জয়পুরহাটে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ‘কিডনি নুরনবী’ হুমকি দিচ্ছে পুলিশকে
- আপডেট সময় : ২০ বার পড়া হয়েছে
জয়পুরহাটে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ‘কিডনি নুরনবী’এবার হুমকি দিচ্ছে পুলিশকে। জেলার কালাই উপজেলায় কিডনি পাচার চক্রের মূল হোতা ও উদয়পুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার নুরনবী সরকার ওরফে ‘কিডনি নুরনবী’। হত্যাচেষ্টা, মানবপাচার এবং অস্ত্রসহ একাধিক গুরুতর মামলার এই আসামি এখন খোদ পুলিশ কর্মকর্তাদেরও হুমকি এবং ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি ঋণের টাকা পরিশোধের প্রলোভন দেখিয়ে রাসেদ মিয়া নামে এক যুবকের কিডনি কেটে নেওয়ার অভিযোগে নুরনবীসহ চারজনের বিরুদ্ধে জয়পুরহাট আমলি আদালত-৫-এ মামলা হয়। তবে মামলার তিন দিন পার হতে না হতেই বাদীর ওপর চড়াও হন নুরনবী। লাগাতার প্রাণনাশের হুমকি ও চাপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত মামলাটি তুলে নিতে বাধ্য হনভুক্তভোগী যুবক।
সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার পাশাপাশি নুরনবী এখন বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর। বিভিন্ন তদবির ও অনৈতিক সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে কালাই থানার একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার সাথে তিনি চরম অশোভন আচরণ করেছেন। এমনকি কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের ‘ফ্যাসিস্ট অফিসার’ বলে হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় কালাই থানায় তার বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়রি (জিডি) মূলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত এক যুগে আওয়ামী-লীগের ছত্রছায়ায় থেকে কিডনি বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন নুরনবী। ৫ আগস্টের পর ভোল পাল্টে তিনি বিএনপিতে মিশে যাওয়ার চেষ্টা চালান। সম্প্রতি তাকে কালাই উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটিতে সদস্য পদ দেওয়া হলে স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নুরনবীর নৌকার মিছিলের ছবি ভাইরাল হলে তোপের মুখে সেই কমিটি বাতিল করে জয়পুরহাট জেলা কৃষক দল।
এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য নুরনবী সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রাসেদ মিয়ার দায়ের করা কিডনি মামলাটি আদালতের মাধ্যমে সমাধান হয়েছে। আর আগের মামলাগুলো বিচারাধীন রয়েছে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, ক্ষমতার অপব্যবহারকারী এই ‘কিডনি নুরনবী’কে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক।
উদয়পুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আলীম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নুরনবী কোনোভাবেই বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত নন, বরং তিনি একজন সুযোগ সন্ধানী অপরাধী।
এ বিষয়ে বাদীর আইনজীবী নাফিউৎ জামান তালুকদার ডলার বলেন, আপসনামার মাধ্যমে বাদী রাসেদ মিয়া আদালতের মামলা প্রত্যাহার করেন।
এবিষয়ে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, পুলিশ কর্মকর্তাদের হুমকি ও অপদস্থ করার অভিযোগে জিডি করা হয়েছে এবং তা আদালতে পাঠানো হয়েছে। কিডনি মামলার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাম না বলার শর্তে কালাই উপজেরার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার সচেতন ব্যক্তিরা বলেন,নুরনবী একজন তালিকাভুক্ত অপরাধী,আইন তার বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা,দেশে এতো বড় পরিবর্তনের পরেও এই এক অপরাধী লেবাছ পাল্টিয়ে আবার দাপিয়ে বেড়াচ্ছে কিভাবে ? তবে কি দেশ আগের মতই চলছে? আমরা এর সমাধান চাই বলেও জানান তারা।


















