নবীনগরে বাংলা নববর্ষকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে মৃৎশিল্পীরা
- আপডেট সময় : ২০ বার পড়া হয়েছে
বাংলার নতুন বছর নববর্ষ, পয়লা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে এখন ব্যস্থ সময় পার করছেন নবীনগরের মৃৎশিল্পীরা। নারী, পুরুষ, শিশু থেকে শুরু করে ব্যস্থ এখন সব বয়সী মুৎশিল্পের কারিগররা। বছরের অধিকাংশ সময় তাদের তেমন ব্যস্থতায় না থাকলেও, ফাল্গুন থেকে বৈশাখ এই তিন মাস তাদের কাটে ভীষণ ব্যস্থতায়। তবে উপকরণের দাম বেশি হওয়ায় আশানুরূপ লাভ হচ্ছ না মৃৎশিল্পীদের। নববর্ষের উৎসবকে ঘিরে বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন স্থানে বসে বর্ষবরণ মেলা। সেই মেলায় চাহিদা থাকে নানা রকমের খেলনা ও মাটির জিনিসপত্রের। তাই এখন শেষ মুহূর্তে দিন-রাত সমানতালে ব্যস্থ সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। হরেক রকমের মাটির তৈরি জিনিস পোড়ানো শেষ করে এখন চলছে রঙের পর্ব। যদিও আধুনিকতার ছোঁয়ায় মুৎশিল্প প্রায় বিলুপ্তির পথে, তবুও বংশ পরম্পরায় এবং জীবিকা নির্বাহের তাগিদে নবীনগরের অনেকেই এখনো মৃৎশিল্পের সঙ্গে যুক্ত আছেন। মাটির তৈরি এসব জিনিসপত্র রপ্তানি হচ্ছে বিদেশও। তবে বিদেশে এ সবের চাহিদা থাকলেও মৃৎশিল্পীদের কারিগরি দক্ষতা কম থাকায় ঠিকমতো সরবরাহ করা যাচ্ছে না। জানা যায়- সারা বছর তেমন আয় না হলেও বৈশাখি মেলায় মাটির তৈজসপত্র বিক্রি করে বেশ আয় করেন মৃৎশিল্পীরা। মৃৎশিল্পীদের হাতের তৈরি এ সব কারুকাজ, কলস, হাঁড়ি, মটকা, বাসন, ডালা, পুতুল এবং তৈজসপত্র গ্রামীণ মেলাতে ছড়ায় মুগ্ধতা। যা ছোট বড় সব বয়সীদেরই দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মৃৎশিল্পীরা এ বিষয়ে বলেন- প্লাস্টিকের জন্য মাটির খেলনা এখন আর আগের মতো বিক্রি হয় না। কিন্ত পহেলা বৈশাখের গ্রামীণ মেলায় মাটির বিভিন্ন তৈজসপত্র ও বাচ্চাদের খেলনার কদর বেশি থাকে বেচাকেনা ও ভাল হয়। চৈত্র মাসের পুরো সময় আমরা ব্যস্থ থাকি। তবে উপকরণের দাম বাড়ায় আমাদের লাভ কম হচ্ছে। মহেন্দ্র পাল নামের এক মৃৎশিল্পী বলেন-“মাটির তৈরি জিনিসপত্রের বেচা- কেনা আগে খুব ভালো হতো। অ্যালুমিনিয়ামের জিনিস আসায় এখন আর আগের মতো বেচা-কেনা হয় না। লোকজন মাটির জিনিস নিতে চায় না। আবার মাটির জিনিসের সব উপকরণের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে আমাদের লাভও খুব কম হয়। এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে আমরা কোনো সহযোগিতা পায় না। মৃৎশিল্প বাংলাদেশের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী শিল্প। বর্তমানে এটি বিলুপ্তির পথে। নবীনগর উপজেলায় এক সময় কয়েকশত মৃৎশিল্পী ছিলেন। কালের বিবর্তনে বর্তমানে হাতে গোনা কয়েকজন মৃৎশিল্পী রয়েছেন। মৃৎশিল্পীরা যদি সরকারের নিকট সহযোগিতা চান, তাহলে তাদের সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। কয়েক বছর আগে নবীনগর উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে ও স্থানীয় এনজিও হোপ এর সহযোগিতায় অত্র এলাকার ঐতিহ্যবাহী মুৎশিল্প টিকিয়ে রাখার জন্য স্থানীয় কারিগরদেরকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। যদিও এর প্রতিফলন খুব একটা চোখে পড়েনি। ভবিষ্যতে যদি সরকারী ভাবে তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ করানো যায় তাহলে হয়তো এ শিল্প টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।


















