সীমান্তে আইইডি-মাইন ও দাহ্য রাসায়নিক উদ্ধার
- আপডেট সময় : ২৬ বার পড়া হয়েছে
নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে পৃথক অভিযানে অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন ও আইইডি সদৃশ বস্তু, ক্ষতিকারক দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ এবং অবৈধভাবে মজুদকৃত অক্টেন ও সার জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) ও কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) এসব অভিযান পরিচালনা করে।
বিজিবি জানায়, ৯ এপ্রিল দুপুর আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের টারগুপাড়া বিওপির একটি টহলদল সীমান্ত সড়ক সংলগ্ন ছায়াপাড়া এলাকায় (সীমান্ত পিলার ৫৩ ও ৫৪-এর মধ্যবর্তী) বিশেষ অভিযান চালায়। এ সময় ৪–৫ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে চ্যালেঞ্জ করলে তারা কয়েকটি ব্যাগ ফেলে পাহাড়ি জঙ্গলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৫টি অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন, ৫টি সম্ভাব্য ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি), একটি মেটাল ডিটেক্টর, একটি সোলার প্যানেল, শুকনা খাদ্যসামগ্রী, মোবাইল ফোন, পাওয়ার ব্যাংক ও সিভিল পোশাক উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত সম্ভাব্য মাইন ও আইইডিগুলো বালুর বস্তা দিয়ে সুরক্ষিত করে লাল পতাকা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং জননিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকায় সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এ ঘটনায় নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে এবং সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল টিম মোতায়েনের জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হয়েছে।
একই দিন দুপুরে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) এর বাইশফাঁড়ী বিওপির টহলদল সীমান্ত পিলার ৩৭/২-এস সংলগ্ন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আমবাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ৩ কেজি দাহ্য পাউডার, ৩ কেজি মেপোক্স (মিথাইল ইথাইল কিটোন পারক্সাইড), ৩ রোল নাইলন কাপড় এবং ৩ লিটার দাহ্য রাসায়নিক তরল আটক করে। উদ্ধারকৃত পদার্থসমূহ পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম বিভাগীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানোর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এর ধারাবাহিকতায় ১১ এপ্রিল ভোররাত ১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের বিশেষ টহলদল দায়িত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সোনাইছড়ি এলাকা থেকে অবৈধভাবে মজুদকৃত ৩৯৫ লিটার অক্টেন জব্দ করে। একই সময়ে টাইম বাজার এলাকা থেকে ২০ বস্তা ইউরিয়া সার ও ৪ বস্তা টিএসপি সার জব্দ করা হয়। এসব জ্বালানি তেল ও সার চোরাচালানের উদ্দেশ্যে মজুদ করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ ফয়জুল কবির জানান, বিজিবি মহাপরিচালকের নির্দেশনায় সীমান্ত এলাকায় অবৈধ জ্বালানি তেল মজুদ, পাচার ও সকল প্রকার চোরাচালান প্রতিরোধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।












