ঢাকা ০৪:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬

নবীনগরে সিজারের পর মৃত্যু, হাসপাতাল ভাঙচুর

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৮৫ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বেসরকারি আহমেদ হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে রাকিবা আক্তার (১৮) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে রোববার ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতাল ভাঙচুর চালিয়ে বিক্ষোভ করেন। নিহত রাকিবা আক্তার উপজেলার লাউর ফতেহপুর ইউনিয়নের মিজান মিয়ার মেয়ে।
প্রসূতির পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ১২টার দিকে প্রসব ব্যথা উঠলে রাকিবা আক্তারকে আহমেদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার সময় তিনি সুস্থ ছিলেন এবং স্বাভাবিক প্রসবের জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত সিজার করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে গাইনী চিকিৎসক ডা. সৈয়দ কামরুজ্জামান তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান।
প্রসূতির বাবা মিজান মিয়া অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল। ডাক্তাররা হঠাৎ করে সিজারের কথা বলেন। পরে আমার নাতি জন্ম নিলেও মেয়েকে অচেতন অবস্থায় ফেলে রাখা হয়। এরপর কুমিল্লা নেওয়ার কথা বলা হয়। তখন আমার সন্দেহ হয়। পরে মেয়েকে দেখতে গিয়ে দেখি আমার মেয়ে মারা গেছে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে থানায় মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
প্রসূতির মা রেহেনা আক্তার বলেন, আমরা নরমাল ডেলিভারির জন্য অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তারা আমার সুস্থ মেয়েকে ওটিতে নিয়ে যায়। পরে গিয়ে দেখি আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ডাক্তারদের ভুল চিকিৎসার কারণেই আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানাযায়, ঘটনার পর রাতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দিতে প্রসূতির স্বজনদের সঙ্গে রফাদফার চেষ্টা করে। তবে মৃত্যুর দায় কেউ স্বীকার না করায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে। পরে রবিবার সকালে ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালায় এবং বিক্ষোভ করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নবীনগর (সার্কেল) পিয়াস বসাক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নবীনগরে সিজারের পর মৃত্যু, হাসপাতাল ভাঙচুর

আপডেট সময় :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বেসরকারি আহমেদ হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে রাকিবা আক্তার (১৮) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে রোববার ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতাল ভাঙচুর চালিয়ে বিক্ষোভ করেন। নিহত রাকিবা আক্তার উপজেলার লাউর ফতেহপুর ইউনিয়নের মিজান মিয়ার মেয়ে।
প্রসূতির পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ১২টার দিকে প্রসব ব্যথা উঠলে রাকিবা আক্তারকে আহমেদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার সময় তিনি সুস্থ ছিলেন এবং স্বাভাবিক প্রসবের জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত সিজার করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে গাইনী চিকিৎসক ডা. সৈয়দ কামরুজ্জামান তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান।
প্রসূতির বাবা মিজান মিয়া অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল। ডাক্তাররা হঠাৎ করে সিজারের কথা বলেন। পরে আমার নাতি জন্ম নিলেও মেয়েকে অচেতন অবস্থায় ফেলে রাখা হয়। এরপর কুমিল্লা নেওয়ার কথা বলা হয়। তখন আমার সন্দেহ হয়। পরে মেয়েকে দেখতে গিয়ে দেখি আমার মেয়ে মারা গেছে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে থানায় মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
প্রসূতির মা রেহেনা আক্তার বলেন, আমরা নরমাল ডেলিভারির জন্য অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তারা আমার সুস্থ মেয়েকে ওটিতে নিয়ে যায়। পরে গিয়ে দেখি আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ডাক্তারদের ভুল চিকিৎসার কারণেই আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানাযায়, ঘটনার পর রাতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দিতে প্রসূতির স্বজনদের সঙ্গে রফাদফার চেষ্টা করে। তবে মৃত্যুর দায় কেউ স্বীকার না করায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে। পরে রবিবার সকালে ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালায় এবং বিক্ষোভ করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নবীনগর (সার্কেল) পিয়াস বসাক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।