কলা গাছের ভেলা, নৌকা ও দেশীয় বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে পানিতে নেমে পড়েন। দিঘীর চারপাশে আগে থেকেই বাঁশ পুঁতে জাল দিয়ে ঘিরে রাখা হয়, যাতে মাছ বাইরে যেতে না পারে।
একসঙ্গে শতাধিক মানুষের মাছ ধরার দৃশ্য দেখতে দিঘীপাড়ে ভিড় করেন শত শত দর্শনার্থী। পরিবার-পরিজন নিয়ে এই আয়োজন উপভোগ করেন তারা। শিশু-কিশোরদের মধ্যেও দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
কোনশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আনিছুর রহমান বাচ্চু বলেন, “২০০ বছর পূর্বে থেকে এই দিঘীতে মাছ ধরার আয়োজন হয়ে আসছে। এটি শুধু মাছ ধরা নয়, বরং গ্রামের মানুষের মিলনমেলা।”
আয়োজক কমিটির সদস্য বিল্লাল হোসেন মিবু জানান, “বছরের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দিঘীতে মাছ ধরা বন্ধ রাখা হয়, যাতে মাছ বড় হতে পারে। পরে নির্ধারিত দিনে বিভিন্ন হারে ফি এর মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করে টিকিটধারী সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।”
জানা গেছে, জমিদার আমল থেকেই এ ধরনের আয়োজন চলে আসছে। সময়ের পরিবর্তনে অনেক কিছু বদলালেও এই ঐতিহ্য এখনো টিকে আছে গ্রামবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগে। এটি সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও আনন্দ ভাগাভাগির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত।
দিনব্যাপী এই আয়োজন শেষে ধরা মাছ শিকারীদের মধ্যে ভাগ করে নেয়া হয়। কেউ পরিবারের জন্য মাছ নিয়ে যান, আবার কেউ তা বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে যান।
স্থানীয়দের আশা, এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রামীণ সংস্কৃতির এই অংশ আরও পরিচিত হয়ে উঠবে।